A. Nayan
A. Nayan
22 Jun 2026 (3 months ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘দৃশ্যকল্প (i)আমার ছোট্ট…’ যশোর বোর্ড ২০২৬ – কপোতাক্ষ নদ, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)


Listen to this article
🏫 বোর্ড: যশোর বোর্ড📅 সাল: ২০২৬⭐ গুরুত্ব: ★★★★★

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

দৃশ্যকল্প (i)

আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়

যেথায় কোকিল ডাকে কুহু, দোয়েল ডাকে মুহু মুহু।

নদী যেথায় ছুটে চলে আপন ঠিকানায়।

দৃশ্যকল্প (ii)

ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি

আমার দেশের মাটি।

এই দেশেরই মাটি জলে,

এই দেশেরই ফুলে ফলে

তৃষ্ণা মেটাই মেটাই ক্ষুধা

পিয়ে এরি দুধের বাটি।

উত্তর:
উত্তর:

চৌদ্দ চরণবিশিষ্ট, ভাবসংহত ও সুনির্দিষ্ট হওয়ায় ""কপোতাক্ষ নদ' একটি চতুর্দশপদী কবিতা"- কথাটি ঠিক।

চতুর্দশপদী কবিতার ইংরেজি প্রতিশব্দ Sonnet। চতুর্দশপদী কবিতা গীতিকবিতার একটি বিশেষ ধারা যা চৌদ্দ চরণবিশিষ্ট, ভাবসংহত ও সুনির্দিষ্ট। এই কবিতার প্রথম আট চরণে থাকে ভাবের প্রবর্তনা এবং শেষের ছয় চরণে থাকে ভাবের পরিণতি। চতুর্দশপদী কবিতায় বিভিন্ন ধরনের মিলবিন্যাস লক্ষ করা যায়। উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো বিদ্যমান থাকায় 'কপোতাক্ষ নদ' একটি চতুর্দশপদী কবিতা।

উত্তর:

দৃশ্যকল্প-১-এ 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার যে দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ তা হলো স্বদেশের প্রতি কবির স্মৃতিকাতরতা।

'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবি সুদূর ফ্রান্সে বসে জন্মভূমির নদের স্মৃতি স্মরণ করেছেন। সেই নদের পাড়ে তিনি শৈশব-কৈশোর কাটিয়েছেন, বড়ো হয়েছেন। সেই স্মৃতি তিনি ভুলতে পারছেন না।

উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১-এ কবি তাঁর প্রিয় জন্মভূমির ছোট্ট গ্রামের কথা স্মরণ করেছেন। সেখানে ছুটে যেতে চেয়েছেন। সেখানকার দোয়েল আর কোকিলের সুমধুর সুর, বয়ে চলা নদীর অপরূপ ছবির। স্মৃতি তিনি রোমন্থন করেছেন। এই স্মৃতিকাতরতা 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার কবির ক্ষেত্রেও লক্ষণীয়। কবিতায় কবি তাঁর জন্মভূমির কপোতাক্ষ নদকে প্রেমভাবে স্মরণ করেছেন। এই নদের কলকল ধ্বনি তিনি সুদূর প্রবাসে থেকেও মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনতে পেয়েছেন। বহু দেশে তিনি বহু নদ-নদী দেখেছেন কিন্তু তাঁর স্নেহের তৃষ্ণা অন্য কোনোটিই মেটাতে পারেনি। এভাবে এই নদের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি মূলত স্বদেশের প্রতি স্মৃতিকাতরতার দিকটিই তুলে ধরেছেন। দৃশ্যকল্প-১-এ 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার এই স্মৃতিকাতরতার দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।

উত্তর:

স্বদেশের প্রতি হৃদয়ের আকুলতার বিচারে "দৃশ্যকল্প-(ii) যেন 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার কবির ভাবনার দেশ" মন্তব্যটি যথার্থ।

'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে কবির অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম। বহু দেশে কবি বহু নদ-নদীর দেখা পেলেও স্বদেশের এ নদের স্নেহ কোথাও তিনি পাননি। কিছুতেই তিনি এ নদকে ভুলতে পারেননি।

উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-(ii)-এর কবিও স্বদেশের প্রকৃতিকে নিজের সত্তায় ধারণ করেছেন। এদেশের মাটিকে তিনি খাঁটি সোনার চেয়েও খাঁটি বলেছেন। এদেশের মাটি-জলে তিনি তাঁর তৃষ্ণা ও ক্ষুধা মেটান। এদেশের সৌন্দর্যে তিনি মুগ্ধ। 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায়ও কবির অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম লক্ষণীয়। কবি তাঁর প্রবাসজীবনে স্মৃতিকাতরতার আড়ালে দেশের প্রতি হৃদয়ের কাতরতা প্রকাশ করেছেন।

'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবি শৈশবের স্মৃতি বিজড়িত নদকে প্রবাস জীবনে স্মরণ করেছেন। স্বদেশের এই নদের তীরে তিনি শৈশব-কৈশোর কাটিয়েছেন। তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন নানা দেশে নানা নদ-নদী দেখলেও সেগুলো স্বদেশের এই নদের মতো স্নেহতৃষ্ণা মেটাতে পারেনি। কবি স্বদেশের এ নদের তীরে ফিরে আসতে আকুল। বন্ধুভাবে কবি এ নদের কাছে মিনতি করেছেন, এ নদ যেন তাঁর স্বদেশের জন্য হৃদয়ের কাতরতা বঙ্গবাসীর কাছে পৌঁছে দেয়। উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-(ii)-এর কবিও স্বদেশের প্রতি হৃদয়ের আকুলতা ব্যক্ত করেছেন। এদেশের মাটিকে তাঁর কাছে সোনার চেয়েও খাঁটি মনে হয়। স্বদেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা থাকলেই কেবল এভাবে বলা যায়। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

8 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘দৃশ্যকল্প (i)আমার ছোট্ট…’ যশোর বোর্ড ২০২৬ – কপোতাক্ষ নদ, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)”