গ্রামে বেড়ে ওঠা শাহেদ জীবিকার সন্ধানে পাড়ি জমান স্বপ্নের দেশ সুইজারল্যান্ডে। সেখানে কাজ ও বেতন ভালো। শাহেদ আজ প্রতিষ্ঠিত হওয়া সত্ত্বেও মনের মধ্যে কীসের যেন অভাব অনুভব করেন। চাকচিক্যময় শহুরে জৌলুস ও কর্মব্যস্ততার কারণে শৈশবের স্মৃতি এখন তার মনে ধূসর হয়ে গেছে।
◉ "প্রজারূপে রাজরূপ সাগরেরে দিতে বারি-রূপ কর তুমি" এর দ্বারা কপোতাক্ষ নদ নিজেকে প্রজা মনে করে রাজরূপী সাগরকে কর হিসেবে নিজের জল প্রদান করাকে বোঝানো হয়েছে।
◉ 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবির স্মৃতিকাতরতার আবরণে তাঁর. অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে। কবি দূর প্রবাসে বসেও শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদের কলকল ধ্বনি শুনতে পান। প্রজা যেমন রাজাকে কর দেয় কপোতাক্ষ নদও তেমনই রাজরূপ সাগরকে বারিরূপ কর অর্থাৎ জল দিয়ে থাকে। প্রশ্নোক্ত লাইনটিতে এটাই বোঝানো হয়েছে।
◉ উদ্দীপকে 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার বৈসাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হলো প্রবাসজীবনে জন্মভূমির কথা ভেবে স্মৃতিকাতর না হওয়া এবং জন্মভূমিতে ফেরার আকুলতা না থাকা।
◉ 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবির স্মৃতিকাতরতার আবরণে অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেমের প্রকাশ ঘটেছে। কবি আত্মপ্রতিষ্ঠার কারণে সুদূর প্রবাসে পাড়ি জমালেও জন্মভূমির শৈশব-কৈশোরের বেদনা-বিধুর স্মৃতি তাঁর মনে জাগিয়েছে কাতরতা। দূরে বসেও তিনি জন্মভূমির কপোতাক্ষ নদের কলকল ধ্বনি শুনতে পান। কবির মনে সন্দেহ জাগে তাঁর আর নদের সঙ্গে দেখা হবে কি না।
◉ উদ্দীপকের শাহেদও জীবিকার তাগিদে সুইজারল্যান্ডে যান। সেখানে তিনি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও মনের মধ্যে কীসের যেন অভাব অনুভব করেন। শাহেদের মধ্যেও বিদেশের মাটিতে বসে দেশের প্রতি টান অনুভবের বিষয়টি আছে। তবে সেখানে কবির মতো উজ্জ্বল স্মৃতিকাতরতা ও দেশে ফেরার ব্যাকুলতা নেই। তাই উদ্দীপকে সমুজ্জ্বল স্মৃতিকাতরতার অভাব ও জন্মভূমিতে ফেরার আকুলতার অভাব 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
◉ প্রবাসজীবনে জন্মভূমির প্রতি গভীর টান অনুভবের যে দিকটি 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে তার সঙ্গে মিল থাকায় "উদ্দীপক ও 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার ভাবগত চেতনা অভিন্ন।"
◉ 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রবাসজীবনে শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত প্রিয় নদ কপোতাক্ষকে বারবার স্মরণ করেছেন। প্রবাসে গিয়ে তিনি বহু দেশে ঘুরে বহু নদ-নদী দেখলেও তাঁর প্রাণের তৃষ্ণা মেটাতে সেগুলো ব্যর্থ হয়। তাঁর এই তৃষ্ণা কেবল স্বদেশের কপোতাক্ষ নদের জলেই মেটানো সম্ভব। এখানে তাঁর স্মৃতিকাতরতার অন্তরালে দেশপ্রেমের চেতনাই প্রধান হয়ে দেখা দিয়েছে।
◉ উদ্দীপকের ভাবগত চেতনাও 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার চেতনার অনুরূপ। শাহেদ জীবনের প্রয়োজনে স্বদেশ ছেড়ে বিদেশে থাকতে শুরু করেন। গ্রামে বড় হওয়ার পরও শহরের কর্মব্যস্ততার কারণে গ্রামের শৈশবস্মৃতি তার কাছে ধূসর হয়ে গেছে। এর সঙ্গে 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার কবির বৈসাদৃশ্য থাকলেও স্বদেশের প্রতি টান অনুভবের দিক থেকে মিল রয়েছে। প্রবাসজীবনে শাহেদের কোনোকিছুর অভাব না থাকলেও মনের মধ্যে তিনি কীসের যেন অভাব অনুভব করেন। স্বদেশের মাটিতে না থাকার এই অভাবোধ তথা স্বদেশপ্রেমের চেতনা, 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার কবির স্বদেশপ্রেম একসূত্রে গাঁথা।
◉ উদ্দীপকে গ্রামে বেড়ে ওঠা শাহেদ জীবিকার সন্ধানে পাড়ি জমান স্বপ্নের দেশ সুইজারল্যান্ডে। তিনি সেখানে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও দেশের না থাকার কষ্ট অনুভব করেন। ঠিক একই কারণে 'কপোতাক্ষ 'নদ' কবিতার কবি স্মৃতিকাতর হয়েছেন। আসলে দেশের জন্য অভাববোধের চেতনাই উদ্দীপক ও কবিতার মূল বিষয়। এ দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
