(i) এ আমার শৈশবের নদী, এই জলের প্রান্তর
সারাদিন তার ভাঙা, পাকা ঘাট, মেলা স্রোত টানে।
কিছুই খুঁজিনি আমি যতবার এসেছি এ তীরে
নীরব তৃপ্তির জন্য আনমনে বসে থেকে ঘাসে
নির্মল বাতাস টেনে বুকভরা ডাকি এ বুক।
(ii) সূর্যোদয়ে তুমি, সূর্যাস্তেও তুমি
ও আমার বাংলাদেশ, প্রিয় জন্মভূমি।
"জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে!”- চরণটি দ্বারা কবি কল্পনায় কপোতাক্ষ নদের কলকল ধ্বনি শোনারকে বুঝিয়েছেন।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার কবি খ্যাতি লাভের আশায় ইউরোপে চলে যান। কিন্তু দীর্ঘ প্রবাসজীবনে একসময় স্বদেশের প্রতি তাঁর একাকিত্ববোধ সৃষ্টি হয়। এ তখন তিনি ভাবাবেগে মনে মনে স্বদেশে ফিরে যান। কবি কপোতাক্ষ নদের তীরে বসে কলকল ধ্বনি শোনারকে কল্পনায় অনুভব করে বলেন “জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে” বলে উল্লেখ করেছেন।
উদ্দীপক (i)-এর সঙ্গে 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় উভয় কবির শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত নদীর কাছে তৃপ্তি পাওয়ার দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবি তাঁর শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদের কথা স্মরণ করেছেন। তিনি দূর প্রবাসে বসেও তাঁর সেই নদের কলকল ধ্বনি শুনতে পান। সেই নদ যেন কবির মনে স্নেহ মেলেই চলেছে তা আর কোথাও পাননি। তাই দূর থেকেও তিনি শুধু সেই নদকেই স্মরণ করেছেন। এভাবে উদ্দীপক (i)-এর সঙ্গে 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবির শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত নদীর কাছে তৃপ্তি পাওয়ার দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
না, উদ্দীপক (ii) 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার সমগ্র ভাবকে ধারণ করেনি। কারণ এখানে স্মৃতিকাতরতা ও প্রবাস থেকে দেশে ফেরার আকুতির কোনো ইঙ্গিত নেই।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবি শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত 'কপোতাক্ষ নদের প্রতি স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন। তাঁর এই স্মৃতিকাতরতার আবরণে আসলে অন্তরাল দেশপ্রেমের প্রকাশ ঘটেছে। সেই সঙ্গে পুনরায় দেখা না হওয়ার সংশয়ের প্রকাশও রয়েছে।
উদ্দীপক (ii)-এর কবিতাংশের কবির মধ্যে দেশপ্রেমের প্রকাশ ঘটেছে। তিনি দেশকে সবার আগে সব সময় স্থান দিয়েছেন। সূর্যোদয়ে এবং সূর্যাস্তে সর্বদাই তিনি প্রিয় জন্মভূমিকে ভালোবাসেন। উদ্দীপক (ii)-এর কবির এরূপ দেশপ্রেম 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার কবির মধ্যেও দেখা যায়। আলোচ্য কবিতায় কবির স্মৃতিকাতরতার আবরণে দেশপ্রেমেরই প্রকাশ ঘটেছে। সেই সঙ্গে কবির মনে সংশয় উদ্রেক হওয়াসহ আরও নানা বিষয় রয়েছে।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবি দূর প্রবাসে বসে কপোতাক্ষ নদের কলকল ধ্বনি শুনতে পেয়েছেন। এতে কপোতাক্ষ নদের প্রতি কবির স্মৃতিকাতরতার দিকটি ফুটে উঠেছে। কবির মনে সন্দেহ জেগেছে তিনি আর এই নদের দেখা পাবেন কি না। এই সংশয় তাঁর প্রবাস থেকে দেশে ফেরার আকুতিরই প্রকাশ, যার কোনো ইঙ্গিত উদ্দীপকে নেই। সেখানে কেবল দেশপ্রেমের ইঙ্গিত রয়েছে, যা আলোচ্য কবিতার একটি মাত্র দিক। তাই বলা যায়, উদ্দীপক (ii) 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার সমগ্র ভাবকে ধারণ করেনি।
