উদ্দীপক-১:
সংসার সাগর মাঝে দুঃখ তরঙ্গের খেলা
আশা তার একমাত্র ভেলা।
উদ্দীপক-২:
মানুষ আসে, মানুষ যায়, ক্ষণিক এই জীবন
তবু রবে প্রকৃতি, রবে তার সৃজন।
ফুল ফোটে, পাখি গায়, ভরে ওঠে আলো,
সৌন্দর্যের সুর বাজে চিরন্তন ভালো।
খেয়ানৌকা গুলো চরের খুব কাছে এসে লেগেছে।
"এশিরিয়া ধুলো আজ- বেবিলন ছাই হয়ে আছে"- বলতে মানবসৃষ্ট সভ্যতা একসময় ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়াকে বোঝানো হয়েছে।
'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবি বলেছেন, মানুষের গড়া পৃথিবীর অনেক সভ্যতা বিলীন হয়ে গেছে। এশিরীয় ও বেবিলনীয় সভ্যতা এখন ধ্বংসস্তূপ ছাড়া অন্য কিছুই নয়। অথচ প্রকৃতির ধ্বংস নেই। প্রকৃতি নিজ রূপ-রস-গন্ধ নিয়ে চিরকাল প্রাণময়। প্রকৃতির অফুরন্ত সৌন্দর্য কখনই শেষ হয় না। তাই এশিরিয়া ও বেবিলনের সভ্যতা ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করে মানবসৃষ্ট সভ্যতার নিশ্চিত ধ্বংস হয়ে যাওয়ার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।
উদ্দীপক-১-এর সঙ্গে 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার আশাবাদের তথা স্বপ্নের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবি মানুষের আশা ও স্বপ্নের কথা ব্যক্ত করেছেন। তাঁর মতে, এই পৃথিবীতে নশ্বর মানুষের স্বপ্ন ও আশা চিরস্থায়ী। প্রকৃতির সৌন্দর্যের যেমন কোনো মৃত্যু নেই তেমনই ব্যক্তি মানুষের আশারও মৃত্যু নেই।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি বলেছেন, পৃথিবীতে দুঃখ-কষ্ট আছে। আর এই দুঃখ-কষ্টের অবসানও আছে। জীবনে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আশা-ই মানুষকে বাঁচার প্রেরণা দেয়। 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায়ও কবি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতেও প্রকৃতি নিজ সৌন্দর্য নিয়ে মানুষের স্বপ্ন-সাধ ও কল্পনাকে তৃপ্ত করে যাবে। যেকোনো পরিস্থিতিতে আশা-ই আমাদের বাঁচিয়ে রাখার রসদ জোগায়। মানুষের আশা ও স্বপ্নের মৃত্যু নেই। 'সেইদিন এই মাঠ'-কবিতায় যে আশাবাদ ব্যক্ত হয়েছে উদ্দীপক-১-এ তারই প্রতিফলন ঘটেছে। এভাবে উদ্দীপক-১-এর সঙ্গে 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার আশাবাদের তথা স্বপ্নের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
প্রকৃতির চিরন্তনতার প্রকাশ ঘটায় “উদ্দীপক-২-এ 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার প্রকৃতির অবিনশ্বরতার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে” মন্তব্যটিকে যথার্থ বলা যায়।
'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবি প্রকৃতির চিরন্তন রূপের দিকটি উন্মোচিত করেছেন। মানুষের জীবন নশ্বর। এই নশ্বর জীবনের বিপরীতে প্রকৃতির রূপ অবিনশ্বর। কবি পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেও প্রকৃতির এই চলমানতা বহমান থাকবে।
উদ্দীপক-২-এ মানুষের নশ্বর জীবন ও প্রকৃতির অবিনশ্বরতার কথা ধ্বনিত হয়েছে। মানুষ মরণশীল, প্রকৃতি চিরন্তন। মানুষের মৃত্যু হলেও প্রকৃতি নিজ সৃজনে সদা ব্যস্ত। ফুল ফোটা বা পাখির গান থেমে থাকবে না। 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায়ও কবি চলে যাবেন বলে প্রকৃতি থেমে থাকে না। নিত্যদিনের মতো নিজ সৃজন দ্বারা প্রকৃতি নিজেকে সাজাবে।
'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবি মানব জীবনের চিরন্তন সত্যটি তুলে ধরেছেন। মানুষের মৃত্যু অনিবার্য। মানব সভ্যতার ও একদিকে ক্ষয় হয়, আবার অন্যদিকে বিনির্মাণ চলে। প্রকৃতির লয় নেই। প্রকৃতি আপন নিয়মে রূপ-রস-গন্ধে যুগ যুগ ধরে মুগ্ধতা ছড়িয়ে যায়। উদ্দীপক ও 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতা উভয় স্থানেই মানবজীবনের নশ্বরতা ও প্রকৃতির অবিনশ্বরতার কথা ব্যক্ত হয়েছে। তাই বলা যায়, "উদ্দীপক-২-এ 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার প্রকৃতির চিরন্তনতার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে" মন্তব্যটি যথার্থ।
