(i): খেতের পরে খেত চলেছে খেতের নাহি শেষ
সবুজ হাওয়ায় দুলছে ও কার এলো মাথার কেশ।
সেই কেশেতে গয়না পরায় প্রজাপতির ঝাঁক
(ii): মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।
খেয়ানৌকা গুলো এসে চরের খুব কাছে লেগেছে।
'আমি চলে যাব'- বলতে কবি মৃত্যুর দেশে চলে যাওয়ার কথা বলেছেন।
মানুষ মরণশীল। যার জন্ম হয়েছে, তার মৃত্যুও অনিবার্য। এই সুন্দর পৃথিবীতে কেউ চিরদিন থাকতে পারে না। মানুষের মৃত্যু হলেও প্রকৃতির সৌন্দর্যের কোনো মৃত্যু নেই। প্রকৃতি চিরকাল ব্যাপী নিত্য নতুন রূপে সাজে। কিন্তু মানুষ সংক্ষিপ্ত জীবনে প্রকৃতির এই সৌন্দর্য চিরদিন উপভোগ করতে পারে না।
'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার ব্যক্তি মানুষের মৃত্যুর অনিবার্যতার দিকটি উদ্দীপক-(ii)-এর সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবির মৃত্যু চেতনা ফুটে উঠেছে। মৃত্যুই জীবনের অনিবার্য পরিণতি। তাই ব্যক্তি মানুষকে মৃত্যুর অমোঘ নিয়তিকে মেনে নিতেই হয়। ব্যক্তি মানুষের মৃত্যু হলেও প্রকৃতির সৌন্দর্য চিরস্থায়ী।
উদ্দীপকের কবিতাংশের কবি মরণকে বরণ করতে চান না। তিনি সুন্দর এই পৃথিবীতে মানুষের মাঝে বেঁচে থাকতে চান। কিন্তু মানুষ চাইলেও চিরদিন বেঁচে থাকতে পারে না- এই কঠিন সত্যই 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার সাথে উদ্দীপকের বৈপরীত্য সৃষ্টি করেছে। কবিতায় কবি মৃত্যুর চরম সত্যটি তুলে ধরেছেন। মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে ব্যক্তি মানুষকে কালের গহ্বরে হারিয়ে যেতে হয়। প্রকৃতি তার সৌন্দর্য দিয়ে চিরকাল মানুষকে তৃপ্ত করে চলে। কিন্তু মরণশীল মানুষ চিরকাল এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে না। উদ্দীপকের কবি সুন্দর পৃথিবীতে মানুষের মাঝে বেঁচে থাকতে চাইলেও তা সম্ভব নয়। তাই বলা যায়, 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার ব্যক্তি মানুষের মৃত্যুর অনিবার্যতার দিকটি উদ্দীপক-(ii)-এর সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
হ্যাঁ, উদ্দীপক-(i)-এ 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার মৃত্যুচেতনার, ও সভ্যতার নশ্বরতার দিকটি অনুপস্থিত থাকায় তা কবিতার সমগ্রতাকে ছাপিয়ে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে।
'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবি অবিনশ্বর প্রকৃতির বিপরীতে নশ্বর মানব জীবনের কথা বলেছেন। মানুষের মৃত্যু হলেও বহমান প্রকৃতি আপন নিয়মে চলতে থাকে। মানুষের স্বপ্ন গুলোও প্রকৃতির মতোই বহমান। মানুষের সৃষ্টির ধ্বংস আছে, তবে প্রকৃতি তার চিরকালীন সৌন্দর্য নিয়ে টিকে থাকে।
উদ্দীপক-(i)-এ প্রকৃতির সৌন্দর্যের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। কবি গ্রাম বাংলার সবুজ প্রকৃতির অপরূপ রূপের বর্ণনা দিয়েছেন। দিগন্ত জোড়া খেত, প্রজাপতির ঝাঁক প্রভৃতির সৌন্দর্য তুলনারহিত। 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায়ও প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের কথা রয়েছে। এছাড়া আরও বিস্তৃত পরিসরে সভ্যতার ভাঙা-গড়া, মানুষের মৃত্যুচেতনার বিষয়গুলোও কবিতায় রয়েছে।
'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় প্রকৃতির অনাবিল সৌন্দর্যের কথা বলা হয়েছে। মানুষের নশ্বর জীবনের মৃত্যু হলেও প্রকৃতি রূপ-রস-গন্ধ দিয়ে মানুষকে মোহিত করে। একদিকে সভ্যতার ক্ষয় হয়, অন্যদিকে চলে তার বিনির্মাণ। প্রকৃতি অপার সৌন্দর্য নিয়ে মানুষের স্বপ্ন-সাধ- কল্পনাকে তৃপ্ত করে চলে। 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার প্রকৃতির সৌন্দর্যের দিকটি ছাড়া অন্যান্য বিষয় উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, উদ্দীপক-(i) 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার সমগ্রতাকে ছাপিয়ে উঠতে পারেনি।
