উদ্দীপক-১ :
ধন ধান্য পুষ্পভরা আমাদের এই বসুন্ধরা
তাহার মাঝে আছে দেশ এক সকল দেশের সেরা
ও সে স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে দেশ স্মৃতি দিয়ে ঘেরা।
উদ্দীপক-২ :
‘হাটে মাঠে বাটে এই মতো কাটে বছর পনেরো-ষোলো
একদিন শেষে ফিরিবারে দেশে বড়োই বাসনা হলো।
অবারিত মাঠ, গগন ললাট চুমে তব পদধূলি-
ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড় ছোটো ছোটো গ্রামগুলি।’
কবির কাছে জন্মভূমি মায়ের মতো বলে কপোতাক্ষ নদকে তিনি ‘দুগ্ধ-স্রোতোরূপী’ বলেছেন।
কপোতাক্ষ কবির স্নৃতিবিজড়িত একটি নদ। মা যেমন তার সন্তানকে নিবিড় মমতায় বুকের দুধ পান করিয়ে বাঁচিয়ে রাখেন, তেমনি কপোতাক্ষের জল বাংলার জনপদের মাঝে প্রাণসঞ্চার করে। তাই কবি কপোতাক্ষ নদের জলকে ‘দুগ্ধ-স্রোতোরূপী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
উদ্দীপক-২এ স্মৃতিকাতরতা প্রকাশ পেয়েছে, যা ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার অন্যতম প্রধান বিষয়।
‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রবাসে বসে স্বদেশের তথা নিজ গ্রামের প্রতি গভীর আকর্ষণ অনুভব করেন। স্মৃতিকাতরাতায় বিভোর কবি অনেকটা বেদনার্ত হয়ে পড়েন শৈশবের নানা স্মৃতি বিজড়িত স্থানকে মনে করে। পরম যত্নে লালিত-পালিত হয়ে যে স্নেহচ্ছায়ায় তিনি বেড়ে উঠেছেন আজ তা থেকে অনেক দূরে। যে ইংরেজি সাহিত্য. যে বিদেশী সংস্কৃতি তাকে এতো বেশি টানতো আজ সব তুচ্ছ মনে হচ্ছে কবির। আজ শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত সেই ‘কপোতাক্ষ নদ’ এর কাছে বাকি সব তুচ্ছ। তিনি কপোতাক্ষের শীতল জলে অবগাহন করে প্রাণ জুড়াতে চান। নদীর সেই কলকল ধ্বনি আজ কবিকে মন্ত্রমুগ্ধের মতো আবিষ্ট করে রেখেছে। তিনি সেই স্মৃতির দেশে ফিরে আসার জন্য ব্যকুল হয়ে আছেন।
মূলত উদ্দীপক-২ ও ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় স্মৃতিকাতরতার বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। যে দিক বিচারে উদ্দীপক-২ ও ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি সম্পর্কযুক্ত।
উদ্দীপক-১এ সুগভীর দেশপ্রেমের জয়গান ধ্বনি হয়েছে। আর ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মূল বক্তব্যও সেটিই।
‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় শৈশবের স্মৃতিকাতরতার আড়ালে স্বদেশপ্রেমের বহিপ্রকাশ ঘটেছে। এ নদকে কেন্দ্র করে কবির শৈশব অতিবাহিত হয়েছে। মূলত প্রবাস জীবনের সুখ-ঐশ্বর্য কোনোকিছুই ‘কপোতাক্ষ নদের’ মতো নয়। এ নদের জলে স্নেহ-তৃষ্ণা মেটানোর পাশাপাশি তাকে পরম স্নেহডোরে আপন করে নেওয়ার যে অনুভূতি তা কবি প্রবাসে বসেও ভুলতে পারেননি। স্মৃতিকাতরতায় বারবার ফিরে এসেছেন এই কপোতাক্ষের তীরে। প্রতিনিয়ত তৃষ্ণার্ত হয়ে খুঁজে ফিরেছেন কপোতাক্ষ নদকে।
উদ্দীপকের প্রথম স্তবকেও তেমনি স্বদেশপ্রেমের প্রকাশ ঘটেছে। যেখানে নিজ দেশকে গভীরভাবে অনুভব করা হয়েছে। যেনো সে দেশ সকল দেশের সেরা। অনেক স্মৃতি ও স্বপ্নের সে দেশ ধনসম্পদে পরিপূর্ণ। পুষ্পভরা সে দেশের সৌন্দর্য তাকে পৃথিবীর সেরা দেশ আখ্যা দিয়েছে। তাইতো সে দেশের প্রতি এতো গভীর মমত্ব। বারবার সে দেশেরই প্রশান্তিগানে মুখরিত প্রাণ। এটা মূলত দেশপ্রেমবোধেরই অংশ। যার প্রকাশ আমরা ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় দেখতে পাই।
তাই একথা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত যে, উদ্দীপক-১এর বক্তব্য ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মূলভাবের নামান্তর।
