A. Nayan
A. Nayan
22 Jun 2026 (3 months ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘বগুড়ার মহাস্থানগড় বাংলাদেশের…’ ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ ২০২৬ – সেইদিন এই মাঠ, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)


Listen to this article
🏢 প্রতিষ্ঠান: ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ📅 সাল: ২০২৬⭐ গুরুত্ব: ★★★★★

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

বগুড়ার মহাস্থানগড় বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগরীর অন্যতম নিদর্শন। বর্তমানে মহাস্থানগড়ে যে ধ্বংসস্তূপ দেখা যায়, তা আসলে এক প্রাচীন নগর সভ্যতার অবশিষ্টাংশ। এই ঐতিহাসিক স্থাদকে ঘিরে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ভিড় করে। মহাস্থানগড় আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলেও, এখানকার প্রকৃতি এখনো মনোমুগ্ধকর। করতোয়া নদীর তীরে সবুজে ঘেরা এই স্থানটি ইতিহাস আর সৌন্দর্যের এক অপূর্ব মেলবন্ধন। সময়ের ব্যবধানে দুর্গনগরটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হলেও, প্রকৃতি তার স্বমহিমায় উদ্ভাসিত। আসলে কোনো বিবর্তনই প্রকৃতির চিরন্তন রূপকে মলিন করতে পারে না।

উত্তর:

'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় বর্ণিত ফুলের নাম চালতাফুল।

উত্তর:

"এশিরিয়া ধুলো আজ- বেবিলন ছাই হয়ে আছে”- কারণ মনুষ্যসৃষ্ট সবকিছু একসময় ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবি বলেছেন, মানুষের গড়া পৃথিবীর অনেক সভ্যতা বিলীন হয়ে গেছে। এশিরীয় ও বেবিলনীয় সভ্যতা এখন ধ্বংসস্তূপ ছাড়া আর কিছুই নয়। অথচ প্রকৃতির ধ্বংস নেই। প্রকৃতি নিজ রূপ-রস-গন্ধ নিয়ে চিরকাল প্রাণময়। প্রকৃতির অফুরন্ত সৌন্দর্য কখনই শেষ হয় না। তাই এশিরিয়া ও বেবিলনের সভ্যতা ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করে মানবসৃষ্ট সভ্যতার নিশ্চিত ধ্বংস হয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে বোঝানো হয়েছে।

উত্তর:

উদ্দীপকটি 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার মানবসৃষ্ট সভ্যতার ক্ষণস্থায়িত্ব ও প্রকৃতির চিরন্তনতার দার্শনিক দিকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় প্রকৃতির চিরন্তন রূপের ধারণাটি ফুটে উঠেছে। মানবসৃষ্ট অনেক সভ্যতা বিলীন হয়ে গেছে কিন্তু প্রকৃতি আপন রূপ-রস-গন্ধ নিয়ে চিরকাল প্রাণময়। প্রকৃতির মধ্যে বিচিত্র গন্ধের আস্বাদ, তার অন্তর্গত অফুরন্ত সৌন্দর্য কখনো শেষ হয় না। কবিতায় জীবনানন্দ দাশ প্রকৃতির এই চিরকালীন সৌন্দর্যকে বিস্ময়কর নিপুণতায় উপস্থাপন করেছেন।

উদ্দীপকে বগুড়ার মহাস্থানগড়ের ঐতিহাসিক উত্থান-পতনের মাধ্যমে মানবসৃষ্ট সভ্যতার ক্ষণস্থায়িত্ব ও প্রকৃতির চিরন্তনতার বিপরীতধর্মী চিত্র ফুটে উঠেছে। এককালের জমজমাট নগরী আজ ধ্বংসস্তূপ, যা সময়ের প্রবাহে মানবসৃষ্ট বৈভবের নশ্বরতাকেই নির্দেশ করে। তবে এর চারপাশের প্রকৃতি- আকাশ, বাতাস, পরিবেশ এখনো প্রাণবন্ত, যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নিরবধি প্রবাহকে প্রতীকী করে। এই বক্তব্য 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার মূলভাবেরই প্রতিধ্বনি। উভয় ক্ষেত্রেই মানবিক অহংকার, ইতিহাসের উত্থান-পতনকে প্রকৃতির স্থায়ী সৌন্দর্যের বিপরীতে রাখা হয়েছে, যা কবিতায় কবির বক্তব্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। 

উত্তর:

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অবিনশ্বরতার দিকটি বিবেচনায় বলা যায়-"কোনো বিবর্তনই প্রকৃতির চিরায়ত রূপকে মলিন করতে পারে না।" মন্তব্যটি যথাযথ।

'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় প্রকৃতির চিরকালীন সৌন্দর্যের মধ্যে সভ্যতার ধ্বংস ও বিনির্মাণের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। মানুষ এবং মানুষের তৈরি সভ্যতা নশ্বর হলেও প্রকৃতি অবিনশ্বর। মরণশীল মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ে কিন্তু প্রকৃতিতে থাকে চিরকালের ব্যস্ততা।
সভ্যতা একদিকে যেমন ক্ষয়িষ্ণু অন্যদিকে চলে তার বিনির্মাণ।

উদ্দীপকেও কবিতার মতো প্রকৃতির চিরকালীন সৌন্দর্যের কথা বলা হয়েছে। বগুড়ার মহাস্থানগড় এখন ধ্বংসপ্রাপ্ত। কিন্তু এর চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ তার নিরবধি সৌন্দর্য ও প্রাণচাঞ্চল্য বজায় রেখেছে। এই দিকটি 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার প্রকৃতির স্থায়িত্ব এবং মানবসভ্যতার নশ্বরতার মধ্যকার দার্শনিক দ্বন্দ্বকে সরলভাবে উপস্থাপন করে।

'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় জীবনানন্দ দাশ বলেছেন- প্রকৃতির রহস্যময় আনন্দ ও সৌন্দর্যের শেষ নেই। প্রকৃতি চির প্রবহমান। প্রকৃতির অফুরন্ত সৌন্দর্যের গল্প চিরকাল বেঁচে রবে, মানুষকে আনন্দ দেবে। মানুষের গড়া পৃথিবীর অনেক সভ্যতা বিলীন হয়ে গেছে, রয়ে গেছে শুধু প্রকৃতি। তিনি জানেন- বিচিত্র বিবর্তনের মধ্যেও প্রকৃতি তার রূপ-রস-গন্ধ কখনই হারিয়ে ফেলবে না। উদ্দীপকের প্রকৃতির এই মৌলিক সত্তার কথা বলা হয়েছে। প্রকৃতি কোনো বিবর্তন, যুদ্ধ, ধ্বংস বা সময়ের পরিবর্তনে ম্লান হয় না। সভ্যতা যেমন ক্ষয়িষ্ণু অন্যদিকে প্রকৃতিতে চলে তার বিনির্মাণ। এই গল্প হলো প্রকৃতির অনন্ত কাহিনি; যা মানব ইতিহাসের উত্থান-পতনের মধ্য দিয়েও অব্যাহত থাকে। তাই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি কবিতার সার্বিক ভাবকে প্রকাশ করেছে।

9 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘বগুড়ার মহাস্থানগড় বাংলাদেশের…’ ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ ২০২৬ – সেইদিন এই মাঠ, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)”