উদ্ভিদকোষের এমন একটি অঙ্গাণু যা খাদ্য উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে এবং অপর একটি অঙ্গাণুকে পাওয়ার হাউজ বলা হয়।
কোষের ভিতরে যে অর্ধস্বচ্ছ, থকথকে জেলির মতো বস্তু থাকে তাকে প্রোটোপ্লাজম বলে।
কুচুরীপানা একটি জলজ উদ্ভিদ। কচুরীপানা উদ্ভিদের দেহে বড়ো বড়ো বায়ুকুঠুরিযুক্ত প্যারেনকাইমা টিস্যু বিদ্যমান। বায়ুকুঠুরীযুক্ত এই প্যারেনকাইমা টিস্যুগুলোকে অ্যারেনকাইমা বলে। অ্যারেনকাইমা টিস্যুগুলোর ফাঁকে ফাঁকে বাতাস জমা থাকে ফলে উদ্ভিদটি আয়তনে বৃদ্ধি পেলেও ওজনে হালকা হয়। অসংখ্য বায়ুকুঠুরী উপস্থিতির ফলে কচুরীপানা পানিতে খুব সহজেই ভেসে থাকে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত দ্বিতীয় অঙ্গাণুটি হলো মাইটোকন্ড্রিয়া, যা কোষের শক্তিঘর বা পাওয়ার হাউজ নামে পরিচিত। নিচে মাইটোকন্ড্রিয়ার সচিত্র গঠন ব্যাখ্যা করা হলো-
১. মাইটোকন্ড্রিয়া গোলাকার বা দণ্ডাকার হয়ে থাকে।
২. মাইটোকন্ড্রিয়া দুই স্তরবিশিষ্ট আবরণী বা ঝিল্লি দিয়ে ঘেরা।
৩. এর ভিতরের স্তরটি ভিতরের দিকে ভাঁজ হয়ে থাকে। এদের ক্রিস্টি বলে।
৪. ক্রিস্টির গায়ে বৃন্তযুক্ত গোলাকার বস্তু থাকে। এদের অক্সিজোম বলে।
৫. অক্সিজোমে উৎসেচকগুলো সাজানো থাকে।
৬. মাইটোকন্ড্রিয়নের (একবচন) ভিতরে থাকে ম্যাট্রিক্স।
৭. জীবের শ্বসনকার্যে সাহায্য করা মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ।
৮. শ্বসনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ক্রেবস চক্রের বিক্রিয়াগুলো মাইটোকন্ড্রিয়াতে সম্পন্ন হয়।
৯. মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের 'শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র' বা 'পাওয়ার হাউজ' বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রথম ও দ্বিতীয় অঙ্গাণু হলো যথাক্রমে ক্লোরোপ্লাস্ট এবং মাইটোকন্ড্রিয়া। জীবের সকল প্রকার জৈবিক কাজে এ দুটি অঙ্গাণুর মধ্যে রয়েছে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। নিচে ক্লোরোপ্লাস্ট এবং মাইটোকন্ড্রিয়ার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হলো-
ক্লোরোপ্লাস্ট সবুজ বর্ণের প্লাস্টিড। এটি গাছের সবুজ পাতা, কচি কান্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে পাওয়া যায়। ক্লোরোপ্লাস্টের সাহায্যে সবুর্জ উদ্ভিদ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে এবং বায়ুস্থ কার্বন ডাইঅক্সাইড ও কোষের ভিতরকার পানি ব্যবহার করে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে। এ প্রস্তুতকৃত খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন জৈবনিক কাজে শক্তি যোগায়। অন্যদিকে, জীবের শ্বসনকার্যে সাহায্য করা মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ। ক্লোরোপ্লাস্টে উৎপাদিত শর্করা জাতীয় খাদ্যকে জারণের মাধ্যমে কোষের বিপাকীয় কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি অর্থাৎ ATP উৎপাদনে মাইটোকন্ড্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শ্বসনের গুরুত্বপূর্ণ দুটি পর্যায় ক্রেবস চক্র ও ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম মাইটোকন্ড্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। কারণ, ক্রেবস চক্রে অংশগ্রহণকারী সব উৎসেচক মাইটোকন্ড্রিয়াতে উপস্থিত থাকে। আর এই ক্রেবস চক্রেই সবচেয়ে বেশি শক্তি উৎপাদিত হয়। এজন্যই মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর বলা হয়।
অর্থাৎ মাইটোকন্ড্রিয়ার যাবতীয় কার্যক্রম ক্লোরোপ্লাস্টে উৎপন্ন শর্করার উপর নির্ভর করে। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা ও অক্সিজেন তৈরি না হলে শ্বসন ঘটবে না। ফলে উদ্ভিদ যাবতীয় কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি পাবে না। অর্থাৎ এরা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত।
