(i) তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও-আমি এই বাংলার পারে রয়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে,
(ii) চলে যায় কুয়াশায়,- তবু জানি কোনোদিন পৃথিবীর ভিড়ে হারাব না তারে আমি- সে যে আছে আমার এ বাংলার তীরে।
উদ্ধৃত পঙ্কক্তির মাধ্যমে কবি কপোতাক্ষ নদের প্রতি তাঁর মাতৃপ্রতিম স্নেহাভিলাষ ও দেশপ্রেমকে বোঝাতে চেয়েছেন।
কবি দীর্ঘসময় দেশ ছেড়ে প্রবাসী হয়েছেন। সেখানে বিভিন্ন স্থান পরিভ্রমণে তিনি অনেক নদনদীর সাক্ষাৎ পেয়েছেন। কিন্তু সেগুলো কবির অন্তরের তৃষ্ণা মিটাতে পারেনি। কারণ একমাত্র কপোতাক্ষকে তিনি মাতৃরূপে বন্দনা করেন; যা তাঁর দেশপ্রেমেরও স্মারক। এ কারণে এ নদের স্নেহরূপ বারিধারাই কেবল তাঁর তৃষ্ণা নিবারণ করতে পারে।
উদ্দীপক (i)-এ 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার স্বদেশপ্রেমের দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় দেখা যায়, কবি প্রবাস জীবনেও স্বদেশপ্রেমে কাতর। কবি প্রথম জীবনে ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি অনুরক্ত হয়ে মাতৃভূমি ছেড়ে প্রবাসে চলে যান। কিন্তু ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন মাতৃভূমি ও মাতৃভাষার প্রকৃত গুরুত্ব। আবার এ কবিতায় কবির শৈশবের নদ কপোতাক্ষকে কেন্দ্র করে ভালোবাসার তীব্র অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। জন্মভূমির এই নদ কবিকে যেন মায়ের স্নেহাদরে বেঁধে রেখেছে। কিছুতে তিনি তাকে ভুলতে পারেন না।
উদ্দীপক (i)-এ নিজের জন্মভূমি বাংলাদেশকে ভালোবাসার আকুতি প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপকের কথককে একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক বললে অত্যুক্তি হবে না। কেননা সবাই যেখানে খুশি চলে যাক। তিনি কোথাও যাবেন না। তিনি নাড়ির টানে স্বদেশেই থাকবেন। স্বদেশের আলো বাতাস, বৃক্ষ-লতাই তার কাছে প্রিয়। এগুলোর সাথে তার মায়ার বন্ধন তৈরি হয়েছে। যা কখনোই ছিন্ন করা যাবে না। তিনি স্বদেশকে দেখবেন মায়াবী চোখে। যেখানে ভোরের বাতাসে কাঁঠালপাতা ঝরে পড়ে। এমন স্বদেশপ্রেমচেতনা 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার কবির মধ্যেও লক্ষণীয়। এ নদের মাধ্যমে কবির গভীর দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। যার প্রতিফলন (i)-নং উদ্দীপকেও বিদ্যমান।
উদ্দীপক (ii)-এ ফুটে ওঠা দিকটি 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার সম্পূর্ণভাবের প্রতিফলন নয়- মন্তব্যটি যৌক্তিক।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতাটিতে কবির শৈশব স্মৃতির নানা ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। কবি প্রবাসে বসে সেই স্মৃতির আপলনা এঁকে চলেছেন। যেখানে বর্তমানে স্থান পাচ্ছে স্বদেশপ্রেমের চেতনা ও গুরুত্ব। প্রবাসে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন মাতৃভূমি কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্দীপক (ii)-এ এমন স্মৃতিভাবনা প্রতিফলিত হয়নি। এখানে দেখা যায় প্রিয় কোনো জিনিস চলে যাবে। তাতে উদ্দীপকের কথকের কোনো চিন্তা হয় না। যে চলে যাবে সে তো যাবেই- তাকে আটকিয়ে রাখার ক্ষমতা কারোরই নেই। কিন্তু কথকের মন যে মানে না। এতে বাংলার কোথাও না কোথাও তাকে খুঁজে পাবে সে। তার এমন বিশ্বাস স্বদেশপ্রেমেরই নামান্তর। তবে এর পরিসর খুবই স্বল্প।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতাটিতে শৈশবের নদীকেন্দ্রিক কবিমনের তীব্র অনুভূতি প্রকাশিত হয়েছে। এই নদের কাছে কবির সবিনয় মিনতি, বন্ধুভাবে তাকে তিনি স্নেহাদরে যেমন স্মরণ করেন; কপোতাক্ষও যেন একইভাবে তাকে সস্নেহে স্মরণ করে। কবির মনের এমন কাতরতা প্রবাস জীবনে স্বদেশের প্রতি গভীর দেশপ্রেমেরই বহিঃপ্রকাশ। (ii)-নং উদ্দীপকে এমন গভীর দেশপ্রেমচেতনা ফুটে উঠেনি। তবে ভিন্ন আঙ্গিকে স্বল্প পরিসরে প্রিয় জিনিস না হারানো বক্তব্যে দেশপ্রেম ফুটে উঠেছে। তাই বিষয়ের বিস্তৃতি, স্মৃতিময় শৈশব আর প্রবাস জীবনে জাগ্রত দেশপ্রেমের দিক থেকে যৌক্তিকভাবেই বলা যায় (ii)-নং উদ্দীপক আলোচ্য কবিতার সম্পূর্ণ ভাবের প্রতিফলন নয় আংশিক প্রতিফলন।
