জীববিজ্ঞান ক্লাসে শিক্ষক কোষের বিভিন্ন অঙ্গাণু ব্যাখ্যায় একটি অঙ্গাণুর কথা বললেন, যা বিজ্ঞানী বেন্ডা কর্তৃক আবিষ্কৃত। অপর একটি অঙ্গাণুর কথা বললেন যার প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা।
জলজ উদ্ভিদের বড়ো বড়ো বায়ুকুঠুরিযুক্ত প্যারেনকাইমা কোষকে অ্যারেনকাইমা বলে।
যেসব গ্রন্থি নালিবিহীন, ক্ষরণ সরাসরি রক্ত বা লসিকার মাধ্যমে বাহিত হয়ে দূরবর্তী সুনির্দিষ্ট অঙ্গে ক্রিয়াশীল হয়, সেসব গ্রন্থিকে অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বলে। এসব গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রসকে হরমোন বা প্রাণরস বলে। যেমন- পিটুইটারি গ্রন্থি, থাইরয়েড গ্রন্থি ইত্যাদি।
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রথম অঙ্গাণুটি হলো মাইটোকন্ড্রিয়া। নিচে মাইটোকন্ড্রিয়ার গঠন ব্যাখ্যা করা হলো-
১. মাইটোকন্ড্রিয়া গোলাকার বা দণ্ডাকার হয়ে থাকে।
২. মাইটোকন্ড্রিয়া দুই স্তরবিশিষ্ট আবরণী বা ঝিল্লি দিয়ে ঘেরা।
৩. এর ভিতরের স্তরটি ভিতরের দিকে ভাঁজ হয়ে থাকে। এদের ক্রিস্টি বলে।
৪. ক্রিস্টির গায়ে বৃন্তযুক্ত গোলাকার বস্তু থাকে। এদের অক্সিজোম বলে।
৫. অক্সিজোমে উৎসেচকগুলো সাজানো থাকে।
৬. মাইটোকন্ড্রিয়নের (এক বচন) ভিতরে থাকে ম্যাট্রিক্স।
৭. জীবের শ্বসনকার্যে সাহায্য করা মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ।
৮. শ্বসনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ক্রেবস চক্রের বিক্রিয়াগুলো মাইটোকন্ড্রিয়াতে সম্পন্ন হয়।
৯. মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের 'শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র' বা 'পাওয়ার হাউজ' বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত দ্বিতীয় অঙ্গাণুটি হলো ক্লোরোপ্লাস্ট। এটি গাছের সবুজ পাতা, কচি কাণ্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে পাওয়া যায়। উদ্ভিদের ক্ষেত্রে অঙ্গাণুটির ভূমিকা অপরিসীম। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-সবুজ উদ্ভিদে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকায় সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় এরা নিজেই নিজের খাদ্য প্রস্তুত করে থাকে। উদ্ভিদের প্লাস্টিডের গ্রানা অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এই আবদ্ধ সৌরশক্তি উৎসেচক, CO₂ এবং কোষের ভিতরকার পানি ব্যবহার করে উদ্ভিদ সরল শর্করা তৈরি করে। এ প্রস্তুতকৃত খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন জৈবনিক কাজে শক্তি জোগায়। ফলে উদ্ভিদ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় এবং পরবর্তীতে ফুল ধারণ করে। পরাগায়ন ও নিষেকের মাধ্যমে ফুল থেকে ফল ও বীজ উৎপন্ন হয়ে প্রজাতির ধারা অব্যাহত থাকে। আবার ক্লোরোপ্লাস্টে সালোকসংশ্লেষণের সময় উদ্ভিদ পরিবেশ থেকে CO₂ গ্রহণ করে এবং O₂ ত্যাগ করে, ফলে পরিবেশে গ্যাসীয় ভারসাম্য রক্ষা পায়। এই ভারসাম্য রক্ষিত না হলে উদ্ভিদের বেঁচে থাকা সম্ভব হতো না। তাই বলা যায় উদ্ভিদের জীবনধারণের জন্য ক্লোরোপ্লাস্টের ভূমিকা অপরিসীম।
