A. Nayan
A. Nayan
22 Jun 2026 (3 months ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘উদ্দীপক-১:”যে নদে ঝাঁপিয়ে…’ বরিশাল বোর্ড ২০২৫ – কপোতাক্ষ নদ, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)


Listen to this article
🏫 বোর্ড: বরিশাল বোর্ড📅 সাল: ২০২৫⭐ গুরুত্ব: ★★★★★

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

উদ্দীপক-১:

“যে নদে ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রতিদিন কেটেছি সাঁতার
আমার শরীরে আজও তাহার ঢেউয়ের ছোঁয়া টের পাই,

যেন মায়ের আদর মাখা দু হাতের দোলা।

সুবিশাল আমাজান কিংবা নীল নদের বাহুডোরে

এমন সুস্বাদু স্নেহ পাই নি তো আমি।”

 

উদ্দীপক-২: 

মধুর চেয়েও আছে মধুর সে এই আমার দেশের মাটি, 

আমার দেশের পথের ধুলা খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি।

উত্তর:
উত্তর:

"দুগ্ধ-স্রোতোরূপী তুমি জন্মভূমি-স্তনে" বলতে কবি কপোতাক্ষ নদের স্নেহধারাকে বুঝিয়েছেন।

'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবি কপোতাক্ষ নদের স্নেহধারায় সিক্ত হওয়ার কথা, তাঁর শৈশব-কৈশোর কাটানোর স্মৃতিচারণ করেছেন। কপোতাক্ষ নদকে ঘিরে তাঁর অনেক আনন্দ-বেদনার স্মৃতি রয়েছে। মায়ের দুধ পান করে সন্তান যেমন পুষ্ট হয়, ঠিক তেমনই কপোতাক্ষ নদের জলধারা কবির হৃদয়কে তৃপ্ত করেছে। এ কারণেই তিনি কপোতাক্ষ নদকে মায়ের সঙ্গে তুলনা করে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।

উত্তর:

উদ্দীপক-১-এ 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার কপোতাক্ষ নদকে ঘিরে কবির শৈশবস্মৃতির দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার কবির অনুভূতির সঙ্গে মিলে যায়। এ কবিতায় কবি দূর প্রবাসে অবস্থানকালে মাতৃভূমির বুকে বয়ে চলা তার শৈশব-কৈশোরের প্রিয় কপোতাক্ষকে ভুলতে পারেন না। বহু দূরে থেকেও যেন তিনি কপোতাক্ষ নদের জলধারার কলকল ধ্বনি শুনতে পান। এ নদের সঙ্গে গভীর বন্ধনের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। এ নদের জল তাঁর কাছে মাতৃদুগ্ধের ন্যায়।
উদ্দীপক-১-এর কবিতাংশে কবি প্রিয় নদের কাছে কাটানো শৈশবের স্মৃতি রোমন্থন করেছেন। তিনি প্রতিদিন সেই নদে ঝাঁপিয়ে পড়ে সাঁতার কেটেছেন, আনন্দে মেতে উঠেছেন। সেই ছোঁয়া তার শরীরে যেন এখনো লেগে আছে। জন্মভূমির নদ ছেড়ে কবি সুবিশাল আমাজান, নীল নদ প্রভৃতি বহু দেশের নদ নদী দেখতে গিয়েছেন। তবুও মায়ের আদর মাখানো জন্মভূমির নদের স্নেহ-মমতা অন্য কোথাও খুঁজে পাননি। কবির এই অনুভূতিতে কপোতাক্ষ নদকে ঘিরে কবির শৈশবস্মৃতির প্রতিফলন ঘটেছে।

উত্তর:

হাঁ, উদ্দীপক-২-এর ভাবার্থ 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার মর্মার্থকে স্পর্শ করেছে।

'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবির স্মৃতিকাতরতার আবরণে তাঁর অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে। কবি কপোতাক্ষ নদের জলে যে তৃপ্তি পান, তা পৃথিবীর অন্য কোনো নদ-নদীর জলে পান না। এ নদের তীরে করিব শৈশব-কৈশোর কেটেছে। প্রবাসজীবনে তাই তিনি এ. নদের কথা স্মরণ করে আবেগে আপ্লুত হয়েছেন। প্রিয় স্বদেশের প্রতি গভীর অনুরাগের ফলেই কবি তাঁর শৈশবের নদকে গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন এবং স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েছেন।

উদ্দীপক-২-এর কবিতাংশে জন্মভূমির প্রতি গভীর অনুরাগ ও ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। কবির দেশের মাটি সবার চেয়ে খাঁটি। তাঁর পথের ধুলাকে তিনি খাঁটি সোনার চেয়েও খাঁটি বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর দেশের মাটির মমতা মধুর চেয়েও মধুর। স্বদেশের প্রতি কবির এ অনুরাগ মূলত স্বদেশের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা। উদ্দীপক-২-এর কবির এ স্বদেশপ্রেমের সঙ্গে 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় প্রতিফলিত কবির স্বদেশপ্রীতি সাদৃশ্যপূর্ণ। কবিও জন্মভূমির প্রিয় নদকে স্মরণ করে স্বদেশের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। কপোতাক্ষ নদকে কেন্দ্র করে তাঁর শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিকে তুলে ধরার মাঝে তাঁর গভীর দেশপ্রেমের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়।

'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবির শৈশবের প্রিয় নদের কাছে ফেরার আকুতিতে তাঁর স্বদেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। কবি মিনতি করেছেন তিনি যেমন কপোতাক্ষ নদকে মনে রেখেছেন, তেমনই কপোতাক্ষ নদও যেন তাঁকে মনে রাখে। 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবির স্মৃতিকাতরতার অন্তরালে এই দেশপ্রেমই মুখ্য হয়ে উঠেছে।

8 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘উদ্দীপক-১:”যে নদে ঝাঁপিয়ে…’ বরিশাল বোর্ড ২০২৫ – কপোতাক্ষ নদ, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)”