যেদিন আমার মহাঘুমে বুজবে দুই চোখ
পাড়া প্রতিবেশী সবাই পাবে কিছু শোক।
চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ-তারা, সাগর-নদী-জল
এই পৃথিবী যেমন আছে রবে অবিকল।
আমি যে এই পৃথিবীর লোক ভুলে যাবে সবে,
শুধু থাকব না আর আমি একা সবই রবে ভবে।
'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় খেয়ানৌকা গুলো চরের খুব কাছে এসে লেগেছে।
উল্লিখিত চরণটি দিয়ে কবি বুঝিয়েছেন যে, বিচিত্র বিবর্তনের মধ্যেও প্রকৃতি তার রূপ-রস-গন্ধ কখনই হারিয়ে ফেলে না। কবি মনে করেন তিনি যখন থাকবেন না তখনও প্রকৃতি তার অফুরন্ত ঐশ্বর্য নিয়ে মানুষের স্বপ্ন, সাধ ও কল্পনাকে তৃপ্ত করে যাবে।
পৃথিবীতে মানবকল্যাণের বাণী বা কল্যাণকর্ম কোনোকিছুই বিলীন হয় না। শুধু ব্যক্তি হারিয়ে যায়। কারও মৃত্যুতেই পৃথিবীর গতিময়তা ও প্রকৃতির স্বাভাবিকতায় কোনো ব্যাঘাত ঘটে না। কবি মনে করেন তিনি না থাকলে লক্ষ্মীপেঁচার গান বন্ধ হবে না। পৃথিবীর সবকিছুই স্বাভাবিক নিয়মে চলবে।
উদ্দীপকের প্রথম দুই চরণ 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার মানুষের মরণশীলতার দিক থেকে সম্পর্কিত।
'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবি মানুষের মরণশীলতার বিপরীতে প্রকৃতির প্রবহমানতাকে ফুটিয়ে তুলেছেন। মরণশীল ব্যক্তিমানুষ মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়। প্রকৃতির বিপুলতার মধ্যে দাগ কাটে না সেই মৃত্যুর শোক।
উদ্দীপকের প্রথম দুই চরণে কবির মৃত্যুজনিত আক্ষেপ প্রকাশ পেয়েছে। প্রকৃতির নিয়মেই একদিন সময়ের ডাকে সাড়া দিয়ে কবিকে পৃথিবী ছাড়তে হবে। তার বিদায়ের বেদনা আচ্ছন্ন করবে তার পাড়া প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনের ক্ষুদ্র পারিবারবর্গকে। 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবি মানুষের মরণশীলতার দিকটিকে গুরুত্বারোপ করেছেন। মরণশীল ব্যক্তিমানুষকে মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পৃথিবী ছাড়তে হয়। বিষয়টি ব্যক্তির জীবনের বেদনাময় অনুষঙ্গ হলেও প্রকৃতিতে এটির প্রভাব পড়ে না।
উদ্দীপকের শেষ চার চরণে প্রতিফলিত দর্শন 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় বর্ণিত প্রকৃতির অবিনশ্বরতার বিপরীতে মানবজীবনের নশ্বরতা প্রকাশ করায় "উদ্দীপকের শেষ চার চরণ ও 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার মূল সুর এক" মন্তব্যের সঙ্গে আমি একমত।
'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবি প্রকৃতির অবিনশ্বরতার বিপরীতে মানবজীবনের নশ্বরতার দিকটি ফুটিয়ে তুলেছেন। মরণশীল ব্যক্তিমানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেও বিশাল প্রকৃতির কোথাও পড়ে না সেই মৃত্যুর রেশ'। মৃত্যু প্রকৃতির বহমানতা থামাতে পারে না।
উদ্দীপকের শেষ চার চরণে কবি অনিবার্য মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছেন, যেটিকে কোনো মানুষই এড়াতে পারে না। উপরন্তু তার এই ব্যক্তি প্রয়াণ সুবিস্তৃত প্রকৃতির প্রবহমানতাকে রহিত করতে পারে না। 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায়ও কবি এ চিরন্তন সত্যকে স্বীকার করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন, তাঁর মৃত্যুর পরেও প্রকৃতির সব অনুষঙ্গ নির্বিকার চিত্তে আপন আপন কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকবে।
'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় প্রকৃতির চিরকালীন সৌন্দর্য ও মানুষের স্বপ্নের স্থায়িত্ব প্রকাশিত হয়েছে। মানুষের জীবন ও তার হাতে গড়া সভ্যতা ধ্বংসপ্রাপ্ত হলেও প্রকৃতি আপন মহিমায় চলমান থাকে। প্রকৃতির কোথাও পড়ে না সেই ধ্বংসের বেদনা। উদ্দীপকের শেষ চার চরণেও কবি এই দর্শনই উপস্থাপন করেছেন। তাই বলা যায় যে, আলোচ্য মন্তব্যটি যথার্থ।
