A. Nayan
A. Nayan
22 Jun 2026 (3 months ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘মা-বাবার একমাত্র মেয়ে…’ – অন্ধবধূ, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)


Listen to this article
⭐ গুরুত্ব: ★★★★★

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

মা-বাবার একমাত্র মেয়ে রূপা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। চাকরিজীবী মা-বাবা অফিসে চলে গেলে রূপাকে সারাদিন ঘরে বন্দি থাকতে হয়। সে অন্যান্য বালক-বালিকার মতো মাঠে দৌড়াদৌড়ি, খেলাধুলা করতে চাইলেও পারে না। সুন্দর পৃথিবী, ঝিঝি ডাকা সন্ধ্যা, জ্যোৎস্নাপ্লাবিত রাত, গাঁয়ের মেঠোপথ সবকিছু তাকে ব্যথিত করে তোলে। এভাবেই রূপার জীবন কাটে ঘরের কোণে।

উত্তর:

ইন্দ্রিয়সচেতনতার মাধ্যমে দৃষ্টিহীনদের প্রতিবন্ধিতা দূর করা যায়।

উত্তর:

"পায়ের তলায় নরম ঠেকল কী"-বলতে অন্ধবধূর ইন্দ্রিয়সচেতনতার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।

অন্ধবধূ দৃষ্টিহীন। কিন্তু তার অনুভবশক্তি প্রবল। প্রকৃতির রূপ-রস-গন্ধ সবকিছুই সে অনুভব করে। পায়ের তলায় নরম কোনোকিছু ঠেকলে সে ঠিকই বুঝতে পারে সেই বস্তুটা আসলে কী। 'অন্ধবধূ' কবিতায় দেখা যায়, পায়ের তলের নরম বস্তুটি যে বকুল ফুল সেটি সে খুব সহজেই বুঝতে পারে। আসলে আলোচ্য চরণটি দ্বারা অন্ধবধূর এই ইন্দিয়সচেতনতাকে বোঝানো হয়েছে।

উত্তর:

উদ্দীপকটিতে 'অন্ধবধূ' কবিতার অন্ধবধূর প্রতিবন্ধিতার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।

'অন্ধবধূ' কবিতায় শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কঠিন বাস্তবতা ফুটে উঠেছে। অন্ধবধূ চারপাশ বুঝতে পারে শুধু স্পর্শ, শব্দ ও গন্ধে। চলাফেরা থেকে শুরু করে নিরাপত্তা- সব ক্ষেত্রেই সে বিপদের মুখোমুখি হয়। দিঘির সিঁড়ির শেওলায় পিছলে যাওয়ার ভয় তার জীবনকে প্রতিদিন আতঙ্কে রাখে। চোখ থাকলে যা সহজ, তা তার জন্য এক কঠিন সংগ্রাম।

'অন্ধবধূ' কবিতায় অন্ধবধূ দৃষ্টিহীন। এটা নিয়ে সে আক্ষেপ করে। বাড়িতে সে একা, স্বামী পরবাসী। সে অনুভব করে যে, পুকুরে ডুবে মরলে তার অন্ধত্বের অভিশাপ ঘুচে যেত। উদ্দীপকের রূপাও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। ইচ্ছে করলেও অন্যদের সাথে সে খেলাধুলা করতে পারে না। দৃষ্টিহীনতার কারণে প্রকৃতির অনুপম সৌন্দর্য থেকেও সে বঞ্চিত। তার জীবন কাটে একা ঘরের কোণে। এভাবেই উদ্দীপকটিতে 'অন্ধবধূ' কবিতার অন্ধবধূর প্রতিবন্ধিতার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।

উত্তর:

উদ্দীপকের রূপার জীবন এবং 'অন্ধবধূ' কবিতার অন্ধবধূর জীবন সমসূত্রে বাঁধা বলা আংশিক যৌক্তিক, পুরোপুরি নয়।

'অন্ধবধূ' কবিতায় অন্ধবধূ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হলেও প্রকৃতির মধ্যে বিচরণ করে। প্রকৃতির উপাদানের সঙ্গে একাত্ম হয়ে এর রূপ-রস-গন্ধে সে অনুভূতিপ্রবণ হয়ে পড়ে। সবাই তাকে অবহেলা ও অবজ্ঞা করে। এজন্য সে প্রকৃতির মধ্যে নিজের সুখ খুঁজে বেড়ায়। ঘরের কোণে সে থাকতে চায় না।

'অন্ধবধূ' কবিতায় বধূটি অন্ধ হলেও নৈরাশ্যবাদী নয়। চোখে দেখতে না পাওয়ার কারণে তার দুঃখবোধ আছে ঠিকই, তাই বলে জীবনের প্রতি মমত্ববোধহীন নয়। পায়ের নিচে নরম বস্তুর অস্তিত্ব, কোকিলের ডাক মানে নতুন ঋতুর আগমন, পুকুরঘাটে শ্যাওলায় পা পিছলে তলিয়ে যাওয়া, নতুন সিঁড়ি জেগে ওঠার কথা সমস্তই সে বোঝে। অন্যদিকে উদ্দীপকের রূপার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতার কারণে ঘরের কোণে দিন কাটে। সুন্দর পৃথিবীর সৌন্দর্য দেখতে না পাওয়ার ব্যথায় সে ব্যথিত।

রূপা এবং অন্ধবধূর জীবনে অন্ধত্বের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ। অন্ধবধূ রূপার মতো নৈরাশ্যবাদী নয়। সে রূপার মতো ঘরের কোণে বসে থাকে না, বরং নিজের ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপলব্ধি করে। তাই রূপা ও অন্ধবধূর জীবন সমসূত্রে বাঁধা বলাটা পুরোপুরি যৌক্তিক নয়।

8 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘মা-বাবার একমাত্র মেয়ে…’ – অন্ধবধূ, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)”