A. Nayan
A. Nayan
22 Jun 2026 (3 months ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘গভীর রাত, দূরের…’ জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ ২০২৬ – উমর ফারুক, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)


Listen to this article
🏢 প্রতিষ্ঠান: জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট📅 সাল: ২০২৬⭐ গুরুত্ব: ★★★★★

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

গভীর রাত, দূরের একটি গ্রাম থেকে নিজের বাড়িতে ফিরছেন রহমান সাহেব। সেদিন তাঁর সঙ্গে দুটি আড়ত সামগ্রী ছিল, ফলে চলাফেরায় কিছুটা অসুবিধা হচ্ছিল। নীরব রাত, চারদিকে কেবল ঝিঁঝি পোকার শব্দ- আর কিছুই নেই। এমন সময় তিনি- দূর থেকে মৃদু কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলেন। কান পেতে দেখলেন, শব্দটি পাশের বাড়ি থেকে আসছে। রহমান সাহেব দ্রুত সেখানে গিয়ে দেখলেন, বাড়ির কাজের মহিলা কান্না করছেন। কারণ জানতে চাইলে তিনি জানালেন- তার ছেলের পরীক্ষা সামনে, কিন্তু পরীক্ষার ফি দেওয়ার টাকা নেই। সহানুভূতিশীল রহমান সাহেব বিনীতভাবে ফি-এর টাকা দিয়ে চলে গেলেন। 

উত্তর:

'চীর' শব্দের অর্থ 'ছিন্ন বস্ত্র'।

উত্তর:

"অর্ধ পৃথিবী করেছ শাসন ধুলার তখতে বসি"- কথাটি দ্বারা উমর (রা.)-এর অনাড়ম্বর জীবনযাপনের বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উমর ফারুক (রা.) ছিলেন একজন মহৎ ব্যক্তিত্ব। তাঁর চরিত্রে একাধারে বীরত্ব, কোমলতা, নিষ্ঠা এবং সাম্যবাদী আদর্শের অনন্য সমন্বয় ঘটেছিল। বিশাল মুসলিম রাষ্ট্রের সর্বাধিনায়ক হয়েও তিনি অতি সহজ-সরল ও অনাড়ম্বর জীবনযাপন করেছেন। এজন্য তাঁর সিংহাসন ছিল ধুলোর অর্থাৎ সিংহাসন তিনি ব্যবহার করেননি। ধুলোয় বসেই তিনি, জনসাধারণের মতো থেকেছেন, রাষ্ট্র শাসন করেছেন। কবি হজরত উমর (রা.)-এর এমন উদারতা ও অনাড়ম্বরতাকে আলোচ্য পঙ্ক্তি দ্বারা প্রকাশ করেছেন। 

উত্তর:

উদ্দীপকের রহমান সাহেবের অন্য বাড়ির কাজের মহিলাকে সাহায্য করার সঙ্গে 'উমর ফারুক' কবিতার উমর ফারুক (রা)-এর দুঃখিনী মাকে সাহায্য করার সাথে সংগতিপূর্ণ।

'উমর ফারুক' কবিতায় কবি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.)-এর চরিত্রের বহুমাত্রিক দিক উন্মোচন করেছেন। তার একটি হলো প্রজাবাৎসল্য। প্রজার কল্যাণে তিনি নিজের কাঁধে আটার বস্তা বহন করে গভীর রাতে পৌঁছে দিয়েছেন অভাবী-দুঃখীর ঘরে।

রহমান সাহেব একজন অবস্থাপন্ন মানুষ। এক রাতে তিনি কান্নার শব্দ শুনতে পেলেন। পাশের বাড়ি থেকেই কান্নার শব্দ আসছিল। তিনি সেখানে গিয়ে বিনীতভাবে তাদের সমস্যা জানতে চাইলে গৃহিণী জানালেন যে, তার ছেলের পরীক্ষা। অথচ সেই পরীক্ষার ফি দেওয়ার সামর্থ্য তার নেই। সালাম সাহেব গৃহিণীর হাতে পরীক্ষার ফি দিয়ে নিঃশব্দে চলে এলেন। 'উমর ফারুক' কবিতার হজরত উমর ফারুক (রা) ছিলেন একজন আদর্শ শাসক। মানুষের দুঃখ মোচন করাই ছিল তাঁর একমাত্র কাজ। এক রাতে এক দুঃখী মাকে উনুনে শূন্য হাঁড়ি চাপিয়ে কাঁদতে দেখে বায়তুলমাল থেকে খাদ্য বহন করে তিনি দিয়ে এসেছেন। এভাবে উদ্দীপকের রহমান সাহেবের অন্য বাড়ির কাজের মহিলাকে সাহায্য করার সঙ্গে 'উমর ফারুক' কবিতার উমর ফারুক (রা)-এর দুঃখিনী মাকে সাহায্য করার সাথে সংগতিপূর্ণ। 

উত্তর:

"উদ্দীপকে 'উমর ফারুক' কবিতার আংশিক ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে।"- মন্তব্যটি যথার্থ।

'উমর ফারুক' কবিতায় হজরত উমর (রা)-এর জীবনাদর্শ, চরিত্র মাহাত্ম্য, মানবিকতা এবং সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি সুন্দরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। খলিফা উমর (রা)-এর চরিত্রে একাধারে বীরত্ব, কোমলতা, নিষ্ঠা ও সাম্যবাদী আদর্শের অনন্য সমন্বয় ঘটেছিল। মহৎপ্রাণ ও আদর্শ মানব চরিত্র অর্জনের জন্য উমর ফারুককে কবি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে কবিতায় উপস্থাপন করেছেন।

উদ্দীপকের রহমান সাহেব একজন অবস্থাপন্ন মানুষ। এক রাতে বাড়ি ফেরার সময় তিনি পাশের বাড়ি থেকে কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলেন। সেখানে গিয়ে তিনি কান্নার কারণ জানতে চাইলেন। ওই বাড়ির কাজের মহিলা জানালেন যে, তার ছেলের পরীক্ষার ফি দেওয়ার সামর্থ্য তার নেই। ফলে তার ছেলের পরীক্ষা দেওয়া হবে না। এ কথা শুনে রহমান সাহেব তাকে পরীক্ষার ফি দিয়ে চলে এলেন। এই ঘটনায় সাহেবের মানবতাবাদী মনোভাবের পরিচয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

'উমর ফারুক' কবিতায় হজরত উমর ফারুকের মহানুভবতা প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি ছিলেন একজন আদর্শ শাসক। তিনি ঐশ্বর্যের প্রতি বিমুখ ছিলেন। মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠাই ছিল তাঁর শাসনতন্ত্রের মূলমন্ত্র। যেমন- তিনি একবার তাঁর ভৃত্যকে নিয়ে জেরুজালেম যাচ্ছিলেন। মরুভূমি পাড়ি দেওয়ার সময় তিনি যতটা সময় উটে চড়েছেন, তাঁর ভৃত্যকেও ততটা সময় চড়ার সুযোগ দিয়ে নিজে পায়ে হেঁটেছেন। বায়তুলমাল থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্য নিজ কাঁধে করে দুঃখী মানুষের ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন। এ দিক থেকে বলা যায় যে, উদ্দীপকে 'উমর ফারুক' কবিতার আংশিক ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে। 

9 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘গভীর রাত, দূরের…’ জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ ২০২৬ – উমর ফারুক, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)”