আমাদের দেশে প্রতিবন্ধী অর্থাৎ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের সংখ্যা কোনো ভাবেই উপেক্ষা করার মতো নয়। জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের অধিবাসীদের শতকরা দশ ভাগ প্রতিবন্ধী। বর্তমানে দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে প্রায় দেড় কোটি লোক প্রতিবন্ধী বলে অনুমান করা হয়। বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রের জনসংখ্যার চেয়ে এ সংখ্যা বেশি। এই বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠী অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কল্যাণকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না। অথচ প্রতিবন্ধিতা থেকে মুক্ত করা গেলে কিংবা তাদের কর্মোপযোগী করা গেলে এ বিপুল সংখ্যক মানুষ পরিবার, সমাজ বা দেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারত।
'ঠাকুরঝি' শব্দের অর্থ ননদ, স্বামীর বোন বা শ্বশুরকন্যা।
কান্নার মধ্য দিয়ে দুঃখ লাঘব করার মাধ্যমে মানুষ যে সুখ অনুভব করে সেটিকে 'অন্ধবধূ' কবিতায় অভিহিত করা হয়েছে 'কাঁদার সুখ' বলে। -
'কাঁদার সুখ' বলতে বোঝানো হয়েছে, যখন কোনো ব্যক্তি দুঃখ-কষ্ট সহ্য করতে না পেরে কান্নার মাধ্যমে মনের ভার লাঘব করে; তখন সে মানসিক শান্তি পায়। অন্ধবধূ সেই সুখ থেকেও বঞ্চিত, কারণ সে কাঁদতে পারে না বা তাকে কাঁদতে দেওয়া হয় না। তার দুঃখ এত গভীর যে, কান্নার মাধ্যমেও তা লাঘব করা সম্ভব নয়, বরং কাঁদতে পারার সামান্য সুযোগ পেলেও হয়তো কিছুটা শান্তি পেত। তাই কবি অন্ধবধূর কান্নার বিষয়টিকে নাম দিয়েছেন কাঁদার সুখ।
উদ্দীপকের 'প্রতিবন্ধী' শব্দটি দ্বারা 'অন্ধবধূ' কবিতার অন্ধবধূকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
'অন্ধবধূ' কবিতায় কাঁদারও অধিকার নেই- যা প্রতিবন্ধী তথা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের জীবনের এক তীব্র বেদনা। চোখ না থাকায় সে চোখের জল পর্যন্ত দেখতে পারে না। কাঁদতে না পারায় তার শোক জমতে থাকে হৃদয়ে। এখানে কষ্ট প্রকাশের অসুবিধাকে কবি দারুণভাবে তুলে ধরেছেন। প্রতিবন্ধী মানুষের ব্যথা প্রকাশের পথও সংকুচিত।
উদ্দীপকে প্রতিবন্ধী তথা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ সম্পর্কে বলা হয়েছে। দেখা যায়, দেশের মোট জনসংখ্যার একটি অংশ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন। তাদেরকে উপেক্ষা না করে তাদের প্রতিবন্ধিতা দূর করে তাদের জন্য একটি কর্ম উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। তাহলে তারা দেশ ও জাতির উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবে। 'অন্ধবধূ' কবিতায় এই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষটি হচ্ছে অন্ধবধূ স্বয়ং। এভাবে উদ্দীপকে প্রতিবন্ধী বলতে 'অন্ধবধূ' কবিতার অন্ধবধূকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
উভয় ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার প্রতি গুরুত্ব দেওয়ায় বলা যায়, "উদ্দীপক ও 'অন্ধবধূ' কবিতার উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন" মন্তব্যটি যথার্থ।
'অন্ধবধূ' কবিতায় চোখ না থাকার কারণে শারীরিক নিরাপত্তা সব সময় ঝুঁকিতে থাকে। পথ চলা, সিঁড়ি নামা, পানিতে নামা-সবকিছু ভয় ও অনিশ্চয়তা ভরা। প্রতিটি পদক্ষেপে মৃত্যু বা আঘাতের আশঙ্কা। অন্ধবধূর জীবনের মনকষ্ট ও বেদনা তুলে ধরার মাধ্যমে কবি মূলত বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষের প্রতি সহমর্মী হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষদের কোনো ক্ষেত্রেই উপেক্ষা করা উচিত নয়। কারণ দেশের মোট জনসংখ্যার একটি অংশ বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন। তাদের জন্য কর্ম উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে পারলে তারা বোঝা থেকে উজ্জ্বল সম্ভাবনায় পরিণত হবে। 'অন্ধবধূ' কবিতায় এমনই এক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তথা দৃষ্টিহীন বধূর কথা তুলে ধরা হয়েছে। সে অনুভবের মধ্যে জগতের রূপ-রস-গন্ধ সম্পর্কে জ্ঞান রাখে। নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে নিজেকে অসহায় মনে করে সে।
'অন্ধবধূ' কবিতায় কবি দেখিয়েছেন- সমাজ দৃষ্টিহীনদের অবজ্ঞা করে। মূলত এই নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই তারা নিজেদের অসহায় মনে করে। দৃষ্টিহীনদের অসহায় না ভেবে এবং ঘরের মধ্যে আবন্ধ না রেখে অন্তর্দৃষ্টিকে প্রসারিত করা প্রয়োজন। সেই বিষয়টি কবিতায় সংবেদনশীল ভাষায় উঠে এসেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপক এবং 'অন্ধবধূ' কবিতার উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন।
