(ⅰ)
সে যেন আমার পাশে আজো বসে আছে
চলে গেছে দিন তবু আলো রয়ে গেছে।
(ii)
ভেঙ্গে যাওয়া পাখির বাসার মতো মন
কিছু নেই তার বুকে আজ তো এখন
ডানা মেলে ফিরে কেন আশা তারই কাছে।
◉ 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবি ভ্রান্তির ছলনে কান জুড়িয়েছেন।
◉ 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবি প্রবাসে বসে তাঁর শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদকে স্মরণ করেছেন। কবি বিদেশে অবস্থানকালে নানা দেশে ঘুরে নানা নদ-নদী দেখেছেন। তথচ সেগুলোর কোনোটিই কবির মনের তৃষ্ণা নিবারণ করতে পারেনি। কবির মন বারবার ছুটে যায় কপোতাক্ষ নদের কাছে। তবে তার কাছে ফেরার সুযোগ কবির ছিল না। তাই তিনি ভ্রান্তির ছলনায় নদের কলকল ধ্বনি শুনে নিজের কান জুড়িয়েছেন।
◉ উদ্দীপক (i)-এ প্রতিফলিত দিক 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার কবির স্মৃতিকাতরতার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
◉ 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবির স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদের তীরে কবির শৈশব কাটলেও তিনি যৌবনে পাড়ি দিয়েছিলেন বিদেশে। সেখানে বসবাসকালে শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি তাঁর মনে জাগিয়েছে কাতরতা। দূর প্রবাসে থেকেও তিনি তাঁর প্রিয় নদ কপোতাক্ষের কলকল ধ্বনি শুনতে পান। স্বদেশের এই নদ যেন তাঁকে স্নেহডোরে বেঁধে রেখেছে। কিছুতেই তিনি তাকে ভুলতে পারেন না।
◉ উদ্দীপক (i)-এ এমন একজনের কথা কবি বলেছেন যে অনেক দিন আগে চলে গেলেও কবির কাছে মনে হয় সে যেন আজও তাঁর পাশে বসে আছে। তার আলো আজও রয়ে গেছে। এর মাধ্যমে মানুষটির প্রতি কবির স্মৃতিকাতরতা প্রকাশ পেয়েছে। 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার' কবিও প্রবাসে বসে তাঁর স্মৃতিবিজড়িত প্রিয় কপোতাক্ষ নদকে স্মরণ করছেন। তিনি প্রবাসে বসেও কপোতাক্ষ নদকে ভুলতে পারেন না। এভাবে উদ্দীপক (i)-এ 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার কবির মনোভাবের স্মৃতিকাতরতার দিকটিই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
◉ 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবির স্মৃতিকাতরতার আবরণে তাঁর যে অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে তার সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা বলে “উদ্দীপক (ii) 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার প্রধান ভাব ধারণ করেছে”- কথাটি পুরোপুরি সত্য।
◉ 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবির স্মৃতিকাতরতার আবরণে তাঁর অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে। কবি কপোতাক্ষ নদের জলে যে তৃপ্তি পান, তা পৃথিবীর অন্য কোনো নদ-নদীর জলে পান না। এ নদের তীরে কবির শৈশব-কৈশোর কেটেছে। প্রবাসজীবনে তাই তিনি এ নদের কথা স্মরণ করে আবেগে আপ্লুত হয়েছেন। প্রিয় স্বদেশের প্রতি গভীর অনুরাগের ফলেই কবি তাঁর শৈশবের নদকে গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন এবং স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েছেন।
◉ উদ্দীপক (ii)-এ কবি তাঁর প্রিয় মানুষটির কাছে ফিরে যেতে চান। অথচ প্রিয় মানুষটির বুকে তেমন কিছুই নেই, সেটি যেন ভেঙে যাওয়া পাখির বাসার মতো। প্রিয়জনের কাছে কবির এমন ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষা যেন 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবির জন্মভূমির কাছে বারবার ফিরে আসার তীব্র আকাঙ্ক্ষাকে নির্দেশ করে, যার অন্তরালে কবির প্রবল দেশপ্রেম ফুটে উঠেছে।
◉ 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবি প্রবাসে বসেও তাঁর প্রিয় মাতৃভূমিকে বারবার স্মরণ করেছেন। কপোতাক্ষ নদকে স্মরণ করে তিনি এই নদের কাছে তথা স্বদেশের কাছে ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন। তার এই উপলব্ধি জন্মভূমির প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ, ভালোবাসা ও মমত্ববোধের প্রকাশ, যা দেশপ্রেম থেকে উদ্ভূত। এটিই 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার কবির মূল চেতনা, যা উদ্দীপক (ii)-এ কবির স্মৃতিকাতরতার অন্তরালে প্রকাশ পেয়েছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
