A. Nayan
A. Nayan
22 Jun 2026 (3 months ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘অংশ-১ : মানুষ…’ রাজশাহী বোর্ড ২০২৩ – সেইদিন এই মাঠ, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)


Listen to this article
🏫 বোর্ড: রাজশাহী বোর্ড📅 সাল: ২০২৩⭐ গুরুত্ব: ★★★★★

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

অংশ-১ : মানুষ ক্ষণিক জীবনের তরে নতুন স্বপ্নগুলো করছে বপন পরাজিত হয়েও জীবনযুদ্ধে গড়ছে আপন ভুবন।

অংশ-২ : শুধু হেথা দুই তীরে, কেবা জানে নাম দোঁহা পানে চেয়ে আছে দুই খানি গ্রাম। এই খেয়া চিরদিন চলে নদী স্রোতেকেহ যায় ঘরে, কেহ আসে ঘর হতে।

উত্তর:

খেয়ানৌকাগুলো চরের খুব কাছে এসে লেগেছে।

উত্তর:

এখানে কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, যেদিন তিনি পৃথিবীতে থাকবেন না, সেদিনও প্রকৃতি তার স্বাভাবিক নিয়মেই প্রবহমান থাকবে।

রূপসি বাংলার কবি প্রকৃতির নিত্যতায় বিশ্বাস করেন। তিনি মনে করেন, সময়ের আবর্তনে একসময় ব্যক্তিমানুষের মৃত্যু হলেও প্রকৃতিতে থাকে চিরকালের ব্যস্ততা। মাঠে থাকে চঞ্চলতা, চালতাফুলে পড়ে শীতের শিশির, লক্ষ্মীপেঁচার কণ্ঠে ধ্বনিত হয় মঙ্গলবার্তা। এভাবে নানা বিবর্তনের মধ্যেও প্রকৃতি তার আপন নিয়মেই প্রবহমান থাকে। প্রশ্নোক্ত পঙ্কিটির মাধ্যমে এ বিষয়টিই বোঝানো হয়েছে।

উত্তর:

উদ্দীপকের ১নং অংশে ‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতার শাশ্বত স্বপ্নের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।

‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতায় কবি জীবনানন্দ দাশ মানুষের স্বপ্নের দিকটি তুলে ধরেছেন। মানুষ স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে। মনে মনে স্বপ্নের জাল বুনে। জীবনটাকে রঙিন করে সাজাতে চায়। মানুষ মরে গেলেও স্বপ্নগুলো মরে না। স্বপ্নের কোনো মৃত্যু নেই। মানুষের জীবনে দুঃখ-কষ্ট যতই আসুক না কেন আবার নতুন করে তারা স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। স্বপ্নই মানুষকে হতাশার হাত থেকে রক্ষা করে নতুন করে বাঁচার অনুপ্রেরণা দেয়। তাই মানুষের স্বপ্ন অমর। মানুষের এ স্বপ্ন চিরকাল বেঁচে থাকে।

উদ্দীপকের ১নং অংশে মানুষের স্বপ্নের দিকটি ফুটে উঠেছে। মানুষের জীবন অত্যন্ত ক্ষুদ্র। মানুষ অল্প কিছুদিন এ পৃথিবীতে বেঁচে থাকে। কিন্তু মানুষ ক্ষণিক জীবনের জন্য কত না নতুন স্বপ্নের জাল বিস্তার করে। জীবনটাকে স্বপ্নের মতো করে গড়তে চায়। জীবনে চলার পথে অনেক বাধা-বিপত্তি বা পরাজয়ের গ্লানি সহ্য করতে হয়। কখনো বা জীবন যুদ্ধে পরাজীত হতে হয়। তবুও মানুষের স্বপ্ন দেখা বন্ধ হয় না। আপন ভুবন গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে মানুষ আবারও স্বপ্ন দেখতে আরম্ভ করে। তাই আমরা বলতে পারি, উদ্দীপকের ১নং অংশে ‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতার চিরন্তন স্বপ্নের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।

উত্তর:

"উদ্দীপকের ২নং অংশে 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় বর্ণিত প্রকৃতির চিরন্তনতার কথা উঠে এসেছে।"- উক্তিটি যথার্থ।

'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবি জীবনানন্দ দাশ প্রকৃতির চিরন্তনতার চিত্র এঁকেছেন। ব্যক্তি মানুষের মৃত্যু রয়েছে। কিন্তু প্রকৃতির স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডের কোনো মৃত্যু নেই। মানুষের জন্ম-মৃত্যুতে প্রকৃতির ওপর কোনো প্রভাব পড়ে না। প্রকৃতি তার স্বাভাবিক নিয়মেই চলে। পৃথিবীর অনেক সভ্যতা ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু প্রকৃতি আগের মতোই চির অবিনশ্বর রয়েছে। এমনকি ভবিষ্যতেও প্রকৃতি তার আপন স্বকীয়তা বজায় রাখবে। কারণ কোনো কর্মকাণ্ডই প্রকৃতির গতিকে রোধ করতে পারে না। প্রকৃতি যেন তার আপন গতিতেই সদা ঘূর্ণায়মান।

উদ্দীপকের ২নং অংশে নদীতীরের বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে। নদীর দুই তীরে দুই খানি গ্রাম রয়েছে। নাম না জানা এ গ্রামের পাশেই একটি নদী বয়ে গেছে। নদী তার আপন গতিতেই প্রবহমান। আর এ নদীতে নৌকা চলে। নৌকায় করে কেউ বাড়ি হতে কোনো কাজে অন্যত্র যায়। আবার কেউ অন্য কোনো স্থান হতে নৌকায় করে বাড়ি ফিরে। এ যেন নদী তীরের নিত্য দিনের চিত্র। মূলত এর মাধ্যমে উদ্দীপকের কবি এ পৃথিবীতে মানুষের আগমন ও প্রস্থানকে বুঝিয়েছেন। অর্থাৎ এ পৃথিবীতে মানুষের জন্ম হওয়ার কিছু সময় পর এ পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হয়। কিন্তু প্রকৃতির স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড আগের মতোই রয়ে যায়।

পরিশেষে আমরা বলতে পারি, উদ্দীপকের ২নং অংশে 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় বর্ণিত প্রকৃতির চিরন্তনতার কথাই ফুটে উঠেছে। কারণ এ প্রকৃতির চিরন্তন কর্মকাণ্ডের কোনো ক্ষয় বা বিনাশ নেই। আবহমানকাল ধরেই প্রকৃতির চিরন্তন প্রবহমানতা অব্যাহত রয়েছে। এমনকি ভবিষ্যতেও তা অক্ষত অবস্থায় থাকবে। প্রকৃতি তার আপন মহিমায় চির ভাষর। প্রকৃতি কারও মুখাপেক্ষী বা নির্ভরশীল নয়। এ পৃথিবীতে প্রকৃতির চিরন্তনতা কখনো বিলীন হবার নয়। যা উদ্দীপক ও 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় যুগপৎভাবে ফুটে উঠেছে। সুতরাং প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ ও প্রণিধানযোগ্য।

11 Views
No Comments
Share
1
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘অংশ-১ : মানুষ…’ রাজশাহী বোর্ড ২০২৩ – সেইদিন এই মাঠ, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)”