i. সেই সাতজন নেই আজ টেবিলটা তবু আছে
সাতটা পেয়ালা আজও খালি নেই।
একই সে বাগানে আজ’ এসেছে নতুন কুঁড়ি
শুধু সেই সেদিনের মালি নেই।
ii. মিছা মণি মুক্তা হেম, স্বদেশের প্রিয় প্রেম
তার চেয়ে রত্ন নাই আর।
"দুগ্ধ-স্রোতোরূপী তুমি জন্মভূমি-স্তনে” বলতে কবি কপোতাক্ষ নদের স্নেহধারাকে বুঝিয়েছেন।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবি কপোতাক্ষ নদের স্নেহধারায় সিক্ত হওয়ার কথা, তাঁর শৈশব-কৈশোর কাটানোর স্মৃতিচারণ করেছেন। কপোতাক্ষ নদকে ঘিরে তাঁর অনেক আনন্দ-বেদনার স্মৃতি রয়েছে। মায়ের দুধ পান করে সন্তান যেমন পুষ্ট হয়, ঠিক তেমনই কপোতাক্ষ নদের জলধারা কবির হৃদয়কে তৃপ্ত করেছে। এ কারণেই তিনি কপোতাক্ষ নদকে মায়ের সঙ্গে তুলনা করে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
উদ্দীপক-i-এ 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার স্মৃতিকাতরতার দিকটি ফুটে উঠেছে।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতাটিতে কবি তাঁর শৈশব-কৈশোরের প্রিয় নদের কথা বলেছেন। তিনি বেড়ে উঠেছেন এই নদের সান্নিধ্যে। পরে তিনি ফ্রান্সে বসবাস করার সময় এই নদকে স্মরণ করেছেন। পৃথিবীর অন্য কোনো নদ-নদীই তাঁকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি, কপোতাক্ষকে তিনি ভুলতে পারেননি। তিনি বারবার স্মৃতিকাতর হয়েছেন।
উদ্দীপক-i-এ লেখক তাঁর সোনালি অতীতের কথা স্মরণ করেছেন। সবাই মিলে কফি হাউজে যে আড্ডা দিতেন সেই সোনালি সময়, সোনালি বিকেলের কথা ভেবে তিনি কাতর হন। এর মাধ্যমে তাঁর হারানো সেই দিনগুলো ফিরে পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশিত হয়েছে। 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবি দূর প্রবাসে গিয়ে মাতৃভূমি ও শৈশবের প্রিয় কপোতাক্ষ নদের কথা মনে করে কাতর হয়েছেন। কবি শৈশবে কপোতাক্ষের তীরের প্রাকৃতিক পরিবেশে হেসে-খেলে বেড়ে উঠেছেন। তাই এই নদের কথা তিনি গভীর আবেগে স্মরণ করেন। এই নদের কাছে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন। 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার এই স্মৃতিকাতরতার দিকটিই উদ্দীপক-i এ ফুটে উঠেছে।
"স্তবক-২ যেন 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার মূল চেতনাকেই ধারণ করেছে।"- মন্তব্যটি যথার্থ, কেননা, স্তবক-২-এ 'কপোতাক্ষ নদের মতো স্বদেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবি প্রবাসে থাকাকালীন তাঁর শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদের কথা স্মরণ করেছেন। কবির এই স্মৃতিকাতরতার আড়ালে আসলে তাঁর দেশের প্রতি টান ও হাহাকার প্রকাশ পেয়েছে। স্মৃতিকাতরতার অন্তরালের দেশপ্রেমই এই কবিতার মূল চেতনা।
উদ্দীপকের স্তবক-২-এ স্বদেশের প্রতি কবির গভীর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। ধন-সম্পদ, ঐশ্বর্য প্রভৃতি এই ভালোবাসার কাছে তুচ্ছ হয়েছে। নিজ দেশই কবির তৃষ্ণা দূর করতে পারে। অন্য কিছুতে কবি এতটা তৃপ্ত হতে পারেন না। স্বদেশের প্রতি এমন ভালোবাসা 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায়ও দেখতে পাওয়া যায় প্রবলভাবে। উক্ত কবিতায় কবি দূর প্রবাসে বসেও বারবার তাঁর স্বদেশে থাকা কপোতাক্ষ নদের কাছে ফিরে যেতে চান। তাঁর মধ্যে দেশপ্রেম থাকার কারণেই এমনটা দেখা যায়।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবি তাঁর স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা
প্রকাশ করেছেন। সুদূর প্রবাসে বসবাস করেও কবি তাঁর স্বদেশভূমিকে স্মরণ করেছেন। শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত নদের কথা বলেছেন। তাকে ভুলতে না পারার, তার কাছে ফিরে যেতে না পারার বেদনাধ্বনি উচ্চারিত হয়েছে কবির কণ্ঠে। এখানে কবি তাঁর স্বদেশের ফেলে আসা নদের কথা ব্যথিতচিত্তে স্মরণ করেছেন। কবিতাটি তে মূলত স্মৃতিকাতরতার অন্তরালে কবির অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে। এটিই কবিতার মূল চেতনা। তাই বলা যায়, স্তবক-২ যেন 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার মূল চেতনাকেই ধারণ করেছে।
