স্তবক-১:
মানুষ, সৃষ্টির নেশায় যারা থাকে মগ্ন
ব্যর্থ হয় কখনো কখনো
ভেঙে যায় সব স্বপ্ন।
তবুও দমিয়ে থাকে না তারা
আবারো গড়ে আপন ভুবন।
স্তবক-২:
রাখাল ছেলে চড়ায় ধেনু বাজায় বেণু অশখ মূলে
সেই গানেই পুলক লেগে ধানের ক্ষেত ওই উঠল দুলে।
সেই গানেরই পুলক লেগে বিলের জলের বাঁধন টুটে
মায়ের মুখের হাসির মতো কমল কলি উঠল ফুটে।
খেয়ানৌকাগুলো চরের খুব কাছে এসে লেগেছে।
◉ "এশিরিয়া ধুলো আজ- বেবিলন ছাই হয়ে আছে"- কারণ মনুষ্যসৃষ্ট সবকিছু একসময় ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
◉ 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবি বলেছেন, মানুষের গড়া পৃথিবীর অনেক সভ্যতা বিলীন হয়ে গেছে। এশিরীয় ও বেবিলনীয় সভ্যতা এখন ধ্বংসস্তূপ ছাড়া আর কিছুই নয়। অথচ প্রকৃতির ধ্বংস নেই। প্রকৃতি নিজ রূপ-রস-গন্ধ নিয়ে চিরকাল প্রাণময়। প্রকৃতির অফুরন্ত সৌন্দর্য কখনই শেষ হয় না। তাই এশিরিয়া ও বেবিলনের সভ্যতা ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করে মানবসৃষ্ট সভ্যতার নিশ্চিত ধ্বংস হয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে বোঝানো হয়েছে।
◉ 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার মনুষ্যসৃষ্ট সভ্যতার ধ্বংস হওয়া এবং মানুষের স্বপ্নের বেঁচে থাকার দিকটি স্তবক-১-এ ফুটে উঠেছে।
◉ 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় মানুষের ক্ষণস্থায়ী জীবন, তার সৃষ্টির ধ্বংস এবং মানুষের চিরকালীন স্বপ্নের দিকটি ফুটে উঠেছে। মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী। মনুষ্য নির্মিত সভ্যতাও ক্ষণস্থায়ী। তবে মানুষের স্বপ্নের কখনো সমাপ্তি ঘটে না। মানুষের মৃত্যুর বিপরীতে চলে তার স্বপ্নের স্থায়িত্ব ও বিনির্মাণে।
◉ উদ্দীপকে সৃষ্টির নেশায় মগ্ন মানুষের কথা বলা হয়েছে যারা কখনো কখনো ব্যর্থ হয়, যাদের স্বপ্ন ভেঙে যায়। তবু তারা দমে না গিয়ে আবার আপন ভুবন গড়ে তোলে। উদ্দীপকের স্তবক-১-এর এই অংশে 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার মানুষের ক্ষণস্থায়ী জীবন ও সভ্যতার পাশাপাশি মানুষের অন্তর্নিহিত অবিনশ্বর স্বপ্নের দিকটি ফুটে উঠেছে। মানুষ বারবার স্বপ্ন দেখে সৃষ্টির এবং সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটায়। তার সেই সৃষ্টি যদি নষ্ট হয়, ব্যর্থ হয়, তবুও সে আবার স্বপ্ন দেখে। সে আবার আপন ভুবন গড়ে তোলে।
◉ “পৃথিবীতে মানুষের মৃত্যু থাকলেও প্রকৃতির মৃত্যু নেই” এই বক্তব্যের প্রতিফলন ঘটায় স্তবক-২-এ প্রকাশিত প্রকৃতির শাশ্বত ও চিরন্তন রূপ 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায়ও নিপুণভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
◉ 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবির মতে মানুষ মরণশীল, প্রকৃতি অমর। প্রকৃতির সৌন্দর্য চিরন্তন। প্রকৃতি আপন গতিতে প্রবহমান। কবি মৃত্যুবরণ করলেও প্রকৃতিতে তার স্বাভাবিক ব্যস্ততা থাকবে। প্রকৃতি তার শাশ্বত রূপ নিয়ে চিরকাল ব্যস্ত থাকে। মাঠে থাকে চঞ্চলতা, লক্ষ্মীপেঁচার কণ্ঠে মঙ্গলবার্তা, প্রকৃতির বিচিত্র গন্ধ, মৃদুমন্দ কোলাহলের আনন্দ, খেয়ানৌকার নদীতে চলাচল- প্রকৃতির এসব অফুরন্ত সৌন্দর্য কখনই শেষ হয় না।
◉ উদ্দীপকের স্তবক-২-এ প্রকৃতির মায়াময় চিরকালীন সৌন্দর্য ও শাশ্বত রূপটি দেখা যায়। এখানে রাখাল ছেলের গরু চরানো, অশখের ছায়ায় বসে বাঁশি বাজানোর মনোরম এক দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে। রাখাল ছেলের গানের পুলক লেগে ধানের খেত যেন দুলে ওঠে। ওই গানের আনন্দে যেন বিলের জলে পদ্মফুলের কলি সম্পূর্ণরূপে ফুটে ওঠে মায়ের মুখের হাসির মতো।
◉ উদ্দীপকের স্তবক-২-এ প্রকৃতির এসব অনুষঙ্গও শাশ্বত ও চিরন্তন, যা কখনো হারিয়ে যাবে না। 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবি প্রকৃতির শাশ্বত এ রূপকে বিস্ময়কর নিপুণতায় উপস্থাপন করেছেন। প্রকৃতির সেই শাশ্বত রূপটি উদ্দীপকের স্তবক-২-এও ফুটে উঠেছে।
