A. Nayan
A. Nayan
22 Jun 2026 (3 months ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘পান্ডুর গালে চুমু…’ – বন্দনা, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)


Listen to this article
⭐ গুরুত্ব: ★★★★★

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

পান্ডুর গালে চুমু খায় মাতা। সারা গায়ে দেয় হাত,

পারে যদি বুকে যত স্নেহ আছে ঢেলে দেয় তারি সাথ।

নামাজের ঘরে মোমবাতি মানে, দরগায় মানে দান, 

ছেলেরে তাহার ভালো করে দাও কাঁদে জননীর প্রাণ।

ভালো করে দাও আল্লা-রসুল! ভালো করে দাও পীর, 

কহিতে কহিতে মুখখানি ভাসে বহিয়া নয়ন নীর!

উত্তর:

পিঁপড়ার ভয়ে মা সন্তানকে মাটিতে রাখেনি

উত্তর:

"না খাই খাওয়াএ পিতা না পরি পরাএ" বলতে কবি সন্তানের বড়ো হওয়ার ক্ষেত্রে পিতার অপরিসীম আত্মত্যাগকে তুলে ধরেছেন।

সন্তানের বড়ো হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের অবদান অনস্বীকার্য। মা যেমন সকল প্রতিকূলতা থেকে সন্তানকে আগলে রাখেন, তেমনই বাবাও আমানুষিক শ্রম দিয়ে সংসারের জন্য উপার্জন করেন। মা যখন সাংসারিক কাজে ব্যস্ত, তখন বাবাই মায়ের অভাব পূরণ করেন। নিজে খেয়ে না-খেয়ে বাবা সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেন, নিজে না পরে বাবা সন্তানের পোশাক-পরিচ্ছদের জোগান দেন। মা সন্তানকে দশ মাস গর্ভে ধারণ করেন। আর বাবা তার চিন্তায় সান্তানকে ধারণ করেন বিশ থেকে পঁচিশ বছর। বাবার এসব ত্যাগকে কবি আলোচ্য পঙ্ক্তিতে স্বীকার করেছেন।

উত্তর:

উদ্দীপকের রোগশয্যার অসহায় অবস্থা থেকে মায়ের সেবা-শুশ্রুষার দিকটি 'অশক্য আছিলু মুই দুর্বল ছাবাল' পঙ্ক্তির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

'বন্দনা' কবিতায় কবি নিজের দুর্বল শৈশবের কথা স্মরণ করে বলেছেন, 'অশক্য আছিল মুই দুর্বল ছাবাল'। যা মাতা-পিতার স্নেহ ও যত্নেই আমরা শক্তিশালী হয়ে উঠি- এই উপলব্ধি প্রকাশ করে।

'বন্দনা' কবিতার 'অশক্য আছিলু মুই দুর্বল ছাবাল'- পঙ্ক্তি দ্বারা কবি মানুষের নবজাতককালীন অসহায়ত্বের দিকটি নির্দেশ করেছেন। মায়ের আদর-যত্ন ও পরিচর্যা লাভ করে শিশু ধীরে ধীরে পরিণত মানুষ হয়ে ওঠে। কবি তার স্নেহময়ী মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে আলোচ্য পঙ্ক্তিটি ব্যবহার করেছেন। অসহায় অবস্থায় মা সকল প্রতিকূলতা থেকে বাঁচিয়ে কোলে-পিঠে করে সন্তানকে মানুষ করে তুলেছেন। উদ্দীপকে সন্তানের রোগশয্যার পাশে দাঁড়িয়ে তার সুস্থতা কমনায় মায়ের ব্যাকুল হয়ে ওঠার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। মা সন্তানের আরোগ্য লাভের জন্য মসজিদে ও পিরের দরগায় মানত ও আল্লা-রাসুলের কাছে ফরিয়াদ করেছেন। সন্তানের জন্য মায়ের এই ব্যাকুলতার সঙ্গে 'বন্দনা' কবিতার 'অশক্য আছিলু মুই দুর্বল ছাবাল' পঙ্ক্তির সাদৃশ্য রয়েছে।

উত্তর:

মায়ের স্নেহবাৎসল্যের আলোকে বলা যায়, "মাতৃহৃদয়ের চিরন্তন আকাঙ্ক্ষা উদ্দীপক ও 'বন্দনা' কবিতায় সার্থক হয়ে উঠেছে"- উদ্দীপক ও 'বন্দনা' কবিতার আলোকে মন্তব্যটি যথার্থ।

'বন্দনা' কবিতায় মাতা-পিতার মাধ্যমে জন্ম ও জীবনের বিকাশকে এক পবিত্র আশীর্বাদ হিসেবে দেখানো হয়েছে। সেই সাথে দেখানো হয়েছে সন্তানের জীবনে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে এনে দিতে পিতা-মাতার আত্মত্যাগ ও সন্তানবাৎসল্যের দিকটি। যা জীবনের উৎস ও মানবিকতার গভীর দর্শন প্রতিফলিত করে।

'বন্দনা' কবিতায় কবি সন্তানের প্রতি মায়ের সদাজাগ্রত কল্যাণদৃষ্টির দিকটি উপস্থাপন করেছেন। মানবশিশু যখন জন্মগ্রহণ করে তখন সে দুর্বল ও অসহায় থাকে। মা তার দয়া ও করুণাময়ী রূপ ধরে অসহায় সন্তানকে সকল প্রতিকূলতা থেকে বাঁচিয়ে রাখেন। পরম যত্নে-সেবা-শুশ্রুষায় ধীরে ধীরে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন। সন্তানের প্রতি সর্বদা মায়ের কল্যাণদৃষ্টি নিবদ্ধ থাকে। উদ্দীপকে সন্তানের রোগশয্যায় মায়ের ব্যাকুলতা প্রকাশ পেয়েছে। সন্তানের অসহায় অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য মা সেবা-শুশ্রুষার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন; মসজিদে-দরগায় মানত করেছেন, খোদার দরবারে সন্তানকে সুস্থ করার জন্য ফরিয়াদ করেছেন।

উদ্দীপকের সন্তানের অসুস্থতায় মাতৃহৃদয়ের ব্যাকুলতা সমগ্র বিশ্বের মায়েদের হৃদয়কে সংযুক্ত করেছে। সন্তানের সুস্থতার জন্য মা সৃষ্টিকর্তার কাছে করুণা ভরা দৃষ্টিতে প্রার্থনা করেছেন। 'বন্দনা' কবিতায় কবি সন্তানের শৈশবের অসহায়ত্বে মায়ের পবিত্রতার ভূমিকা স্বীকার করেছেন। কল্যাণময়ী দৃষ্টিতে মা সকল প্রতিকূলতা প্রতিহত করে ধীরে ধীরে সন্তানকে পরিপূর্ণ মানুষ করে তুলেছেন। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি সমর্থনযোগ্য।

8 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘পান্ডুর গালে চুমু…’ – বন্দনা, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)”