এ আমার শৈশবের নদী…
অদূরের বিল থেকে পানকৌড়ি, মাছরাঙা, বক
পাখায় জলের ফোঁটা ফেলে দিয়ে উড়ে যায় দূরে;
জনপদে কী অধীর কোলাহল মায়াবী এ নদী
এনেছে স্রোতের মতো, আমি তার খুঁজিনি কিছুই।
◉ "কিন্তু এ স্নেহের তৃষ্ণা মিটে কার জলে"- চরণটিতে জন্মভূমির প্রতি কবির গভীর অনুরাগ ও দেশপ্রেমকে বোঝানো হয়েছে।
◉ 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় তাঁর গভীর অনুভবে প্রবাসে থেকেও কপোতাক্ষ নদের জলধারার কলকল ধ্বনি শুনতে পান। এই নদ যেন কবিকে মায়ের স্নেহডোরে বেঁধে রেখেছে। তাই সেই নদের স্নেহধারা পেতে তিনি ব্যাকুল হন। তাঁর সমস্ত স্নেহতৃষ্ণার জল যেন বুকে ধারণ করে বয়ে চলছে কপোতাক্ষ। পৃথিবীর বহু দেশ ঘুরে বহু নদ-নদী তিনি দেখেছেন। তবু কপোতাক্ষকে তিনি ভুলতে পারেন না। কারণ কপোতাক্ষ তাঁকে যে মাতৃস্নেহে জড়িয়ে রেখেছে তা পৃথিবীর অন্য কোনো নদ-নদী পারেনি। তাই কবি স্বদেশে ফিরে গিয়ে মায়ের স্নেহডোরে নিজেকে বাঁধতে চান, কপোতাক্ষের জলে তাঁর স্নেহের তৃষ্ণা নিবারণ করতে চান।
◉ উদ্দীপকের সঙ্গে 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার সংগতিপূর্ণ দিকটি হলো কবির মাতৃসম কপোতাক্ষ নদের প্রতি স্মৃতিকাতরতা।
◉ 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবির বর্ণনায় মাতৃভূমির প্রতি স্মৃতিকাতরতা উঠে এসেছে। ইংরেজ ভাবধারায় পুষ্ট কবি আত্মপ্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে মাতৃভূমি ছেড়ে ফ্রান্সে পাড়ি জমান। কিন্তু বিদেশে অবস্থানকালে দেশের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম টান উপলব্ধি হতে থাকে। তিনি জন্মভূমি ও শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত নদ কপোতাক্ষের কথা বিদেশের মাটিতে বসে স্মরণ করেন। তিনি নানা জায়গায় ঘুরে নানা নদ-নদী দেখেছেন কিন্তু কপোতাক্ষ নদের কলতানে যে প্রশান্তি তা অন্য কোথাও খুঁজে পাননি। তিনি আবারও মাতৃরূপী এই নদের কাছে ফিরতে চেয়েছেন।
◉ উদ্দীপকে কবি তার শৈশবের নদীর কথা বলে চেনা এ নদীর কথা মনে করে স্মৃতিকাতর হয়েছেন। কবির সেই নদীতে পানকৌড়ি, মাছরাঙা, বক পাখায় জলের ফোঁটা ফেলে দিয়ে উড়ে যায় দূরে। নদীকেন্দ্রিক জনপদের কথা ভেবেও তিনি স্মৃতিকাতর 'হন। এভাবেই উদ্দীপকের সঙ্গে 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার স্মৃতিকাতরতার দিকটি সংগতিপূর্ণ।
◉ কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবি যেসব দিক তুলে ধরেছেন সেগুলোর পূর্ণ প্রতিফলন না ঘটায়, দেখা যায় যে "উদ্দীপকটিতে 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার একটি দিকের প্রকাশ ঘটেছে।"- মন্তব্যটি যৌক্তিক।
◉ 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবির স্মৃতিকাতরতার আবরণে তাঁর অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে। কবি দূর প্রবাসে বসেও শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদের কলকল ধ্বনি শুনতে পান। এনদের স্নেহধারায় সিক্ত হয়ে কবির শৈশব-কৈশোর কেটেছে। কবি এই নদের জলকে মাতৃদুগ্ধের সঙ্গে তুলনা করেছেন। জন্মভূমির এই নদ যেন মায়ের স্নেহডোরে তাঁকে বেঁধেছে। জন্মভূমির শৈশব-কৈশোরের বেদনা-বিধুর স্মৃতি কবির মনে কাতরতা জাগিয়েছে।
◉ উদ্দীপকের কবিতাংশের কবিকে তাঁর ফেলে আসা দিনগুলো পিছু ডাকে। তিনি তাঁর শৈশবের নদীর কথা ভাবেন। সেই নদীর ওপর দিয়ে পানকৌড়ি, মাছরাঙা, বক উড়ে যায়। সেই নদীর জনপদে যে অধীর কোলাহল তার কিছুই কবি খোঁজেননি। এ বিষয়টি 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় প্রতিফলিত কবির স্মৃতিকাতরতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। দূর প্রবাসে বসে কবি মাতৃভূমির বুকে বয়ে চলা শৈশব-কৈশোরের প্রিয় কপোতাক্ষ নদকে স্মরণ করেন, আবেগে আপ্লুত হন।
◉ 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় স্মৃতিকাতরতার বিষয়টির পাশাপাশি দেখা যায়, কবি দেশে ফিরে আসার তীব্র আকুতি জানিয়েছেন। তাঁর স্মৃতিবিজড়িত নদের সঙ্গে আর দেখা হবে কি না, সেটা নিয়েও কবি সংশয় প্রকাশ করেছেন। উদ্দীপকে 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার এ বিষয়গুলো নেই। উদ্দীপকে কেবল স্মৃতিকাতরতার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। সেখানে কবির মধ্যে পুনরায় স্মৃতিঘেরা স্থানে ফিরে যাওয়ার কোনো আকুতি কিংবা সংশয় কিছুই প্রকাশ পায়নি। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যৌক্তিক।
