প্রাণিদেহে বিশেষ এক ধরনের টিস্যু রয়েছে যা পরিবেশ থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করে এবং তা বিশ্লেষণের মাধ্যমে পেশিগুলোকে কাজের নির্দেশ দেয় এবং স্মৃতি সংরক্ষণ করে।
সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত যে অঙ্গাণু হাইড্রোলাইটিক এনজাইমের আধার হিসেবে কাজ করে তাই লাইসোজোম।
যেসব গ্রন্থি হরমোন নিঃসৃত করে তাদেরকে অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বলে। পিটুইটারী গ্রন্থি মানবদেহের প্রধান হরমোন উৎপাদনকারী গ্রন্থি। পিটুইটারী গ্রন্থি মস্তিষ্কের নিচের অংশে অবস্থিত এবং আকারে অন্যান্য গ্রন্থির তুলনার সবচেয়ে ছোট। এই গ্রন্থি থেকে গোনাডোট্রপিক, সোমাটোট্রপিক, থাইরয়েড উদ্দীপক হরমোন (TSH) ইত্যাদি হরমোন নিঃসৃত হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত টিস্যুটি হলো স্নায়ুটিস্যু। এর অপর নাম নিউরন। স্নায়ুটিস্যুর গাঠনিক ও কার্যকরী এককের নাম নিউরন। অসংখ্য নিউরন বা স্নায়ুকোষ একত্রিত হয়ে স্নায়ুটিস্যু গঠিত হয়। নিচে স্নায়ুটিস্যুর গঠন সচিত্র ব্যাখ্যা করা হলো-
স্নায়ুটিস্যু অসংখ্য নিউরন দিয়ে গঠিত। প্রতিটি নিউরন দুটি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত। যথা কোষদেহ ও প্রলম্বিত অংশ।
কোষদেহ : প্লাজমামেমব্রেন, সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াস সমন্বয়ে গঠিত নিউরনের গোলাকার, তারকাকার অথবা ডিম্বাকার অংশ কোষদেহ নামে পরিচিত। সাইটোপ্লাজমে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজি বস্তু, রাইবোজোম, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি থাকে।
প্রলম্বিত অংশ : কোষদেহ থেকে সৃষ্ট শাখা-প্রশাখাকেই প্রলম্বিত অংশ বলে। প্রলম্বিত অংশ ডেনড্রাইট ও অ্যাক্সন নিয়ে গঠিত। কোষদেহের চারদিকে শাখাযুক্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রলম্বিত অংশকে ডেনড্রাইট বলে। একটি নিউরনে ডেনড্রাইটের সংখ্যা শূন্য থেকে কয়েকটা পর্যন্ত হতে পারে।
কোষদেহ থেকে উৎপন্ন বেশ লম্বা শাখাবিহীন তন্তুটির নাম অ্যাক্সন। এর চারদিকে নিউরিলেমা নামক পাতলা আবরণ থাকে। নিউরিলেমা ও
অ্যাক্সনের মধ্যবর্তী অঞ্চলে স্নেহ পদার্থের একটি স্তর থাকে। একে মায়েলিন বলে। এ আবরণীটি অবিচ্ছিন্ন নয়। নির্দিষ্ট দূরত্ব পরপর এটি
সাধারণত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকে। এ বিচ্ছিন্ন অংশে নিউরিলেমার সাথে অ্যাক্সনের প্রত্যক্ষ স্পর্শ ঘটে। এ আবরণীবিহীন অংশটিকে র্যানভিয়ারের
পর্ব বলে। অ্যাক্সনের মূল অক্ষের আবরণীকে অ্যাক্সলেমা বলে।
উদ্দীপকের উল্লিখিত টিস্যুটি হলো স্নায়ুটিস্যু। এর গঠন ও কার্যকরী একক হলো নিউরন। প্রাণিদেহ সচল ও কর্মক্ষম রাখতে স্নায়ুটিস্যুর ভূমিকা অপরিহার্য নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
স্নায়ুতন্ত্র দেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও তন্ত্রের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে এবং দেহের উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে পরিবেশের সাথে মানবদেহের ভারসাম্য রক্ষা করে। বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ যেকোনো পরিবেশ থেকে স্নায়ুকোষের মাধ্যমে উদ্দীপনা মস্তিষ্কে পৌঁছায় এবং মস্তিষ্কের সিদ্ধান্ত পুনরায় স্নায়ুকোষের মাধ্যমে পেশিকোষে বা পেশিতন্ত্রে সাড়া জাগায়। পরবর্তীতে মস্তিষ্কের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পেশিতন্ত্র সংকুচিত বা প্রসারিত হয়, ফলে অঙ্গ সে অনুযায়ী কাজ করে। স্নায়ুকোষের উদ্দীপনা গ্রহণ ও প্রেরণের মাধ্যমে পেশিকোষের ক্রিয়ায় মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ কর্মক্ষম থাকে। হাঁটা, চলা, খাওয়া, প্রতিকূল পরিবেশ থেকে দ্রুত সরে আসা ইত্যাদি কাজে স্নায়ুটিস্যুর মাধ্যমে মস্তিষ্ক থেকে প্রেরিত উদ্দীপনা অনুযায়ী পেশিটিস্যু কাজ করে। এছাড়া বিভিন্ন বাহ্যিক উদ্দীপনা যেমন- আলো, গন্ধ, স্বাদ, স্পর্শ ইত্যাদি চোখ, কান, নাক ও ত্বকের মাধ্যমে সংগৃহীত হয়ে মস্তিষ্কে পৌঁছায়।স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে মস্তিষ্ক তখন এই উদ্দীপনায় সাড়া দেয় এবং মানুষের সমস্ত শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রিত হয়।
পরিশেষে বলা যায়, স্নায়ুটিস্যু প্রাণিদেহ সচল ও কর্মক্ষম রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
