নিচের চিত্রগুলো লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
কৈশিক নালিকার বাইরে আন্তঃকোষীয় ফাঁকা স্থানে অবস্থানকারী পরিবর্তিত কলারসকে লসিকা বলে।
ফুলের পাপড়ি রঙিন হয় ক্রোমোপ্লাস্টের উপস্থিতির কারণে। এসব প্লাস্টিড জ্যান্থফিল, ক্যারোটিন, ফাইকোএরিথ্রিন, ফাইকোসায়ানিন ইত্যাদি বর্ণের কণিকা ধারণ করে। তাই কোনোটিকে হলুদ, কোনোটিকে নীল আবার কোনোটিকে লাল দেখায়। রক্তজবা ফুলের ক্রোমোপ্লাস্টে ফাইকোএরিথ্রিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকে বলে রক্তজবা ফুল লাল হয়।
উদ্দীপকের চিত্র A-এর C চিহ্নিত অংশটি হলো নিউক্লিয়াস।
নিচে নিউক্লিয়াসের গঠন ব্যাখ্যা করা হলো-
১. নিউক্লিয়ার ঝিল্লি : নিউক্লিয়াসকে ঘিরে রাখে যে ঝিল্লি তাকে নিউক্লিয়ার ঝিল্লি বা কেন্দ্রিকা ঝিল্লি বলে। এ ঝিল্লি লিপিড ও প্রোটিন দিয়ে গঠিত। এ ঝিল্লির মাঝে মাঝে নিউক্লিয়ার রন্ধ্র থাকে।
২.নিউক্লিওপ্লাজম : নিউক্লিয়ার মেমব্রেনে আবদ্ধ স্বচ্ছ, অর্ধতরল ও দানাদার তরল পদার্থকে নিউক্লিওপ্লাজম বলে। এটি বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়াস্থল হিসেবে কাজ করে।
৩. নিউক্লিওলাস : নিউক্লিওপ্লাজমের মধ্যে ক্রোমোজোমের সাথে লাগানো গোলাকার বস্তুকে নিউক্লিওলাস বা কেন্দ্রিকাণু বলে। এটি RNA ও প্রোটিন সংশ্লেষণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
৪. ক্রোমাটিন জালিকা : কোষের আন্তঃবিভাজন বিরামকালীন সময়ে নিউক্লিয়াসে অবস্থিত ক্রোমোজোমসমূহকে সংযুক্ত হয়ে কুণ্ডলী পাকানো সূক্ষ্ম সুতার ন্যায় ক্রোমাটিন জালিকার আকারে দেখা যায়। কোষ বিভাজনের সময় এদেরকে বিভক্ত হয়ে মোটা ও খাটো ক্রোমোজোম হিসেবে দেখা যায়, যার মধ্যে বংশগতির গুণ বহনকারী জিন অবস্থান করে।
উদ্দীপকের চিত্র-A হচ্ছে প্যারেনকাইমা এবং চিত্র-B হচ্ছে কোলেনকাইমা। প্যারেনকাইমা ও কোলেনকাইমা উভয় টিস্যুই সরল টিস্যুর অন্তর্ভুক্ত। উদ্ভিদ দেহে এ সকল সরল টিস্যুর কাজ একই ধরনের হয়ে থাকে। প্যারেনকাইমা টিস্যুর প্রধান কাজ হচ্ছে দেহ গঠন করা, খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় এবং খাদ্য পরিবহণ করা। অপরদিকে কোলেনকাইমা টিস্যুর প্রদান কাজও খাদ্য প্রস্তুত করা। উদ্ভিদ দেহকে দৃঢ়তা প্রধান করা। প্যারেনকাইমা টিস্যু ও কোলেনকাইমা টিস্যুর কাজ একই হলেও গঠন ভিন্ন নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
প্যারেনকাইমা টিস্যুর গঠন : প্যারেনকাইমা টিস্যুর কোষগুলো জীবিত, সমব্যাসীয় পাতলা প্রাচীরযুক্ত এবং প্রোটোপ্লাজম দিয়ে পূর্ণ থাকে। কোষগুলো সাধারণত গোলাকার, ডিম্বাকার বা বহুভূজাকৃতির হয়। প্যারেনকাইমা টিস্যুর দুটি কোষের মাঝে আন্তঃকোষীয় ফাঁক বিদ্যমান। কোষ প্রাচীর পাতলা এবং সেলুলোজ দ্বারা গঠিত।
কোলেনকাইমা টিস্যুর গঠন : কোলেনকাইমা টিস্যুর কোষগুলো সজীব, লম্বাটে। এদের কোষপ্রাচীর অসমভাবে পুরু এবং কোণাগুলো অধিক পুরু হয়ে থাকে। কোষের কোষ প্রান্ত চৌকোণাকার সরু বা তির্যক হতে পারে। কোষগুলো প্রোটোপ্লাজম দিয়ে পূর্ণ থাকে এবং কোলেনকাইমা টিস্যুর কোষের ক্ষেত্রে আন্তঃকোষীয় ফাঁক থাকতে পারে।
তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকে চিত্র-A ও B অর্থাৎ প্যারেনকাইমা ও কোলেনকাইমার কাজ একই হলেও এদের গঠন ভিন্ন।
