স্কুল শিক্ষক এন. ইসলাম জানতে পারেন প্রভাবশালী সমীর শেখ বিধবা রাশিদার একখণ্ড জমি দখল করে নিচ্ছে। সবাই ভয়ে চুপ থাকলেও এন. ইসলাম রাশিদাকে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসলেন। তিনি সমীর শেখকে বললেন, “জমিটা ফেরত দিন। এটা অন্যায়।” সমীর শেখ হাসল এবং বলল, “এটা তোমার কাজ নয়।” এন. ইসলামের সহযোগিতায় রাশিদা জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দাখিল করল। অবশেষে রাশিদা জমি ফেরত পেল।
হজরত উমর (রা.) ধুলার তখতে বসে অর্ধ পৃথিবী শাসন করেছেন।
"মানুষেরে স্বর্গে তুলিয়া ধরিয়া ধুলায় নামিল শশী" বলতে হজরত উমর (রা.)-এর সাম্যবাদ ও মহানুভবতার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।
'উমর ফারুক' কবিতায় উমর (রা.) উটের পিঠে করে জেরুজালেম যাত্রা করলে ভৃত্য তপ্ত বালুকার ওপর দিয়ে উটের রশি ধরে টেনে. নিয়ে যেতে থাকে। মরুভূমির তপ্ত পথে হাঁটা খুব কষ্টকর। তাই একসময় হজরত উমর (রা) উটের পিঠ থেকে নেমে ভৃত্যকে উটের পিঠে উঠতে আদেশ করলেন। অনিচ্ছা সত্ত্বেও ভৃত্য উটের পিঠে বসল, আর উমর (রা.) উটের রশি ধরে হাঁটতে থাকলেন। নিজ ভৃত্যকে এমন মর্যাদা অন্য কেউ কোনো কালে দেয়নি। এ ঘটনায় কবির কাছে মনে হয়েছে, মানুষকে স্বর্গে তুলে ধরে চাঁদ যেন নিজেই ধূলির ধরায় নেমে এসেছে।
উদ্দীপকের এন, ইসলামের কর্মকাণ্ডে 'উমর ফারুক' কবিতার উমর (রা.) চরিত্রের ন্যায়পরায়ণতার দিকটি ফুটে উঠেছে।
'উমর ফারুক' কবিতায় কবি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.)-এর চরিত্রের বহুমাত্রিক দিক উন্মোচন করেছেন। সেগুলোর একটি হলো ন্যায়পরায়ণতা। তিনি ন্যায়পরায়ণ মানবপ্রেমিক ছিলেন।
উদ্দীপকের স্কুল শিক্ষক এন, ইসলাম জানতে পারেন যে, প্রভাবশালী সমীর শেখ বিধবা রাশিদার একখন্ড জমি দখল করে নিচ্ছে। সবাই ভয়ে চুপ থাকলেও তিনি রাশিদাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন এবং সমীর শেখকে বলেন যে, জমিটা তিনি যেন ফেরত দেন, কারণ এটা অন্যায়। সমীর শেখ তাতে ভ্রুক্ষেপ না করলে এন. ইসলামের, সহায়তায় রাশিদা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অভিযোগ দাখিল করে জমি ফেরত পায়। এখানে এন. ইসলাম তার ন্যায়পরায়ণতার কারণে সমীর শেখকে ভয় না পেয়ে অসহায় রাশিদার পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। এই ন্যায়পরায়ণতার দিকটি 'উমর ফারুক' কবিতার উমর (রা.)-এর চরিত্রে প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি ন্যায়ের আদর্শ সমুন্নত রাখতে আপন সন্তানকে কঠোরতম শাস্তি দিতেও দ্বিধা করেননি। এই ন্যায়বোধের দিকটি উদ্দীপকের এন. ইসলামের কর্মকান্ডে ফুটে উঠেছে।
উমর (রা.) চরিত্রের সার্বিক দিক প্রকাশিত না হওয়ায় "উদ্দীপকটি 'উমর ফারুক' কবিতার সম্পূর্ণ ভাবকে ধারণ করতে পারেনি" মন্তব্যটি যথার্থ।
'উমর ফারুক' কবিতাটিতে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.)-এর জীবনাদর্শ, চরিত্র-মাহাত্ম্য, মানবিকতা ও সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি সুন্দরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তাঁর বীরত্ব, কোমলতা, নিষ্ঠা এবং সাম্যবাদী আদর্শের অনন্য গুণাবলি নিপুণভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশাল মুসলিম রাষ্ট্রের সর্বাধিনায়ক হয়েও তিনি অতি সহজ-সরল ও অনাড়ম্বর জীবনযাপন করতেন।
উদ্দীপকে স্কুল শিক্ষক এন. ইসলাম ন্যায়পরায়তাকে ধারণ করেছেন। তিনি ভয় না পেয়ে প্রভাবশালী সমীর শেখের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বিধবা রাশিদাকে সহযোগিতা করেছেন। এই ন্যায়পরাণতা 'উমর ফারুক' কবিতার উমর (রা.) চরিত্রের একটি মাত্র দিক। এ কবিতায় উমর (রা)-এর চরিত্র-মাহাত্ম্য ও জীবনাদর্শ সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে; তাঁর চরিত্রের বহুমাত্রিক দিক তুলে ধরা হয়েছে।
'উমর ফারুক' কবিতায় হজরত উমর (রা.)-এর মহত্ত্ব, বীরত্ব, কোমলতা, মানবপ্রেম, ন্যায়নিষ্ঠা, সাম্যবাদিতা, অনাড়ম্বর জীবনযাপন ইত্যাদি দিক ভাস্বর হয়ে উঠেছে। তিনি নিজ ভৃত্যকে তাঁর সঙ্গে সমান মর্যাদা দিয়ে সাম্যবাদিতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি নিজের কাঁধে আটার বস্তা বয়ে নিয়ে গিয়েছেন দরিদ্র জনগণের ঘরে। নিজ পুত্রকে মদ্যপানের অপরাধে কঠোর শাস্তি দিয়েছেন। মুসলিম বিশ্বের সর্বাধিনায়ক হয়েও তিনি অত্যন্ত অনাড়ম্বর ও সহজ-সরল জীবনযাপন করতেন। তিনি একমাত্র মহান আল্লাহকে ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করেননি। তিনি এমন বহু গুণের আধার ছিলেন। উদ্দীপকের এন. ইসলামের মধ্যে এসব গুণের মধ্যে কেবল ন্যায়পরায়ণতার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
