রাখাল ছেলে চরায় ধেনু বাজায় বেণু অশথ-মূলে/ সেই গানেরই পুলক লেগে ধানের খেত ওই উঠল দুলে;
সেই গানেরই পুলক লেগে বিলের জলের বাঁধন টুটে/ মায়ের মুখের হাসির মতো কমল-কলি উঠল ফুটে!
দুপুরবেলায় ক্লান্ত হয়ে রৌদ্র-তাপে কৃষক ভায়া/ বসল এসে গাছের ছায়ায় কুঞ্জিতে তার স্নিগ্ধ-ছায়া
মাথার উপর ঘন-নিবিড় কচি কচি ওই যে পাতা,/ ও যেন মার আপন হাতে তৈরি করা মাঠের ছাতা!
জসীমউদ্দীন ১৯৭৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
"দূর দেশীয় মেঘ-কনে" বলতে কবি পল্লিগ্রামের আকাশে ভেসে থাকা মেঘকে বুঝিয়েছেন, যাকে তিনি নারী মূর্তিরূপে কল্পনা করেছেন।
'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় পল্লিগ্রামের অপূর্ব সৌন্দর্যকে নানা উপমায় বর্ণনা করেছেন কবি। পল্লিগ্রাম, প্রকৃতি যেন তাকে ঘিরে রেখেছে। তার বনের শীর্ষে আকাশ, পায়ের কাছে দিক-হারা মাঠ। গ্রামের আকাশের মেঘকে কবি কন্যারূপে কল্পনা করেছেন। তাই কবি প্রশ্নোক্ত চরণে দূর আকাশের মেঘকে মেঘ-কনে হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
প্রকৃতির সৌন্দর্যচেতনা ও প্রকৃতির অকৃত্রিম পরিবেশ চিত্রণের দিক থেকে উদ্দীপকের সঙ্গে 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে।
'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় কবি বর্ণনা করেছেন বাংলাদেশের পল্লি প্রকৃতির অনুপম সৌন্দর্য। ধানখেত, গাজনতলির মাঠ, কদম-কলি, দীঘির ঢেউ- সব মিলিয়ে এক মনোহর পল্লিচিত্র গড়ে ওঠে। গ্রামীণ প্রকৃতির অকৃত্রিম সৌন্দর্য এ কবিতায় হয়ে উঠেছে জীবন্ত
'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় পল্লি-দুলালের পল্লিগ্রামে কবি যেতে চেয়েছেন। সেই গ্রামকে ঘিরে রেখেছে প্রকৃতির অনিন্দ্য রূপ। কবি নানা উপমার সাহায্যে এই রূপ বর্ণনা করেছেন। কবির এই পল্লিগ্রাম বর্ণনায় কবিতায় প্রথমেই কবি বলেন, এর বনের শীর্ষে আকাশ, পায়ের কাছে দিক-হারা মাঠ। সেখানে বেত-কেয়ার বনে ডাহুক ডাকে। এখানে ধান-কাউনের খেতের ভেতর দিয়ে যাওয়া। আঁকাবাঁকা মেঠোপথে তিনি হাঁটতে চান। তিনি কল্পনা করেন, পাখির সঙ্গে ডাকবেন, অজানা ফুলের রূপ দেখে মুগ্ধ হবেন। উদ্দীপকেও দেখা যায়, রাখাল ছেলে গ্রামীণ পরিবেশে গরু চরায়, অশথ গাছের মূলে বসে বাঁশি বাজায়। এখানে বিলের জলে পদ্মকলি ফোটে, দুপুরের রৌদ্রে গাছের স্নিগ্ধ ছায়ায় কৃষক বিশ্রাম করে। উদ্দীপকে গাছের কচি পাতাকে ছাতা হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে। প্রকৃতির এই রূপ বর্ণনায় উদ্দীপক ও কবিতায় সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতার বিষয় অবলম্বনে বলা যায়, "উদ্দীপকটি 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতার একটি দিক প্রকাশ করেছে মাত্র" মন্তব্যটি যথার্থ।
'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় কবি প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনার পাশাপাশি আত্মিক মুক্তির আকাঙ্ক্ষাও প্রকাশ করেছেন। তাঁর মনে হয় পল্লির প্রকৃতিতে গিয়ে তবেই তিনি জীবনের প্রকৃত অর্থ খুঁজে পাবেন। প্রকৃতিই তাঁর কাছে আশ্রয় ও মুক্তির প্রতীক।
'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় কবি পল্লিগ্রামে যেতে চেয়েছেন। কবিতার পুরো অংশজুড়ে কবি তার অনিন্দ্য অপরূপ' ছবি এঁকেছেন। কবির বর্ণনার সেই পল্লিগ্রাম অকৃত্রিম প্রাকৃতিক পরিবেশের এক চমৎকার বর্ণনা। কবি গ্রামীণ অনুষঙ্গগুলোকে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। গ্রামের মেঠোপথ, দুরন্ত জীবন সমস্ত কিছুর সঙ্গে মিশে গেছেন কবি নিজেও। কবিতায় দেখা যায়, কবি পল্লিগ্রামের বর্ণনা দিচ্ছেন যেখানে বনের শীর্ষে আকাশ, পায়ের কাছে দিকহারা মাঠ। সেখানে বেত-কেয়ার বনে ডাহুক ডাকে। কবি এই গ্রামের মেঠোপথে হাঁটতে চেয়েছেন, দস্যি ছেলেদের সঙ্গে খেলা করতে চেয়েছেন, ধল-দিঘিতে সাঁতার কাটতে চেয়েছেন, পাখির সঙ্গে ডাকতে চেয়েছেন। কিন্তু উদ্দীপকে দেখা যায়, রাখাল ছেলের বাঁশি বাজানোর চিত্র, গরু চরানোর কথা; ধানখেত, বিলের জল, কদম-কলি, গাছের স্নিগ্ধ ছায়া এসবের বর্ণনা, যা আলোচ্য কবিতার প্রকৃতি চিত্রণের একটি অংশ।
উদ্দীপকে গ্রামীণ পরিবেশ ও প্রকৃতির চিত্র উঠে এসেছে কিন্তু সেখানে কবি সেসব অনুষঙ্গের সঙ্গে একীভূত হননি। 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতার কবি পল্লিপ্রকৃতির অনুষঙ্গের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে চেয়েছেন। পল্লিগ্রামে ফিরে যাওয়ার জন্য কবির মাঝে তীব্র আকাঙ্ক্ষা আমরা এ কবিতায় লক্ষ করি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতার একটি দিক প্রকাশ করেছে।
