A. Nayan
A. Nayan
22 Jun 2026 (3 months ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘নিশাতের সাথে ভালোবেসে…’ – অন্ধবধূ, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)


Listen to this article
⭐ গুরুত্ব: ★★★★★

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

নিশাতের সাথে ভালোবেসে বিয়ে হয় তৌহিদের। একদিন তৌহিদ স্ত্রীকে নিয়ে মোটর সাইকেলে শহর থেকে বাড়ি ফেরার পথে মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হয়। দুজনে প্রাণে বেঁচে গেলেও নিশাত দুইটি পা হারিয়ে চিরদিনের জন্য পঙ্গু হয়ে যায়। তৌহিদ ও পরিবারের অন্য সদস্যরাও নিশাতের দৈনন্দিন কাজে যত্ন নিতে থাকে। নিশাত এখন আর নিজেকে অসহায় ভাবে না।

উত্তর:

পায়ের তলায় নরম ঠেকেছিল ঝরা-বকুল।

উত্তর:

বধূটির ঘরে ফিরে যাওয়ার তাড়া ছিল না। কারণ সেখানে তার প্রাণের দোসর কেউ ছিল না।

'অন্ধবধূ' কবিতায় একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের অনুভবের অসাধারণ এক জগৎ ফুটে উঠেছে। প্রকৃতির বিচিত্র রঙের ধারণা ও অনুভবে এই অন্ধবধূ সমৃদ্ধ। বধূটি একদিন তার ননদের সাথে গ্রামের দিঘিতে যায়। সেখানে মায়ের স্নেহের পরশের মতো দিঘির জলে এ বধূ কিছুটা সময় কাটাতে চায়। ননদ তাকে ঘরে ফিরতে তাড়া দেয়। তখন বধূটি তার ননদকে বলে- এত তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে সে কী করবে? সে অন্ধ বলে স্বামী বাড়ি আসতে চায় না। পরিবারে সে যোগ্য মর্যাদা পায় না। সেখানে তো সে একা। তাই একা একা গৃহকোণে পড়ে থাকার জন্য সে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে যেতে চায় না।

উত্তর:

উদ্দীপকে 'অন্ধবধূ' কবিতার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের প্রতি অবজ্ঞার দিক দিয়ে বিপরীত সত্তার পরিচয় পাওয়া যায়।

'অন্ধবধূ' কবিতায় বধূটি বুঝে গেছে, তার নিজের দুঃখ শুধু সেই বুঝবে। কারও কাছে অভিযোগ বা কথা বলার কেউ নেই। তাই প্রকৃতির সাথে কথা বলেই সে বেঁচে থাকে। নদীর শীতলতা তাকে ব্যথা ভুলতে সাহায্য করে। স্বাভাবিক মানুষদের কাছ থেকে অবহেলা অবজ্ঞা পেয়ে সে প্রকৃতির মাঝে খুঁজে নিয়েছে নীরব আশ্রয়।

'অন্ধবধূ' কবিতায় অন্ধবধূ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হলেও অন্ধবধূর অনুভবের জগৎ স্বচ্ছ। সে তার অনুভূতি দিয়ে জগতের রূপ-রস-গন্ধ সম্পর্কে জ্ঞান রাখে। তবু সে নিজেকে সমাজের কর্মময় জীবনের সাথে সম্পৃক্ত করতে পারে না। প্রতিবন্ধিতাহীন মানুষের মতো নিজেকে স্বাভাবিক ভাবতে পারে না। অন্ধত্বের কারণে তার স্বামী প্রবাসী হয়েছে। তার একাকী জীবনযাপনের কথা ভেবে মৃত্যুর মধ্য দিয়ে জীবন থেকে ছুটি নিতে চায়। কবিতার এই অসহায় বধূটির বিপরীত সত্তার অধিকারী আলোচ্য উদ্দীপকের নিশাত। নিশাত দুর্ঘটনায় দুই পা হারিয়ে প্রতিবন্ধী। তার স্বামী তৌহিদ এবং তার পরিবারের লোকজনের আদর-যত্ন ও সহযোগিতার ফলে নিশাত নিজেকে আর অসহায় ভাবে না। সে নতুনভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখে। নিজেকে সে স্বাভাবিক মানুষের মতোই ভাবে। এভাবেই উদ্দীপকে 'অন্ধবধূ' কবিতার বিপরীত সত্তার পরিচয় পাওয়া যায়।-

উত্তর:

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের প্রতি সহানুভূতিশীল হলে তারা নতুনভাবে বাঁচতে শেখে বিধায় "অন্ধবধূর প্রবাসী স্বামী যদি তৌহিদের মতো হতো তবে অন্ধবধূকে এত বিড়ম্বনায় পড়তে হতো না" মন্তব্যটি যথার্থ।

'অন্ন্ধবধূ' কবিতাটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের মানবিক বেদনা, নিঃসঙ্গতা, আত্মমর্যাদা ও প্রকৃতির প্রতি বিশ্বাসের প্রতীক। জীবনের যন্ত্রণাকে সে স্পর্শ, শব্দ ও অনুভূতিতে সান্ত্বনা দেয়। চোখ না থাকলেও তার অনুভূতি জীবন্ত। এইভাবেই কবি এ কবিতায় দৃষ্টিহীনদের প্রতি ভালোবাসা ও সংবেদনশীলতা দেখিয়েছেন।

উদ্দীপকে দুর্ঘটনায় দুই পা হারানোর পরও এক বধূ কীভাবে নিজেকে সমাজের স্বাভাবিক মানুষের মতো মনে করতে পারছে তার নেপথ্য বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এখানে তৌহিদের সাহায্য-সহযোগিতা এবং তার পরিবারের অন্য সদস্যদের সহানুভূতির মাধ্যমে নিশাত স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে সক্ষম হয়েছে। অসহায়-দুর্বলের প্রতি মানুষের সামান্য সহানুভূতি যে তাকে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন বিভোর করে তার জ্বলন্ত প্রমাণ

উদ্দীপকের নিশাতের জীবন। 'অন্ধবধূ' কবিতায় অন্ধবধূর প্রতি তার প্রবাসী স্বামীর অবজ্ঞা ও অবহেলা ফুটে উঠেছে।
'অন্ধবধূ' কবিতায় একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী গ্রাম্যবধূর অসহায় জীবনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে বধূটি ননদের সাথে চলতে গিয়ে দিঘির শ্যাওলাপড়া পিছল ঘাটে পড়ে গিয়ে ডুবে মরার আশঙ্কা করেছে। এভাবে তার অন্ধ চোখের দ্বন্দ্ব চুকে যাওয়ার কথাও সে ভেবেছে। কারণ তার অন্ধত্বের কারণে স্বামী প্রবাসী হয়েছে। সে একাকী অসহায় জীবনযাপনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ। মৃত্যুর মধ্য দিয়েই সে ওই জীবন থেকে মুক্তি চায়। এখানে অন্ধবধূটির স্বামী যদি উদ্দীপকের তৌহিদের মতো স্ত্রীকে সহায়তা করত তাহলে তার নিজেকে এত অসহায় মনে হতো না, সংসার জীবনে তাকে এমন বিড়ম্বনায় পড়তে হতো না। এই বিচারে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।

8 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘নিশাতের সাথে ভালোবেসে…’ – অন্ধবধূ, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)”