জর্জের জন্ম ইউরোপের দেশ স্পেনে। ১৯৮৫ সালে মাদকাসক্তদের নিরাময়ের ব্যাপারে কাজ করার জন্য তিনি বাংলাদেশে আসেন। বাংলাদেশের সবুজ প্রকৃতি ও মানুষের অন্তরঙ্গ ব্যবহার তাঁকে মুগ্ধ করে। তাই তিনি এই দেশেই স্থায়ী বসতি গড়েছেন। বাংলাদেশের সাথে তাঁর প্রাণ বাঁধা পড়েছে গভীরভাবে। এ দেশের সাথে যেন তাঁর চিরকালের পরিচয়।
'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় জ্যোৎস্নার চাদরে ঢাকা নিশিন্দার ছায়া।
কবি স্বদেশ প্রকৃতির সান্নিধ্যে বেড়ে উঠেছেন বলে ক্লান্ত বিকেলের পাখিরা কবিকে চেনে।
বাংলার চির সবুজ-শ্যামল গ্রামীণ প্রকৃতির মাঝে কবি বেড়ে উঠেছেন। প্রকৃতির মাঝে থেকে তিনি প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছেন। প্রকৃতির প্রতিটি উপাদান একে অন্যের সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাই কবি যেমন মেঘ ক্লান্ত বিকেলের পাখিদের চেনেন, তেমনই পাখিরাও কবিকে চেনে। চেনা পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়ায় কবিকে ক্লান্ত বিকেলের পাখিরা চেনে।
অন্য দেশে অবস্থান করার দিক থেকে উদ্দীপকের জর্জের সাথে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার কবির অবস্থানের অমিল তৈরি করেছে।
'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার কবি জন্মভূমির সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তিনি এই জনপদে বেড়ে ওঠা পল্লিমায়ের চিরচেনা সন্তান। তাই তিনি যেমন প্রকৃতির সবকিছুকে চেনেন, তেমনই তারাও তাঁকে চেনে।
উদ্দীপকের জর্জের জন্ম ইউরোপের দেশ স্পেনে। মাদকাসক্ত নিরাময়ের মহৎ কাজের সূত্র ধরে তিনি বাংলাদেশে আসেন। বাংলাদেশের রূপবৈচিত্র্য তাকে গভীরভাবে আকৃষ্ট করায় তিনি এ দেশেই স্থায়ীভাবে বসবাস করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। অন্যদিকে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার কবি জন্মসূত্রে বাংলাদেশের বাসিন্দা। এ দিক থেকে উদ্দীপকের জর্জের সাথে কবির অমিল দৃশ্যমান।
বাংলাদেশের পল্লিপ্রকৃতির সাথে গভীর সম্পৃক্ততা কবি ও জর্জের ভাবনাকে ঐক্যবদ্ধ করায় “উক্ত পার্থক্য থাকলেও বাংলাদেশের প্রতি জর্জ ও কবির অনুভূতি একই” মন্তব্যটি যথার্থ।
'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার কবির জন্ম প্রকৃতির আদরের দুলালী রূপবৈচিত্র্যের পুণ্যভূমি বাংলাদেশে। প্রকৃতির সান্নিধ্যে বেড়ে ওঠায় প্রকৃতির প্রতিটি উপাদান তাঁর অস্তিত্বের সঙ্গে নিবিড়ভাবে মিশে আছে।
উদ্দীপকের জর্জ জন্মসূত্রে স্পেনীয় হলেও বাংলাদেশের প্রকৃতি তাকে বুকে টেনে নিয়েছে। এখানেই তিনি বেঁচে থাকার অবলম্বন খুঁজে পেয়েছেন। এ দেশে তার প্রাণ গভীরভাবে বাঁধা পড়েছে যেন এ দেশের সাথে তাঁর চিরকালের পরিচয়।
'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবি জন্মভূমির সঙ্গে হৃদ্যতার বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। তিনি যেমন আসমানের তারা, জমিনের ফুল, জোনাকি, পুকুর, মাছরাঙাকে চেনেন, তেমনই সেগুলোও তাঁকে চেনে। তিনি অনুভব করেন এ দেশের মাটির গন্ধ লেগে আছে তাঁর শরীরে। উদ্দীপকের জর্জ বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ না করেও এ দেশের প্রকৃতির সাথে কবির মতোই গভীরভাবে সম্পৃক্ত হয়েছেন। তাই বলা যায় যে, আলোচ্য মন্তব্যটি যথার্থ।
