নিচের চিত্রগুলো লক্ষ কর –
জীববিজ্ঞানের যে শাখায় জীবদেহের বিভিন্ন টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস ও কার্যাবলি নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে হিস্টোলজি বলে।
পরিবহন টিস্যুকে জটিল টিস্যু বলা হয় কারণ, এটি একাধিক ধরনের কোষ নিয়ে গঠিত। জাইলেম ও ফ্লোয়েম এই দুটি প্রধান পরিবহন টিস্যু বিভিন্ন কোষ দ্বারা গঠিত হয়। এই কোষগুলো একসাথে পানি, খনিজ ও খাদ্য পরিবহনে কাজ করে। তাদের গঠন ও কাজ সরল টিস্যুর তুলনায় জটিল হওয়ায় পরিবহন টিস্যুকে জটিল টিস্যু বলা হয়।
চিত্র: E হলো উদ্ভিদকোষ। উদ্ভিদকোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু হলো নিউক্লিয়াস। উদ্ভিদকোষের নিউক্লিয়াসে বিদ্যমান - ক্রোমোজোমে অবস্থিত ডিএনএ (DNA) বংশগতির গুণাবলি বহন করে। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
নিউক্লিয়াসের ভেতরে থাকা ক্রোমোজোম-এর মধ্যেই ডিএনএ থাকে। এই ডিএনএ-তে থাকে জিন নামক একক, যা জীবের রূপ, গঠন, আচরণ, বৃদ্ধি ও বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে। অর্থাৎ, জিনই বংশগতির মূল একক। নিউক্লিয়াস উদ্ভিদকোষের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে এবং এর মধ্যকার ডিএনএ-তেই জীবের সব বংশগত বৈশিষ্ট্য সংকেত আকারে সঞ্চিত থাকে। অপত্য কোষ গঠনের সময় এই ডিএনএ অনুলিপি হয় এবং নতুন কোষে স্থানান্তরিত হয়। ফলে একটি প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে গুণাবলি স্থানান্তর ঘটে।
তাই বলা যায়, উদ্ভিদকোষের নিউক্লিয়াসের ডিএনএ অংশটি বংশগতির গুণাবলি বহন করে এবং তা জীবের পরিচয়, গঠন ও কার্যাবলির মূল নিয়ামক।
উদ্দীপকের চিত্র: F ও চিত্র': G হলো যথাক্রমে ঐচ্ছিক পেশি ও হৃৎপেশি। নিচে এদের মধ্যে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য বিশ্লেষণ করা হলো-
সাদৃশ্য :
১. ঐচ্ছিক পেশির কোষগুলো যেমন নলাকার, আড়াআড়ি ডোরাযুক্ত, তেমনি হৃৎপেশির কোষগুলোও নলাকার ও আড়াআড়ি ডোরাযুক্ত।
২. উভয় পেশিতে একাধিক নিউক্লিয়াস থাকে। এ কারণে ঐচ্ছিক পেশি ও হৃৎপেশি দেখতে একই রকম। অনৈচ্ছিক পেশির মতো হৃৎপেশিও সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ সঞ্চালন ও দেহে রক্ত চলাচল প্রক্রিয়া সক্রিয় রাখে।
বৈসাদৃশ্য:
১. ঐচ্ছিক পেশি ইচ্ছানুযায়ী সংকুচিত ও প্রসারিত হয়। অন্যদিকে, হৃৎপেশির সংকোচন ও প্রসারণ প্রাণীর ইচ্ছাধীন নয়।
২. ঐচ্ছিক পেশি কঙ্কাল বা অস্থির সাথে যুক্ত। অন্যদিকে হৃৎপেশি শুধুমাত্র হৃদযন্ত্রে অবস্থিত।
৩. ঐচ্ছিক পেশি দ্রুত ক্লান্ত হয়, অপরদিকে হৃৎপেশি সহজে ক্লান্ত হয় না।
