দাও ফিরে সে অরণ্য, লও এ নগর,/ লও যত লৌহ লোস্ট্র কাষ্ঠ ও প্রস্তর
হে নবসভ্যতা। হে নিষ্ঠুর সর্বগ্রাসী, / দাও সেই তপোবন পুণ্যচ্ছায়ারাশি,
গ্লানিহীন দিনগুলি, সেই সন্ধ্যাস্নান,/ সেই গোচারণ, সেই শান্ত সামগান।
'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় কবি পল্লি-দুলালের দেশে যেতে চান।
'দীঘল বাঁকা পন্থখানি' বলতে কবি পল্লিগ্রামে যাওয়ার যে দীর্ঘ বাঁকা পথ তাকে বুঝিয়েছেন।
'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় কবি আদরের পল্লি-দুলালের দেশে যেতে চেয়েছেন। যে পথে তিনি পল্লিগ্রাম যাবেন কবি নানা উপমায় সেই গ্রামীণ মেঠোপথের বর্ণনা দিয়েছেন। ধান-কাউনের খেতের ভেতর সরু সুতার মতো পথ, গাঁয়ের হাবা মেয়ের এলো সিঁথি যেমন আঁকাবাঁকা তেমনই সেই পথ। পথটি গরুর গায়ের রেখায় ক্ষতের মতো এবড়ো থেবড়ো। মূলত প্রশ্নোক্ত কথাটি দ্বারা কবি গ্রামীণ মেঠোপথকেই বুঝিয়েছেন।
উউদ্দীপকে শহরের যান্ত্রিকতা থেকে মুক্ত প্রকৃতির অনিন্দ্য রূপকে কামনা করা হয়েছে, যার সঙ্গে 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতার যান্ত্রিকতামুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ বর্ণনার দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে।
'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় কবি নগর সভ্যতার যান্ত্রিক জীবন থেকে মুক্তি খুঁজছেন। তিনি প্রকৃতির মুক্ত পরিবেশে গিয়ে শান্তি, ভালোবাসা ও জীবনের আসল অর্থ পেতে ব্যাকুলতা প্রকাশ করেছেন। তাই তিনি গ্রামীণ প্রকৃতিতে ফিরে যেতে চেয়েছেন।
'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় কবি পল্লিগ্রামে যেতে চেয়েছেন, যা শহরের কোলাহল ও কৃত্রিমতা থেকে মুক্ত। কবি পল্লিগ্রাম সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা যার বনের শীর্ষে আকাশ, পায়ের কাছে দিক-হারা মাঠ। গাঁয়ের মেয়ে কদম-কলি ছড়িয়ে যে পথে হেঁটে চলে কবি সেই পথে হাঁটতে চেয়েছেন। কবির ইচ্ছা গ্রামের দুরন্ত ছেলেদের সঙ্গে খেলা করবেন। ধল-দিঘিতে সাঁতার কেটে রক্তকমল তুলে আনবেন। পাখির সঙ্গে ডাকবেন কিংবা অজানা ফুলের রূপ দেখে মুগ্ধ হবেন। তিনি প্রকৃতির রূপের সঙ্গে এককথায় মিশে যেতে চান। উদ্দীপকেও দেখা যায়, কবি নগরের পরিবর্তে অরণ্যকে ফিরে পেতে চান; নিষ্ঠুর সর্বগ্রাসী নবসভ্যতা থেকে মুক্ত হয়ে তপোবনকে ফিরে পেতে চান। শান্ত, কোমল, স্নিগ্ধ পরিবেশ ফিরে পেতে চান। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সঙ্গে কবিতার প্রকৃতিচেতনায় সাদৃশ্য রয়েছে।দ্দীপকে শহরের যান্ত্রিকতা থেকে মুক্ত প্রকৃতির অনিন্দ্য রূপকে কামনা করা হয়েছে, যার সঙ্গে 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতার যান্ত্রিকতামুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ বর্ণনার দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে।
উভয় ক্ষেত্রেই গ্রামীণ প্রকৃতির প্রতি গভীর অনুরাগ ব্যক্ত হওয়ায় উদ্দীপকের কবির আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতার কবির আকাঙ্ক্ষা অনেকাংশেই একীভূত।
'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় কবি গ্রামীণ প্রকৃতির সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করতে চান। তাই তিনি পল্লি-দুলালের সঙ্গে একাত্ম হতে চান, বনের ছায়ায়, দিঘির জলে, গাছের তলায় প্রকৃতির স্পর্শে শান্তি খুঁজে নিতে চান। তাঁর এই যাত্রা কেবল স্থানগত নয়, এটি মনের এক পবিত্র অভিযাত্রা।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কবি নগরের পরিবর্তে অরণ্যকে ফেরত চেয়েছেন। শহরের যান্ত্রিক লোহা, কাঠ, পাথর দ্বারা নির্মিত নব সভ্যতার পরিবর্তে চেয়েছেন ঘন বন। গ্রামীণ শান্ত-স্নিগ্ধ পরিবেশকে কামনা করেছেন যা মনকে করে তোলে স্নিগ্ধ, প্রাণবন্ত। উদ্দীপকের কবির এই আকাঙ্কা যেন 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতার কবির আকাঙ্ক্ষাকে ছুঁয়ে গিয়েছে।
'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় কবি পল্লিগ্রামে যেতে চেয়েছেন। সেই পল্লিগ্রামকে প্রকৃতি ঘিরে রেখেছে। সেই পল্লিপ্রকৃতির সমস্ত অনুষঙ্গের সঙ্গে কবি মিশে গেছেন। গ্রামের মেঠোপথ থেকে শুরু করে গ্রামের আকাশ, গ্রামের দিঘিতে পদ্ম তোলা, কিংবা গ্রামের : ছেলেদের সঙ্গে খেলা করা এ সমস্ত কিছুই শহুরে কৃত্রিমতা থেকে অনেক দূরে; তাই কবি মিশে যেতে চেয়েছেন এদের সঙ্গে। কবি গ্রামের মাটিতে পা ফেলে হাঁটবেন। পাখির সঙ্গে ডাকবেন। গাছের শাখা দুলিয়ে হাজার রঙের ফুল তুলবেন। নিরালা নিঝুম অন্ধকারে পল্লিগ্রামের অপরূপ সৌন্দর্য অন্বেষণ করবেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের কবির আকাঙ্ক্ষা অর্থাৎ প্রকৃতিকে কাছে পাওয়ার ইচ্ছা বা ফিরে পাওয়ার আকুতি 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতার কবির সঙ্গে একীভূত।
