“গুরু গুরু ডাকে মেঘ ঘনঘটা চারিদিকে আজ টুপটাপ বৃষ্টি ঝরে অঝোর ধারায় নিজেকে হারিয়ে খুঁজি কিছু নাহি পাই খুলেছি হৃদয় বাতায়ন ফেলে সব কাজ।”
রুক্ষ মাঠ বর্ষণের সুর শোনে।
'বৃষ্টি' কবিতায় আকাশকে 'বিদগ্ধ আকাশ' বলা হয়েছে। কারণ গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে আকাশকে কবির মনে হয় বিশেষভাবে দগ্ধ হয়েছে।
গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে মাঠ-ঘাট-প্রান্তর শুকিয়ে যায়। মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায়। মনে হয় যেন রোদে আকাশটা ঝলসে গেছে। দূরে তাকালে মনে হয় আকাশটা সূর্যের তীব্র আলো ও তাপে আগুন ধরে গেছে। 'বিদগ্ধ আকাশ' বলতে কবি রৌদ্রতাপে বিশেষভাবে দগ্ধ এ আকাশকে নির্দেশ করেছেন। মূলত গ্রীষ্মের সূর্য তীব্র তাপের প্রচণ্ডতা বোঝাতেই 'বৃষ্টি' কবিতায় আকাশকে 'বিদগ্ধ আকাশ' বলা হয়েছে।
উদ্দীপকে 'বৃষ্টি' কবিতায় বর্ণিত বৃষ্টির 'সঙ্গে ব্যক্তিজীবনের সম্পৃক্ততার দিকটি ফুটে উঠেছে।
'বৃষ্টি' কবিতায় কবি দেখিয়েছেন- বৃষ্টি কেবল প্রাকৃতিক ঘটনা বা পালাবদলের নিয়ামক নয়, এর সঙ্গে ব্যক্তিজীবনেরও সম্পৃক্ততা রয়েছে। বৃষ্টি কখনো বিষণ্ণ করে মন, একাকী জীবনে বাড়ায় বিরহ।
উদ্দীপকের কবিতাংশেও কবি টানা বৃষ্টিতে রসসিক্ত হয়ে উঠেছেন। বৃষ্টির অঝোর ধারায় আনমনা হয়ে নিজেকে খুঁজেছেন, সব কাজ ফেলে হৃদয়ের বাতায়ন খুলে স্মৃতির সাগরে ডুব দিয়েছেন। 'বৃষ্টি' কবিতাতেও কবি বৃষ্টির দিনে সংবেদনশীল মানুষের রসসিক্ত হয়ে ওঠার প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন। এ সময় মানুষ অতীতের সুখ-দুঃখের স্মৃতির আলপনা আঁকে মনে। এ দিক থেকে উদ্দীপকের সাথে 'বৃষ্টি' কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে 'বৃষ্টি' কবিতায় বর্ণিত প্রকৃতির পালাবদলের দিকটি না থাকায় উদ্দীপকটি 'বৃষ্টি' কবিতার আংশিক প্রতিফলন মাত্র-মন্তব্যটি যথার্থ।
'বৃষ্টি' কবিতায় কবি প্রকৃতির বহুপ্রতীক্ষিত বৃষ্টির আগমনে পালাবদলের দিকটি নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে রুক্ষ প্রকৃতির বুকে বৃষ্টি প্রাণের সঞ্চার ঘটায়। এটি কখনো মানবমনেও প্রভাব ফেলে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি বৃষ্টির দিনে রসসিক্ত হয়ে ওঠার দিকটি প্রকাশ করেছেন। অঝোর বৃষ্টির দিনে সব কাজ ফেলে কবি হৃদয়ের জানালা খুলে ডুব দিয়েছেন পুরোনো স্মৃতির সাগরে। 'বৃষ্টি' কবিতায়ও কবি বৃষ্টির আগমনে মানুষের মনোজাগতিক পরিবর্তনে দেখিয়েছেন। বৃষ্টি মানুষকে নিয়ে যায় পুরানো দিনের সুখ-দুঃখের স্মৃতির মেলায়।
উদ্দীপকে 'বৃষ্টি' কবিতার রসসিক্ত হয়ে ওঠার দিকটি প্রকাশ পেলেও এ কবিতার মূলভাব আরও বিস্তৃত। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে বৃষ্টি খুবই প্রতীক্ষিত একটি অনুষঙ্গ। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে মাঠ-ঘাট ফেটে যখন চৌচির, মানবজীবন গরমে অতিষ্ঠ, তখন বৃষ্টির আগমন হয়। বৃষ্টির আগমনে প্রকৃতি প্রাণে ফিরে পায়, গাছে গাছে শিহরন জাগে। 'বৃষ্টি' কবিতার এ দিকগুলো উদ্দীপকে অনুপস্থিত থাকায় আলোচ্য মন্তব্যটি যথার্থ।
