আজি ঝরঝর মুখর বাদর দিনে
জানিনে, জানিনে
কিছুতে কেন যে মন লাগে না।
পুবের হাওয়ায় বৃষ্টি এলো।
বৃষ্টি প্রকৃতিকে স্নিগ্ধ করে নতুন রূপ দেয় বলে বৃষ্টিকে 'বহু প্রতীক্ষিত' বলা হয়েছে।
প্রকৃতি যখন রুক্ষ আকার ধারণ করে, চারদিক শুধু খাঁ খাঁ করে, ঠিক তখন সবাই বৃষ্টির প্রত্যাশা করে। কারণ বৃষ্টি প্রকৃতির সব গ্লানি ধুয়ে মুছে দেয়। প্রকৃতিকে অপরূপ শোভাময় করে তোলে। রোদে পুড়ে যাওয়া ধানখেত, রুক্ষ আকাশ বৃষ্টির প্রত্যাশা করে। আর মানুষের মনেও প্রকৃতির রুক্ষতার প্রভাব পড়ে। তাই মানুষের মনের রুক্ষতা দূর করতেও বৃষ্টির অপেক্ষা করে সবাই। প্রকৃতির বৈচিত্র্য আনতে এবং নতুন রূপে প্রকৃতিকে সাজিয়ে শোভামণ্ডিত করতে বৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই। মানুষের মন এবং প্রকৃতির বিষণ্ণতা দূর করার জন্য বৃষ্টির আগমন আবশ্যক। তাই বৃষ্টিকে 'বহু প্রতীক্ষিত' বলা হয়েছে।
উদ্দীপকের কবিতাংশটি 'বৃষ্টি' কবিতার বৃষ্টির সাথে ব্যক্তিজীবনের সম্পৃক্ততার দিকটি মনে করিয়ে দেয়।
'বৃষ্টি' কবিতায় কবি ফররুখ আহমদ রুক্ষ প্রকৃতিতে বহু প্রতীক্ষিত বৃষ্টির আগমনের চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। তিনি দেখিয়েছেন বৃষ্টি কেবল প্রাকৃতিক পালাবদলেরই নিয়ামক নয়, এর সঙ্গে ব্যক্তিজীবনও সম্পৃক্ত।
উদ্দীপকে বৃষ্টির দিনে প্রাকৃতিক পালাবদলের সাথে মানব মনোজগতের বিরহ বেদনার দিকটিও প্রকাশ পেয়েছে। বাদলের ঝরঝর ধারা মনে কেমন অনুভূতির দ্যোতনা সৃষ্টি করেছে কবিহৃদয়ে তা তিনি জানেন না। এই অনুভূতি অনির্বচনীয়। 'বৃষ্টি' কবিতায়ও কবি বৃষ্টির সাথে মানবমনের সম্পৃক্ততার দিকটি উল্লেখ করেছেন। এ সময় রসসিক্ত হয়ে ওঠে সংবেদনশীল মানুষের হৃদয়। 'বৃষ্টি' কবিতার এ দিকই উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে।
বৃষ্টির দিনে রুক্ষ প্রকৃতির প্রাণস্পন্দন ফিরে আসার দিকটি উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রকাশিত না হওয়ায় "বর্ষণমুখর দিনের যে চিত্র 'বৃষ্টি' কবিতায় প্রকাশিত হয়েছে তার সম্পূর্ণটা উদ্দীপকের কবিতাংশে নেই” মন্তব্যটি যথার্থ।
'বৃষ্টি' কবিতায় কৃষিপ্রধান বাংলায় বহু প্রতীক্ষিত বৃষ্টির আগমনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। গ্রীষ্মের তাপপ্রবাহে রুক্ষ প্রকৃতিতে বর্ষা প্রাণস্পন্দন নিয়ে আসে। বৃষ্টিতে সংবেদনশীল মানুষও রসসিক্ত হয়ে ওঠে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে বৃষ্টির দিনে মানব হৃদয়ের বাঁক বিবর্তন দেখানো হয়েছে। বৃষ্টি কেবল প্রকৃতিরই পট পরিবর্তন সূচিত করে না, মানুষকেও স্মৃতিকাতরও করে তোলে। আর এই অনুভূতি অনির্বচনীয়। বিষয়টি 'বৃষ্টি' কবিতার একটি বিশেষ দিককে ধারণ করেছে।
'বৃষ্টি' কবিতার মানব হৃদয়ের পট পরিবর্তনের দিকটি উদ্দীপকে কবিতাংশে স্পষ্ট হয়েছে। তবে এটিই এ কবিতার একমাত্র দিক নয়। এ কবিতায় কবি প্রাকৃতিক পালাবদলের বিষয়টিকে স্পষ্ট করেছেন। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে রুগ্ম বৃদ্ধ ভিখারির রগ ওঠা হাতের মতো রুক্ষ মাঠ, রৌদ্র-দগ্ধ হয় ধানখেত। বর্ষার বারিধারা রুক্ষ প্রকৃতিকে প্রাণ ফিরিয়ে দেয়, মাঠে ফোটে নানা জাতের ফুল, শুকনো নদীতে বয়ে চলে প্রাণের বন্যা, পলিমাটিতে উর্বর হয় ফসলের খেত। 'বৃষ্টি' কবিতার প্রাকৃতিক এই পট পরিবর্তন উদ্দীপকের কবিতাংশে অনুপস্থিত। তাই উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
