আমার বাড়ির ডালিম গাছে
ডালিম ফুলের হাসি,
কাজলা দীঘির কাজল জলে
হাঁসগুলি যায় ভাসি।
আমার বাড়ি যাইও ভোমর,
এই বরাবর পথ,
মৌরী ফুলের গন্ধ শুঁকে
থামিও তব রথ।
কবি জসীমউদ্দীনের গ্রামের নাম তাম্বুলখানা।
ফুলের মালা পেয়ে পল্লিবালা ভাববে কে না যেন তা রেখে গেছে।
পল্লিগ্রামের অপরূপ সৌন্দর্য অন্বেষণ করতে কবি আর পল্লি-দুলাল দিঘির ঘাটে চলে আসবেন। কবি গাছের শাখা দুলিয়ে হাজার রঙের ফুল কুড়াবেন। তারপর সেই ফুল দিয়ে মালা গেঁথে যে ঘাটে গায়ের বিভোল পল্লিবালা কলসিতে জল ভরতে আসে সেখানে রেখে আসবেন। কে রেখে গেছে- এটা ভাবতে ভাবতে সেই মালা গলায় পরবে পল্লিবালা।
উদ্দীপকে 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতার প্রকৃতির সৌন্দর্যের দিকটি ফুটে উঠেছে।
'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় শহরের কৃত্রিমতা থেকে পালিয়ে কবি আশ্রয় নিতে চান পল্লির সরল জীবনে। ধানখেতের গন্ধ, কদম-কলির - সুবাস, বনের ছায়া আর শিশুর খেলার হাসি তাঁকে টানে। তিনি চান এই প্রকৃতিময় পল্লিজীবনের সান্নিধ্যে নিজের মায়ের কাছে ফিরে যেতে।
'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় পল্লি-দুলালের দেশ অর্থাৎ পল্লিগ্রাম, যাকে প্রকৃতি তার রূপ দিয়ে ঘিরে রেখেছে কবি তার সেই গ্রামের রূপের বর্ণনা করেছেন নানা উপমা দিয়ে। গ্রামের বনের শীর্ষে আকাশ, পায়ের কাছে দীর্ঘ মাঠ। ধান-কাউনের খেতের মাঝ দিয়ে হাবা মেয়ের সিঁথির মতো অর্থাৎ আঁকাবাঁকা সুতার মতো দীর্ঘ পথ চলে গিয়েছে। যে পথে গ্রামের মেয়ে কদম-কলি ছড়িয়ে হেঁটে চলে, কবি সেই পথে হাঁটবেন। পাখির সঙ্গে ডাকবেন। অজানা ফুলের রূপ দেখে তিনি মুগ্ধ হবেন। উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা বাড়িতে কবি আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। যেখানে ডালিম ফুলের হাসি দেখতে পাওয়া যায়, কাজলা দিঘিতে হাঁস ভেসে বেড়ায় আর মৌরী ফুলের মিষ্টি গন্ধ পাওয়া যায়। উদ্দীপকের প্রকৃতির রূপ বর্ণনার এ দিকটি ফুটে উঠেছে আলোচ্য কবিতায়।
উদ্দীপকের কবির গ্রামের যাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষার দিকটি না থাকায় "উদ্দীপকটি 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতার খণ্ডাংশমাত্র"-মন্তব্যটি যথার্থ।
'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতাটি প্রকৃতিপ্রেম, দেশপ্রেম ও শৈশবস্মৃতির এক অনন্য সমন্বয়। কবি যেন নিজের শিকড়ের কাছে ফিরে যেতে চান- সেই মাটি, সেই জল, সেই গাছপালা যেখানে তাঁর হৃদয় প্রথম গান গেয়েছিল।
'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় কবি পল্লি-দুলালের দেশ অর্থাৎ পল্লিগ্রামে যেতে চেয়েছেন। পল্লির অকৃত্রিম প্রাকৃতিক পরিবেশ তাকে ঘিরে রেখেছে। কবি এই পল্লিগ্রামের মেঠোপথের বর্ণনা থেকে শুরু করে সেই গ্রামের আকাশ, বেতকেয়ার বনে ডাহুকের ডাক প্রকৃতির নানা অনুষঙ্গের বর্ণনা দিয়েছেন। কবি এখানে গ্রামের দুরন্ত ছেলেদের সঙ্গে খেলা করবেন। মাটিতে পা ফেলে হাঁটবেন। পাখির সঙ্গে ডাকবেন। অজানা ফুলের রূপ দেখে মুগ্ধ হবেন।
'উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, এখানে শুধু একজন ব্যক্তির বাড়ির সৌন্দর্যের বর্ণনা দেওয়া হচ্ছে। এখানে ডালিম ফুলের হাসি দেখা যায়, কাজলা দিঘির কাজল জলে হাঁস ভেসে থাকতে দেখা যায় কিংবা এখানে মৌরী ফুলের মিষ্টি সুবাস পাওয়া যায়। তিনি এগুলোর জন্য তার বাড়িতে কাউকে নিমন্ত্রণ জানিয়েছেন যা আলোচ্য কবিতার একটি ক্ষুদ্র অংশ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতার খন্ডাংশমাত্র।
