রসায়ন গবেষণা প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ধাপটি হলো বই বা পূর্বের গবেষণাপত্রের সাহায্যে বিষয়বস্তু সম্পর্কে কিছু ধারণা নেওয়া।
খাদ্য হজম করতে পাকস্থলীতে হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI) নিঃসৃত হয়। কোনো কারণে পাকস্থলীতে এই এসিডের পরিমাণ বেশি হয়ে গেলে তখন পেটে অস্বস্তি বোধ হয়। একে এসিডিটি বলে।
পাকাস্থলীতে নিঃসরিত অতিরিক্ত HCI এসিডকে প্রশমিত করার জন্য এন্টাসিড নামক ওষুধ সেবন করা হয়। এন্টাসিডে Al(OH)3 ও Mg(OH)2 দুইটি ক্ষার জাতীয় পদার্থ থাকে। এগুলো পেটের অতিরিক্ত হাইড্রোক্লোরিক এসিডকে প্রশমিত করে লবণ ও পানিতে রূপান্তরিত করে। এভাবেই মূলত পেটের এসিডিটির সমস্যা দূর হয়।
দৃশ্যকল্প-১ এ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া দেখানো হয়েছে। যেখানে উদ্ভিদ পাতার সাহায্যে সূর্যালোকের উপস্থিতিতে বাতাসের কার্বন ডাই অক্সাইড এবং মূলের মাধ্যমে মাটি থেকে সংগ্রহ করা জল (H₂O) ব্যবহার করে শর্করা জাতীয় খাদ্য উৎপাদন করছে।
উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার সবুজ অংশে গ্লুকোজ তৈরি করে। সালোকসংশ্লেষণ মূলত একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া। উদ্ভিদ পাতার সাহায্যে বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং মূল দিয়ে পানি শোষণ করে। এরপর সূর্যালোকের উপস্থিতিতে সবুজ পাতায় অবস্থিত ক্লোরোফিলের সাহায্যে এই পানি (H₂O) আর কার্বন ডাই-অক্সাইডের (CO₂) মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে গ্লুকোজ (শর্করা) উৎপন্ন করে।
সমগ্র জীবদেহই রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে তৈরি। উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহের এ সব রাসায়নিক পদার্থ ও তাদের মধ্যে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়া জীববিজ্ঞানে আলোচনা করা হয়। অর্থাৎ জীববিজ্ঞান ও রসায়ন পরস্পর সম্পর্কযুক্ত।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া উল্লেখ করা হয়েছে। সালোকসংশ্লেষণ উদ্ভিদ দেহে সংঘঠিত রাসায়নিক বিক্রিয়া, যা জীববিজ্ঞানে আলোচনা করা হয়। এভাবে দৃশ্যকল্প-১ এ সংঘঠিত সালোকসংশ্লেষণ রাসায়নকে জীববিজ্ঞানের সাথে সম্পর্কিত করেছে।
দৃশ্যকল্প-২ এ সবজিক্ষেতে কীটনাশক ছিটানো হচ্ছে।
কীটনাশক কৃষিকাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি ফসলকে পোকার আক্রমণ ও রোগজীবাণু থেকে রক্ষা করে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে। কৃষকরা কীটনাশক ব্যবহার করে স্বল্প সময়ে অধিক ফলন পান এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হন। এর ফলে আমাদের খাবারের চাহিদাও পূরণ হতে সাহায্য করে। কীটনাশক এক ধরণের বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ। এর অতিরিক্ত ব্যবহার মাটির উপকারী জীবাণু ও কেঁচোর ক্ষতি করে, ফলে মাটির উর্বরতা ধীরে ধীরে কমে যায়। বৃষ্টির পানির সঙ্গে এগুলো নদী-খাল বা ভূগর্ভস্থ জলে মিশে পানি দূষণ ঘটায় এবং মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়।
আবার কিছু কীটনাশক আছে যাতে কিছু ক্ষতিকর উদ্বায়ী রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয় এবং এগুলো যখন ক্ষেতে প্রয়োগ করা হয় তখন তা বাতাসের সাথে মিশে বায়ু দূষণ করে ফলে এটি মানুষের শ্বাসযন্ত্রের রোগ ও বিষক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। এমনকি খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে মানুষের শরীরেও প্রবেশ করে দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন রোগের জন্ম দেয়। সুতরাং বলা যায়, কীটনাশক ফসলের ক্ষতিকারক পোকা-মাকড় ধ্বংস করার মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করে খাদ্য উৎপাদনে সহায়ক হলেও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
