দৃশ্যকল্প-১:
হরিশ্চন্দ্র রাজার পাঠ, পুণ্ড্রনগর
পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার, পানাম নগর,
রাণী হেলেন, ঈসা খাঁ, সম্রাট শাজাহান
কালের করালে আজ প্রত্ন নিদর্শন।
দৃশ্যকল্প-২:
‘পথের ধারে বাজবে বেণু
নদীর কূলে চড়বে ধেনু
আঙিনাতে খেলবে শিশু
পাখিরা গান গাবে।
তবুও দিন যাবে গো দিন যাবে।’
কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতার মূল প্রেরণা বাংলার প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্য।
◉ 'সোনার স্বপ্নের সাধ' বলতে কবি বিচিত্র বিবর্তনের মধ্যেও প্রকৃতির রূপ-রস-গন্ধ চিরন্তন থাকাকে বুঝিয়েছেন।
◉ 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবি প্রকৃতির চিরকালীন সৌন্দর্যের এবং মানুষের স্বপ্নের অমরত্বের দিকটি তুলে ধরেছেন। বিচিত্র বিবর্তনের মধ্যেও রূপ-রস-গন্ধ নিয়ে প্রকৃতি টিকে থাকে। প্রকৃতির মতো পৃথিবীতে কল্যাণকর্ম বিলীন হয় না। শুধু ব্যক্তি বা কর্মী হারিয়ে যায়। তবে ব্যক্তির স্বপ্ন হারায় না। কবি মনে করেন, তিনি যখন পৃথিবীতে থাকবেন না তখনও প্রকৃতি তার অফুরন্ত ঐশ্বর্য নিয়ে মানুষের স্বপ্ন, সাধ ও কল্পনাকে তৃপ্ত করে যাবে। পৃথিবীতে প্রকৃতির নিয়মের এই স্বাভাবিকতা বোঝাতেই কবি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
◉ দৃশ্যকল্প-১-এ 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার মানুষের গড়া পৃথিবীর সভ্যতা বিলীন হওয়ার দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে।
◉ 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবি প্রকৃতির চিরকালীন সৌন্দর্যের অমরতা এবং মানুষ ও মানুষের তৈরি সভ্যতার বিলীন হয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। অবিনশ্বর পৃথিবীতে মানুষের মতো মানুষের সভ্যতাও নশ্বর। 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবি মূলত মানুষের তৈরি সভ্যতা বিলীন হওয়ার কথা বলেছেন। তাঁর মতে এশিরিয় ও ব্যাবিলনীয় সভ্যতা এখন ধ্বংসস্তূপ ছাড়া আর কিছুই নয়।
◉ দৃশ্যকল্প-১-এ ধার্মিক রাজা হরিশ্চন্দ্রের কথা বলা হয়েছে যিনি বিশ্বামিত্রকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে রাজ্য, স্ত্রী, সন্তানদের বলিদান দিয়েছিলেন। বাংলার বারো ভূঁইয়াদের শ্রেষ্ঠ ঈসা খাঁ, পানাম নগর, ট্রয়ের রানি হেলেন, সম্রাট শাজাহান প্রভৃতির কথা বলা হয়েছে। এসব চরিত্র ও তাদের সঙ্গে জড়িত সবকিছুই ধ্বংসপ্রাপ্ত। পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার দ্বিতীয় পাল রাজা শ্রী ধর্মপালদেবের রাজত্বকালে তৈরি হয়েছিল। রানি হেলেনের সৌন্দর্যের কারণে যুদ্ধে সমৃদ্ধিশালী ট্রয়নগরী ধুলোয় মিশে গিয়েছে। এভাবে মানুষের তৈরি সভ্যতা ধ্বংসের যে দিকটি উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে তা 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় মানুষের গড়া পৃথিবীর সভ্যতা বিলীন হওয়ার দিকটিকে নির্দেশ করেছে। 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবি প্রকৃতির চিরকালীন সৌন্দর্যের অমরতা এবং মানুষ ও মানুষের তৈরি সভ্যতার বিলীন হয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। উদ্দীপকেও উল্লিখিত বিভিন্ন ব্যক্তি ও তাঁদের আধিপত্য বিস্তারের ঐতিহাসিক স্থানও ধ্বংসপ্রাপ্ত।
◉ মানুষ ও মানুষের তৈরি সভ্যতা ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে, প্রকৃতির সবকিছুই অবিকল একই থাকবে- এই দিক থেকে দৃশ্যকল্প-২ 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার মূল আলোচ্য বিষয়।
◉ 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবি একদিকে সভ্যতার ক্ষয়িষ্ণু অবস্থা এবং অন্যদিকে বিনির্মাণের কথা বলেছেন। তিনি জগতের চিরন্তন, সত্য নির্দেশ করতে গিয়ে বলেছেন যে, পৃথিবীতে মানুষ মরণশীল, কিন্তু মানুষের স্বপ্ন অমর। মানুষ ও মানুষের তৈরি সভ্যতা ধ্বংস হলেও প্রকৃতি টিকে থাকে। প্রকৃতির ধ্বংস বা বিনাশ নেই। প্রকৃতি তার আপন রূপ-রস-গন্ধ নিয়ে চির প্রবহমান। প্রকৃতি তার আপন রূপ-রস-গন্ধ নিয়ে চিরকাল প্রাণবন্ত থাকে। মানব ও মানবসৃষ্ট সবকিছু। একদিন ধ্বংস হলেও প্রকৃতি চিরস্থায়ী। প্রকৃতি জগতের সবকিছুই চলছে অবিকল ধারায় চলমান থাকবে, শুধু মানুষ কালের গর্ভে হারিয়ে যাবে।
◉ দৃশ্যকল্প-২-এ প্রকৃতি জগতে যথানিয়মে সবকিছু চলমান থাকার কথা বলা হয়েছে। পথের ধারে রাখাল ছেলের বাঁশি বাজানো, নদীর - কূলে গরু চড়ানো; উঠোনে বসে শিশুর খেলা করা যথারীতি চলতেই থাকবে। পাখিদের গানও থাকবে। এসবের মধ্য দিয়ে দিন কেটে যাবে। দৃশ্যকল্প-২-এর এই দিকটির সঙ্গে 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার মূল বিষয়টি সাদৃশ্যপূর্ণ। কবি এ কবিতায় প্রকৃতির চির প্রবহমানতার কথা বলেছেন। কবির মতে প্রকৃতি চিরস্থায়ী, অবিনশ্বর। মানুষ ও মানুষের তৈরি সভ্যতা ক্ষণস্থায়ী।
◉ 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবি মানবজীবন, মানবসৃষ্ট সভ্যতা বিলীন হওয়ার কথা এবং প্রকৃতির চিরন্তন হয়ে থাকার কথা বলেছেন। দৃশ্যকল্প-২-এ এই ব্যস্ততারই প্রতিফলন ঘটেছে। এভাবে দৃশ্যকল্প-২ 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার মূল আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
