A. Nayan
A. Nayan
22 Jun 2026 (3 months ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘প্রচণ্ড দাবদাহে যখন…’ রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ ২০২৬ – বৃষ্টি, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)


Listen to this article
🏢 প্রতিষ্ঠান: রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ📅 সাল: ২০২৬⭐ গুরুত্ব: ★★★★★

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

প্রচণ্ড দাবদাহে যখন সূর্যের তাপে মাটি ফেটে যায়, গাছপালা মরে যেতে বসে, আর মানুষ হাঁপিয়ে ওঠে, তখন জীবন যেন এক অচল সময়ে আটকে যায়। চারদিকের ক্লান্তি, বিরক্তি আর অসহায়তায় কেউ যেন স্বস্তির নিশ্বাস নিতে পারে না। কিন্তু হঠাৎ আকাশে জমে ওঠা কালো মেঘ, তার পরেই ঝুম বৃষ্টি নামলে কী এক অসীম প্রশান্তি নেমে আসে চারদিকে। শুকনো মাটিতে ধুলো মিশে গন্ধ ছড়ায়, বাতাস হয়ে ওঠে শীতল, আর মানুষের মুখে ফুটে ওঠে তৃপ্তির হাসি। দাবদাহের সেই অসহনীয় কষ্ট মুহূর্তেই ভুলে গিয়ে সবাই বৃষ্টিকে আশীর্বাদ মনে করে। ঠিক এভাবেই জীবনে যতই কষ্ট আর দুঃখ আসুক, একটুখানি স্বস্তির ছোঁয়া আমাদের আবার নতুন করে বাঁচতে শেখায়। 

উত্তর:

'বৃষ্টি' কবিতায় বৃষ্টির দিনে অরণ্যের কেয়া শিহরায়।  

উত্তর:

'বৃষ্টি' কবিতায় আকাশকে 'বিদগ্ধ আকাশ' বলা হয়েছে। কারণ গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে আকাশকে কবির মনে হয় বিশেষভাবে দগ্ধ হয়েছে।

গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে মাঠ-ঘাট-প্রান্তর শুকিয়ে যায়। মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায়। মনে হয় যেন রোদে আকাশটা ঝলসে গেছে। দূরে তাকালে মনে হয় আকাশটা সূর্যের তীব্র আলো ও তাপে আগুন ধরে গেছে। 'বিদগ্ধ আকাশ' বলতে কবি রৌদ্রতাপে বিশেষভাবে দগ্ধ এ আকাশকে নির্দেশ করেছেন। মূলত গ্রীষ্মের সূর্য তীব্র তাপের প্রচণ্ডতা বোঝাতেই 'বৃষ্টি' কবিতায় আকাশকে 'বিদগ্ধ আকাশ' বলা হয়েছে। 

উত্তর:

উদ্দীপকে 'বৃষ্টি' কবিতার যে দিকটি ফুটে উঠেছে তা হচ্ছে-বৃষ্টির জীবনদায়ী, তৃষ্ণানিবারণকারী ও প্রশান্তিময় আগমন, যা ক্লান্ত পৃথিবীকে স্বস্তি ও পুনর্জীবন দান করে।

'বৃষ্টি' কবিতায় দেখা যায় দীর্ঘ তাপপ্রবাহের পর প্রকৃতি বৃষ্টিকে স্বস্তি, শান্তি ও পুনর্জাগরণের বার্তা হিসেবে গ্রহণ করে। রুক্ষ খেত, অরণ্য, নদীর ফাটল, তৃষিত বন সবই বৃষ্টির ছোঁয়ায় জেগে ওঠে। বিদ্যুৎ-জ্যোতির্ময় আকাশ ও মেঘমালার নাচন যেন ক্লান্ত পৃথিবীর জন্য নতুন আশার সুর বয়ে আনে।

