(i) সুরমার তীরে হয়নি বসা
সে তো অনেক কাল
হয় না দেখা উথাল হাওয়ায়
উড়ছে নায়ের পাল।
(ii) একটা নদী কলকলিয়ে দুলদুলিয়ে চলে
দুই কূলে তার দুষ্থ-সুখের হাজার কথা বলে।
রাগলে নদী গর্জনে তার বুক কাঁপে থরথর
শান্ত হলে অনেক সুখে জাগায় বুকে চর।
চরের বুকে বাঁধলে সে ঘর প্রাণের মেলায় হাসে
শান্ত নদী যমুনা সে জীবন ভালোবাসে।
‘জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে’ বলতে কবি আশার ছলনায় নিজের মনকে তৃত্ত করার কথা বুঝিয়েছেন।
‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবি সুনাম অর্জনের আশায় নিজ দেশ ও দেশের সংস্কৃতি পরিত্যাগ করে সুদূর ফ্রান্সে চলে গিয়েছেন। প্রবাসজীবনে মাতৃভূমি ও মাতৃভাষার প্রতি তাঁর তীব্র আকর্ষণ অনুভূত হয়। এ সময় তিনি কপোতাক্ষ নদের কথা ভেবে সৃতিকাতর হয়ে পড়েন। অনুভূতির গভীরে কপোতাক্ষকে স্থান দেন বলেই কবির মনে হয় তিনি যেন সে নদীর কলধ্বনি শুনছেন। প্রশ্নোক্ত উক্তির মাধ্যমে কবি নিজের আত্মতৃপ্তির বিষয়টিকেই বুঝিয়েছেন।
উদ্দীপক (i)-এ ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় প্রকাশিত অতীতের স্মৃতি-রোমন্থনের দিকটি ফুটে উঠেছে।
‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় শৈশবের স্মৃতিবিজরিত কপোতাক্ষকে কেন্দ্র করে কবির স্মৃতিকাতরতা প্রকাশিত হয়েছে। কবি কপোতাক্ষ তীরবর্তী সাগরদারি গ্রামে তার ছেলেবেলা কাটিয়েছেন। সংগত কারণেই এ নদের সাথে তাঁর এক ধরনের আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তাই প্রবাসে অবস্থান করলেও প্রিয় এ নদের কথা তিনি মুহূর্তের জন্যও বিস্মৃত হতে পারেননি।
উদ্দীপকের স্তবক (i)-এ অতীতের স্মৃতিকাতরতার চিত্র ফুটে উঠেছে। একসময় সুরমা নদীর তীরে কবির আনন্দময় সময় কেটেছে। কিন্তু নানা ব্যস্ততার কারণে সৃতিবিজরিত সেই স্থানটিতে বহুদিন যাওয়া হয়নি তার। সংগত কারণেই এ কবিতাংশের কবি অতীতের সেই মধুর স্মৃতি মনে করে আবেগাপ্লুত হয়েছেন। একইভাবে, আলোচ্য ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবি অতীতের স্মৃতি-রোমন্থন করেছেন। সেখানে প্রবাসী কবি শৈশবের প্রিয় নদ কপোতাক্ষকে ঘিরে তাঁর হৃদয়াবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। যেখানে দেশ থেকে বহুদূরে থাকলেও সখারূপী কপোতাক্ষকে ঘিরে ছোটোবেলার সোনালি স্মৃতি কিছুতেই বিস্মৃত হতে পারেননি। এদিক বিবেচনায়, উদ্দীপক (i)-এ ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় প্রকাশিত অতীতের স্মৃতি-রোমন্থনের দিকটি ফুটে উঠেছে।
"উদ্দীপকের স্তবক-(ii)-এ ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মূল চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে।"- মন্তব্যটি যথার্থ নয় বলেই আমি মনে করি।
‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবি কপোতাক্ষ নদকে ঘিরে স্মৃতিকাতরতার বহিষ্প্রকাশ ঘটিয়েছেন। এ নদ কবির শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত। সংগত কারণেই সুদূর প্রবাস জীবনে থেকেও কবি তাঁর প্রিয় নদকে কোনোভাবেই ভুলতে পারেননি। আর তাই এ নদের কথা ভেবে প্রবাস জীবনেও তিনি আবেগতাড়িত হয়েছেন।
উদ্দীপকের স্তবক-(ii)-এ নদীকেন্দ্রিক জনজীবনকে উপজীব্য করা হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ নদী যমুনার সাথে দুই তীরের জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ককে তুলে ধরা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সেখানে সাধারণ জনজীবনের ওপর এ নদীর রুদ্র ও কোমল রূপের সীমাহীন প্রভাবের কথা বলা হয়েছে। যেখানে এ নদীর শান্ত রূপ আশপাশের জনজীবনে প্রাণের সঞ্চার করে আবার এ নদীরই রুদ্র রূপ সবকিছু তছনছ করে দেয়।
‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবি তাঁর মাতৃভূমিকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসেন। আর সে ভালোবাসা থেকেই তিনি কপোতাক্ষকে আশ্রয় করে মাতৃভূমি ও মাতৃভাষার প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসার কথা বঙ্গবাসীর কানে পৌছে দিতে চেয়েছেন। এক্ষেত্রে প্রবাসে অবস্থান করেও কপোতাক্ষ নদের প্রতি তাঁর যে অনুরাগ, তা মূলত কবির দেশাত্ববোধেরই নামান্তর। পক্ষান্তরে, উদ্দীপকের স্তবক-(ii)-এ যমুনা নদীর কোমল ও কঠোর রূপ এবং আশপাশের জনজীবনের ওপর এর প্রভাবের কথা বলা হয়েছে, যা আলোচ্য কবিতার কবির দেশাত্ববোধ বা স্মৃতিকাতরতার ভাবনার থেকে অনেকটাই ভিন্ন। সে বিবেচনায় উদ্দীপকের স্তবক-(ii) ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মূল চেতনাকে ধারণ করতে পারেনি।
