বহু দেশে দেখিয়াছি বহু নদ-দলে,
কিন্তু এ স্নেহের তৃষ্ণা মিটে কার জলে?
দুগ্ধ- স্রোতোরূপী তুমি জন্মভূমি-স্তনে।
আর কি হে হবে দেখা?- যত দিন যাবে,
'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় মাছরাঙার দৃষ্টি স্থির।
"আমার শরীরে লেগে আছে এই স্নিগ্ধ মাটির সুবাস”-পঙ্ক্তিটিতে কবি গ্রামবাংলার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার কথা বলেছেন।'
'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবি জন্মভূমির সঙ্গে তাঁর নিজের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে মানুষের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের দিকটি তুলে ধরেছেন। এতে গ্রামীণ জনপদের সঙ্গে নিবিড় বাঁধনে বাঁধা মানুষের জীবনাচরণ ফুটে উঠেছে। গ্রামের মাঠ-ঘাট-পথ-প্রান্তের মতো খেতের সরু পথ, তার পাশে ধানের সমারোহ, একটু দূরে বিশাল নদীর কিনার কবির অস্থিমজ্জায় গ্রথিত হয়ে আছে। তাঁর কাছে দেশ মানে তাকে আপন সত্তায় অনুভব করা। আলোচ্য চরণটিতে এই বিশেষ বক্তব্যই প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকের স্মৃতিকাতরতার আবরণে ফুটে ওঠা সংশয়বোধ 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার সঙ্গে অমিল সৃষ্টি করেছে।
'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার কবি জন্মভূমির সঙ্গে নিজ সত্তার গভীর সম্পৃক্ততার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। কবি যেমন ওই আসমান, জমিনের ফুল, বাঁশবাগান, জোনাকি ও পাখিদের চেনেন, তেমনি তারাও কবিকে চেনে। আর এটাই হচ্ছে তাঁর অস্তিত্ব।
উদ্দীপকের কবিও স্বদেশের প্রেমে কাতর। বহু দেশের বহু নদ-নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কবির তৃষ্ণা নিবারণ করতে পারেনি। কবির মনে সন্দেহ জাগে আর কি তিনি এ নদের দেখা পাবেন? অন্যদিকে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার কবি জন্মভূমিকে আপন সত্তায় ধারণ করেছেন। কবি যেমন তাঁর শরীরে স্নিগ্ধ মাটির ঘ্রাণ পান, তেমনি এ দেশের মাটিতেও কবির শরীরের ঘ্রাণ লেগে রয়েছে। তাই কবি স্বদেশের প্রকৃতিকে আলাদা করে দেখেন না। এই অনুভূতির দিকটির সঙ্গেই উদ্দীপকের অনুভবের বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।
উদ্দীপকের স্মৃতিকাতরতার আবরণে প্রকাশিত দেশপ্রেম 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার জনপদের সঙ্গে গভীর সম্পৃক্ততায় প্রকাশিত দেশপ্রেমে পার্থক্য থাকায় "উদ্দীপকের কবির চেতনার সাথে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার কবির চেতনার প্রকাশগত ভাব ভিন্ন।" মন্তব্যটি যৌক্তিক।
'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার কবি জন্মভূমির নানা প্রাকৃতিক অনুষঙ্গের সঙ্গে তাঁর সত্তার সম্পর্ক চিহ্নিত করেছেন। শুধু প্রাকৃতিক অনুষঙ্গ নয়, এই জনপদের মানুষের সঙ্গেও কবির সত্তার সম্পর্ক।
উদ্দীপকের কবি 'একটি নদকে অনুষঙ্গ করে হৃদয়ের কাতরতা প্রকাশ করেছেন। কবি বহু দেশে বহু নদ-নদী দেখলেও কোনোটিই কবিকে স্বদেশের এই নদের মতো তৃপ্ত করতে পারেনি। অন্যদিকে আলোচ্য কবিতায় কবি জন্মভূমির প্রাকৃতিক ও মানবীয় জগতের সঙ্গে তাঁর অস্তিত্বের নিবিড় সম্পর্কের দিকটি প্রকাশ করেছেন। তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন জমিলার মা ও কদম আলীর মতো ছিন্নমূল মানুষের সঙ্গে তিনি ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে আবদ্ধ।
উদ্দীপকের কবি জন্মভূমির প্রতি হৃদয়ের কাতরতা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে আলোচ্য কবিতার কবি জন্মভূমির প্রকৃতি ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক দেখিয়েছেন। কবি যেমন আসমানের তারা, জমিনের ফুল, জোনাকি, পাখি ও মানুষদের চেনেন তেমনি তারাও কবিকে চেনেন। আর এটাই তার অস্তিত্ব, কারণ জন্মভূমির সঙ্গে তিনি গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাই উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, আলোচ্য মন্তব্যটি যথার্থ।
