রুফাইদা যে গ্রামে বড়ো হয়েছে সেখানে তার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। যে বাড়িতে তার বেড়ে ওঠা সেই বাড়ির কথা তার খুব মনে পড়ে। তার গ্রামের পুকুর, নদী, মাঠ-ঘাট সবকিছুই তাকে খুব টানে। সুদূর বিদেশে অবস্থান করলেও গ্রামের বাড়ির ছবিটি যেন তার চোখে ভেসে ওঠে রোজই। দূর দেশে থেকে তার মনে সংশয় জাগে- আর কখনো সে তার নিজ গ্রামে ফিরে যেতে পারবে কি না।
'বারি-রূপ কর' বলতে কপোতাক্ষ নদের সাগরকে বারিরূপ কর বা রাজস্ব দেওয়াকে বোঝানো হয়েছে।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবির স্মৃতিকাতরতার আবরণে তাঁর অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে। কবি দূর প্রবাসে বসেও শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদের কলকল ধ্বনি শুনতে পান। সেই নদ নিরবধি কলকল ধবনিতে প্রবাহিত হয়ে সাগরে পতিত হয়েছে। এর জলধারা বিশাল সাগরে মিশছে। সেই নদের কথা বলতে গিয়ে কবি বলেছেন প্রজা যেমন রাজাকে কর বা রাজস্ব দেয় কপোতাক্ষ নদও তেমনই সাগরকে তার জল কর বা রাজস্ব হিসেবে দিচ্ছে। প্রশ্নোক্ত বাক্যে এই কথাটিই বোঝানো হয়েছে।
উদ্দীপকের রুফাইদার অনুভূতিতে 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার স্মৃতিকাতরতার দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতাটিতে কবি তাঁর শৈশব-কৈশোরকালের প্রিয় নদ কপোতাক্ষের স্মৃতিচারণ করেছেন। কবি যখন সুদূর ফ্রান্সে বসবাস করেন তখন সর্বদা তাঁর সেই নদের কথা মনে পড়ে। কল্পনায় প্রিয় নদের কলকল ধ্বনি শোনেন। প্রবাসী কবি স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন।
উদ্দীপকের রুফাইদা শহরে বসবাস করেন। কর্মব্যস্ততার মধ্যেও তিনি তার শৈশবের ভৈরব নদীকে ভুলে যাননি। কারণ এ নদীটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার শৈশবের অনেক স্মৃতি। অনেক বছর তিনি নদীটিকে দেখতে পাননি। কিন্তু সেই নদীটির স্মৃতি তার মন থেকে ম্লান হয়ে যায়নি। অবসরে কল্পনায় তিনি সেই নদীর ছবি আঁকেন। উদ্দীপকের রুফাইদার এই স্মৃতিকাতরতার দিকটি 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায়ও প্রকাশ পেয়েছে। কবি প্রবাসে বসে গভীর আবেগে জন্মভূমির প্রিয় নদ কপোতাক্ষকে স্মরণ করেছেন। এ নদ কবির কাছে দুগ্ধ-স্রোতোরূপী। কারণ এ নদের স্নেহধারায় সিক্ত হয়েই কবির শৈশব-কৈশোর কেটেছে। তাই তিনি এ নদকে প্রবাসে বসেও ভুলতে পারেন না। তাই আমরা বলতে পারি যে, উদ্দীপকের রুফাইদার অনুভূতিতে আলোচ্য কবিতার কবির স্মৃতিকাতরতার প্রতিফলন ঘটেছে।
দেশমাতৃকার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার দিকটি উভয় ক্ষেত্রে সমভাবে প্রকাশ পাওয়ায় উদ্দীপকে 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার মূলভাব প্রকাশ পেয়েছে।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় দেশমাতৃকার প্রতি কবির অকুণ্ঠ প্রেমের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। তিনি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে জন্মগ্রহণ করেন। প্রবাসজীবনে এ নদের কথা ভেবে তিনি কাতর হয়েছেন।
উদ্দীপকের রুফাইদা গ্রামের বাড়িতে বেড়ে উঠেছে। গ্রামের পুকুর-নদী-মাঠ সবকিছুর স্মৃতি ভেবেই সে প্রবাস জীবনে কাতর হয়েছে। আলোচ্য কবিতার কবিও শৈশবের কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী সাগরদাড়ি গ্রামে কাটানো আনন্দঘন মুহূর্তগুলো ভেবে কাতর হয়েছেন। স্বদেশের প্রতি কাতরতা উভয়ের ক্ষেত্রে সমভাবেই প্রকাশিত হয়েছে।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার কবি প্রবাসজীবনে স্বদেশের কপোতাক্ষ নদের স্মৃতি ভেবে কাতরতা প্রকাশ করেছেন। তাঁর মনে সন্দেহ জাগে- তিনি আর কখনো এ নদের দেখা পাবেন কি না। স্বদেশের প্রতি হৃদয়ের কাতরতা এ কবিতার প্রধান প্রতিপাদ্য বিষয়। উদ্দীপকের রুফাইদাও শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি ভেবে কাতর হয়েছে। তার মনেও সন্দেহ জাগে- সে আর কখনো দেশে ফিরতে পারবে কি না। স্বদেশের প্রতি হৃদয়ের ব্যাকুলতা উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতায় সমভাবে প্রকাশ পাওয়ায় উদ্দীপকে 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার মূলভাব প্রকাশ পেয়েছে।
