A. Nayan
A. Nayan
22 Jun 2026 (3 months ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘বাংলার মুখ আমি…’ – প্রাণ, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)


Listen to this article
⭐ গুরুত্ব: ★★★★★

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর, অন্ধকারে জেগে উঠে ডুমুরের গাছে চেয়ে দেখি ছাতার মতন বড়ো পাতাটির নিচে বসে আছে ভোরের দোয়েল, পাখি- চারদিকে চেয়ে দেখি পল্লবের স্তূপ জাম-বট-কাঁঠালের-হিজলের-অশ্বত্থের করে আছে চুপ।

উত্তর:

কবি মানবের মাঝে বাঁচতে চান।

উত্তর:

কবি মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়ে তাদের সুখ-দুঃখের অংশীদার হওয়ার জন্য এ পৃথিবীতে অমর-আলয় রচনা করতে চান।

'প্রাণ' কবিতায় জনকল্যাণকর কাজের মাধ্যমে জগৎ সংসারে দীর্ঘ জীবন লাভের সংকল্প ব্যক্ত হয়েছে। মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা, আবেগ-ভালোবাসা ছেড়ে কবি অন্য কিছুর লোভ না করে আনন্দের সংগীত নিয়ে মানুষের কাছে আদৃত হতে চান। আলোচ্য চরণটিতে কবি মূলত মানবতার স্বার্থে তাঁর আত্মনিবেদনের দিকটি প্রকাশ করেছেন।

উত্তর:

উদ্দীপকে প্রত্যাশিত বিষয়টি 'প্রাণ' কবিতার ভাবের সাথে পৃথিবীর বিচিত্র প্রকৃতির প্রতি গভীর অনুরাগ নিয়ে এক হয়ে মিশে আছে।

'প্রাণ' কবিতায় কবি মানবজীবনের সঙ্গে প্রকৃতির নিবিড় বন্ধনের কথা বলেছেন। তিনি সূর্য, ফুল, কানন, হাসি-অশ্রু- এসবের মাধ্যমে জীবনের রঙিন সুর তুলে ধরেছেন। তাঁর কাছে জীবন মানেই সৃষ্টি ও অনুভূতির প্রকাশ।

উদ্দীপকে কবি- তার সমগ্র সত্তা দিয়ে জন্মভূমি বাংলাদেশকে ভালোবেসেছেন। এই ভালোবাসা এমনই পরিপূর্ণ যে পৃথিবীর অন্য কোথাও বাংলাদেশের প্রকৃতি ও পরিবেশ, ঐতিহ্য ও ঐশ্বর্যের কোনো বিকল্প আছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। তাঁর কাছে বাংলার সত্যিকারের এই পরিচয়টির সাথে 'প্রাণ' কবিতার ভাবের ঐক্য লক্ষ করা যায়। এই কবিতায় পৃথিবীর প্রতি কবির গভীর মমত্ব ফুটে উঠেছে। তিনি পৃথিবীকে, পৃথিবীর মানুষকে অকৃত্রিমভাবে ভালোবেসেছেন। মৃত্যু যে অমোঘ বিধান তা জেনেও তিনি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে চান। কারণ মৃত্যুকে জয় করা বা মৃত্যুর পর আপন কর্মের মাধ্যমে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা মানুষের চিরন্তন।

উত্তর:

উদ্দীপকে শুভকর্ম করে মানবের মাঝে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষার দিক না থাকায় "উদ্দীপকটি 'প্রাণ' কবিতার আংশিক ভাব মাত্র, পূর্ণ রূপ নয়" মন্তব্যটি যথার্থ।

'প্রাণ' কবিতাটি রবীন্দ্রনাথের জীবনদর্শনের এক উজ্জ্বল নিদর্শন। তিনি শুভকর্মের মাধ্যমে মানুষের মাঝে বেঁচে থাকতে চেয়েছেন। কবিতাটি আমাদের শেখায়- মৃত্যুকে ভয় না পেয়ে জীবনের আনন্দ, সৃষ্টি ও মানবপ্রেমেই সত্যিকার অমরত্ব নিহিত।

উদ্দীপকের কবি বাংলার অপরূপ সৌন্দর্যের সঙ্গে মানুষের গভীর বন্ধনের দিকটি তুলে ধরেছেন। জন্মভূমিকে তিনি তাঁর সমগ্র সত্তা দিয়ে ভালোবেসেছেন, অনুভব করেছেন। তাঁর অনুভবের এই বিষয়টি 'প্রাণ' কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও কবিতার মূলভাব আরও বিস্তৃত। সেখানে কেবল পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রতি মুগ্ধতা নয়, তা মানুষের জন্য মনোমুগ্ধকর করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও যত্নবান হওয়ার ইঙ্গিত আছে। 'প্রাণ' কবিতায় কবি জনকল্যাণকর কাজের মাধ্যমে জগৎসংসারে অমরত্ব লাভের সংকল্প ব্যক্ত করেছেন। তাই তিনি সৃষ্টিকর্মের মাধ্যমে নব নব সংগীতের কুসুম ফোটাতে চেয়েছেন। তিনি মানবতার স্বার্থে আত্মনিবেদন করতে চেয়েছেন।

'প্রাণ' কবিতায় কবি সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা, মিলন-বিরহ, আবেগ-ভালোবাসায় পরিপূর্ণ পৃথিবী রেখে মরতে চান না। আর উদ্দীপকে বাংলার রূপমুগ্ধ কবি পৃথিবীর অন্য কোনো দেশের রূপ দেখতে চান না। এই না চাওয়া একই রকম হলেও বিষয় বিন্যাস এক রকম নয়। উদ্দীপকে মানবকল্যাণে আত্মনিবেদনের কোনো বিষয় নেই। কিন্তু 'প্রাণ' কবিতায় কবি সর্বমানবের সুখ-দুঃখের সংগীত গেঁথে মানব হৃদয়ে অমর-আলয় রচনা করতে চেয়েছেন। এসব কারণে উদ্দীপকটি 'প্রাণ' কবিতার আংশিক ভাব মাত্র পর্ণ রূপ নয়- মন্তব্যটি যথার্থ।

7 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘বাংলার মুখ আমি…’ – প্রাণ, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)”