উদ্দীপকে দগ্ধ পৃথিবীর ক্লান্তি, মানুষের অসহায়তা এবং বৃষ্টির পরম স্বস্তি তুলে ধরা হয়েছে। 'বৃষ্টি' কবিতায়ও একই চিত্র দেখা যায়, যেখানে রৌদ্রদগ্ধ ধানখেত, রুক্ষ মাঠ, তৃষিত বন বৃষ্টির স্পর্শে নবজীবন পায়। তবে 'বৃষ্টি' কবিতা প্রকৃতিকে বেশি গভীর ও কাব্যময়ভাবে জীবন্ত করে তুলেছে, আর উদ্দীপকটি দৈনন্দিন জীবনের অনুভূতিকে সরল ভাষায় প্রকাশ করেছে। তা সত্ত্বেও উভয় ক্ষেত্রেই বৃষ্টিকে পুনরুজ্জীবনের শক্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা তাদের ভাবগত মিলকে স্পষ্ট করে। এভাবে 'বৃষ্টি' কবিতায় বৃষ্টির আগমনে প্রকৃতির প্রাণ ফিরে পাওয়ার দিকটি উদ্দীপকের মধ্যে উঠে এসেছে। 

উত্তর:

'বৃষ্টি' কবিতায় প্রকৃতির রূপান্তর, আবেগঘন পরিবেশ এবং প্রতীকী গভীরতার দিক থেকে বলা যায়, "উদ্দীপকটি 'বৃষ্টি' কবিতার আংশিক ভাবকে ধারণ করেছে মাত্র"- বক্তব্যটি যথার্থ।

'বৃষ্টি' কবিতায় প্রকৃতি দীর্ঘ তাপপ্রবাহের পর বৃষ্টিকে আশীর্বাদরূপে গ্রহণ করে। বৃষ্টি মাঠ, অরণ্য, নদী, তৃষিত বনকে নতুন প্রাণ দেয়। রুক্ষ মাটি বৃষ্টির সুরে জেগে ওঠে, আর আকাশ-বাতাসে তৈরি হয় বিষণ্ণ অথচ সজীব এক নবজাগরণের আবহ।

উদ্দীপকে বৃষ্টিকে কেবল মানবজীবনের স্বস্তি, প্রশান্তি ও কষ্ট দূর করার প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে। অপরদিকে 'বৃষ্টি' কবিতায় বৃষ্টি শুধু স্বস্তির নয়- প্রকৃতি, নদী, বন, মেঘ, বিদ্যুৎ এদের প্রাণ ফিরে পাওয়ার শক্তি। কবিতায় বৃষ্টি বিশ্ববিধৌত নতুন প্রাণের সঞ্চারক, যেখানে উদ্দীপকটি সীমাবদ্ধ মানুষের অভিজ্ঞতায় সীমাবদ্ধ। তাই উদ্দীপকটি কেবল বাইরের অংশটুকু ধারণ করেছে মাত্র।

উদ্দীপকটি বৃষ্টির স্বস্তি ও তৃষ্ণা দূর করার অনুভূতি প্রকাশ করলেও 'বৃষ্টি' কবিতার প্রকৃতির রূপান্তর, আবেগ ও প্রতীকী গভীরতা তুলে ধরতে পারে না। এ কবিতায় বৃষ্টিকে দেখানো হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত বস্তু হিসেবে। কেননা এই বৃষ্টি প্রকৃতিতে নিয়ে আসে প্রাণস্পন্দন। বৃষ্টির সময় নদ-নদী, খাল-বিল যৌবন ফিরে পায়, মেঘেরা খেলা করে, বর্ষার ফুল চারদিকে মোহিত করে; সেই সাথে রুক্ষ মাটি বৃষ্টিতে প্রাণ জুড়ায়। তাছাড়া বৃষ্টির দিনে সংবেদনশীল মানুষও হয়ে উঠে রসসিক্ত; তার মনে পড়ে সুখময় অতীত ও পুরানো স্মৃতি যা উদ্দীপকে পাওয়া যায় না। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি 'বৃষ্টি' কবিতার ভাবের কেবল আংশিক প্রতিফলনই দেখিয়েছে মাত্র, সম্পূর্ণ নয়। 

8 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘প্রচণ্ড দাবদাহে যখন…’ রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ ২০২৬ – বৃষ্টি, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)”