স্তবক-১ : একবার যেতে দে না আমায় ছোট্ট সোনার গাঁয়
যেথায় কোকিল ডাকে কুহু
দোয়েল ডাকে মুহু মুহু
নদী যেথায় ছুটে চলে আপন ঠিকানায়।
স্তবক-২: মিছা মণি মুক্তা হেম, স্বদেশের প্রিয় প্রেম,
তার চেয়ে রত্ন নাহি আর।
সুধাকরে কত সুধা দূর করে তৃষা ক্ষুধা,
স্বদেশের শুভ সমাচার।
কবির সংশয়ের কারণ তাঁর স্বদেশের সান্নিধ্য লাভের অনিশ্চয়তা।
কবি তাঁর মাতৃভূমিকে গভীরভাবে ভালোবাসেন। আর তাই প্রবাসে থেকেও তিনি মাতৃভূমির প্রিয় নদ কপোতাক্ষের কথা ভেবে বিভোর হন। কপোতাক্ষের মধুর স্মৃতি তাঁর মনে সদা জাগরূক। সংগত কারণেই দীর্ঘ প্রবাস জীবনে প্রিয় নদের সান্নিধ্য লাভের ব্যাকুলতা থেকে তাঁর মনে সংশয়ের সৃষ্টি হয় যে, তিনি আর কপোতাক্ষের দেখা পাবেন কি না।
স্তবক-১ 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় ফুটে ওঠা কবির জন্মভূমিপ্রীতির দিকটির ইঙ্গিত বহন করে।
নদীমাতৃক বাংলাদেশের মানুষের জীবনে নদী গভীরভাবে প্রভাব বিস্তার করে। নদী তীরের প্রকৃতি ও রূপবৈচিত্র্য এদেশের মানুষের শৈশব ও কৈশোরের জীবনকে আনন্দমুখর করে তোলে। মানুষ যে প্রকৃতির মধ্যে বেড়ে ওঠে সেটা অজান্তেই তার মনে গভীর রেখাপাত করে।
উদ্দীপকে কোকিলের কুহু কুহু, দোয়েলের মুহু মুহু ডাকে পাগল করা ছোট্ট সোনার গায়ে কবি যেতে চান, যেখানে নদী ছুটে চলে অবিরাম আপন ঠিকানায় বিলীন হতে। 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায়ও প্রবাসী কবির নিজ জন্মভূমির পাশ দিয়ে প্রবাহিত কপোতাক্ষ নদকে মনে পড়ে। কপোতাক্ষের কলকল ধ্বনি কবির কাছে নিশার স্বপনে মায়ামন্ত্র ধ্বনির মতো মনে হয়। শুধু তাই নয়, তিনি বহু দেশ ঘুরে বহু নদী দেখলেও স্বদেশের কপোতাক্ষ নদীর জলই কেবল তাঁর স্নেহতৃষ্ণা মেটাতে পারে। কবিদ্বয়ের এমন অনুভব তাদের জন্মভূমির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসাকেই তুলে ধরে।
"স্তবক-২ যেন 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার মূল চেতনাকেই ধারণ করেছে।"- উক্তিটি যথার্থ।
জন্মভূমি প্রতিটি মানুষের কাছে পরম ভালোবাসার। জন্মভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কেউ কখনো ভালো থাকতে পারে না। দেশের আলো-বাতাস প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধ করে। তাই মাতৃভূমির সাথে প্রতিটি মানুষের রয়েছে গভীর সম্পর্ক।
উদ্দীপকে স্বদেশ বা জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসা ও মমত্ববোধের দিকটি ফুটে উঠেছে। এখানে সম্পদের চেয়ে দেশপ্রেমকে অধিক গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হলে স্বদেশের অনুভূতি হৃদয়কে আন্দোলিত করে। এ জন্য 'কপোতাক্ষ নদ; কবিতায় কবি প্রবাসজীবনেও কপোতাক্ষ নদের কলকল ধ্বনি শুনতে পান। কবি অনেক দেশের নদনদী দেখেছেন, অনেক দেশ ঘুরেছেন। কিন্তু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ আর কোনো দেশ ও নদনদী তাঁকে বিমোহিত করতে পারেনি।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় স্মৃতিকাতরতার আবরণে মূলত কবির অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেমের চিত্র ফুটে উঠেছে। মূলত 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় দেশের প্রতি কবির গভীর হৃদয়ের আর্তিই স্তবক-২ এ প্রতিধ্বনিত হয়েছে। তাই কবি শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদকে ভুলতে পরেননি। এ নদ কবিকে অনন্য ভালোবাসায় সিক্ত করেছে, মায়ের স্নেহডোরে বেঁধে তাঁর শৈশবস্মৃতি জাগ্রত করেছে। সুদূর প্রবাসে বসে কবি কপোতাক্ষ নদের কলকল ধ্বনি শুনতে পান। তাইতো ভালোবাসা প্রত্যাশী কবি এই নদের স্নেহধারায় মিশে ফিরে আসতে চান তাঁর প্রিয় জন্মভূমিতে।
