রায়হান সাহেব তার দুই মেয়ের মধ্যে ছোটো মেয়ে রেশমাকে অপেক্ষাকৃত বেশি ভালোবাসেন। কারণ, জন্মগতভাবেই রেশমার ডান হাতটি অকেজো। রেশমার মা পরিবারের বোঝা মনে করে রেশমাকে একদম দেখতে পারে না। কিন্তু রায়হান সাহেব রেশমাকে অনেক আদর, ভালোবাসা আর মায়া-মমতা দিয়ে আগলে রাখেন। রেশমার মা রেশমাকে আড়াল করে রাখতে চাইলেও বাবা তাকে একটি বিশেষ স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি তাকে আবৃত্তি ও গানের চর্চা করান। আবৃত্তি ও গানের মাধ্যমে রেশমা সবার কাছে পরিচিত হয়ে ওঠে।
সুভার মধ্যে বৃহৎ প্রকৃতির মতো একটা বিজন মহত্ত্ব থাকায় সাধারণ বালক-বালিকারা সুভাকে একপ্রকার ভয় করত।
বিদেশযাত্রার উদ্যোগ হতে লাগল বলে সুভার সমস্ত হৃদয় অশ্রুবাষ্পে ভরে গেল।
'সুভা' গল্পের সুভা বোবা হওয়ার কারণে তার পিতা-মাতা তাকে নিয়ে সারাক্ষণ বিচলিত থাকতেন। গৃহপালিত পশু ও বাড়ির বিড়াল শাবক ছিল তার বন্ধুর মতো। কিন্তু কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা বাণীকণ্ঠ সুভাকে কলকাতায় নিয়ে গিয়ে বিয়ে দিতে চান। সুভার যাওয়ার কোনো ইচ্ছে ছিল না কিন্তু পিতা-মাতাকে বলতেও পারছিল না। তাই শেষ পর্যন্ত যখন কলকাতায় যাওয়ার উদ্যোগ শুরু হলো তখন সুভার সমস্ত হৃদয় অশ্রুবাষ্পে ভরে গেল।
উদ্দীপকের রেশমার মায়ের মাঝে সুভার মায়ের সুভার প্রতিবন্ধিতাকে নিয়তির দোষ মনে করার দিকটি ফুটে উঠেছে।
'সুভা' গল্পের সুভা একজন বাক্প্রতিবন্ধী কিশোরী। তার এই প্রতিন্ধিতার জন্য মা তাকে গর্ভের কলঙ্ক মনে করে। সে সুভাকে সহ্য করতে পারে না।
উদ্দীপকের রেশমার মা-ও রেশমার প্রতিবন্ধকতাকে পরিবারের বোঝা মনে করে। সে রেশমাকে একদমই সহ্য করতে পারে না। রেশমাকে সে সব সময় আড়াল করে রাখতে চায়। 'সুভা' গল্পের সুভার মা-ও সুভাকে নিয়তির অভিশাপ মনে করে। সে সুভাকে খুব একটা সহ্য করতে পারে না। উদ্দীপকের রেশমার মায়ের মাঝে 'সুভা' গল্পের সুভার মায়ের প্রতিচ্ছবি লক্ষণীয়।
'সুভা' গল্পের সুভার প্রতি প্রতিবেশীদের আচরণ তাকে সাধারণের দৃষ্টিপথ থেকে আড়ালে রাখাতে প্রভাবকের ভূমিকা রাখায় "সাধারণের দৃষ্টিপথ হতে সুভা নিজেকে গোপন রাখার যে চেষ্টা চালাত, তা দূরীকরণে রেশমার বাবার পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি ও কার্যকর।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
'সুভা' গল্পের সুভা বাক্প্রতিবন্ধী হওয়ায় সাধারণ সমবয়সি ছেলেমেয়েরা তার সাথে মিশত না। প্রতিবেশীরা তার সামনে তার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করত। এজন্য সে সব সময় সাধারণের দৃষ্টিপথ থেকে নিজেকে আড়ালে রাখত।
উদ্দীপকের রেশমা শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় তার মা তাকে অন্যদের দৃষ্টির আড়ালে রাখতে চায়। মা তার এ প্রতিবন্ধিতাকে পরিবারের বোঝা মনে করে। 'সুভা' গল্পের সুভার মা-ও সুভাকে নিয়তির অভিশাপ মনে করে। প্রতিবেশীরা তার সামনেই তার ভবিষ্যৎ সম্পর্ক দুশ্চিন্তা প্রকাশ করায় সে নিজেকে সাধারণের দৃষ্টিপথের আড়ালে রাখতে চায়।
'সুভা' গল্পের সুভা নিজেকে লোকসমাজের আড়ালে নিয়ে গেলেও রেশমার বাবা রেশমাকে আড়ালে নেননি। তিনি তার মেয়েকে একটি স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিয়েছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি সে. গান ও আবৃত্তির চর্চা করে। এর মাধ্যমে সে সবার কাছে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, সুভার লোকসমাজের দৃষ্টিপথের আড়ালে 'নিজেকে গোপন করার বিকল্প হতে পারত শিক্ষা অর্জন। তাই বলা যায় যে, আলোচ্য মন্তব্যটি যথার্থ।
