প্রাণিকোষের নিউক্লিয়াসের কাছে অবস্থিত, দুটি নলাকার সেন্ট্রিওল এবং চারপাশের তরল সেন্ট্রোস্ফিয়ার নিয়ে গঠিত অঙ্গাণুকে সেন্ট্রোজোম বলে।
জীবের শ্বসন প্রক্রিয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি ধাপ- ক্রেবস চক্র এবং ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম মাইটোকন্ড্রিয়ার ভেতরে সম্পন্ন হয়। এই ধাপগুলোতেই কোষের জৈবিক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অধিকাংশ ATP উৎপন্ন হয়। যেহেতু মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের প্রধান শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র, তাই এটিকে কোষের পাওয়ার হাউস বলা হয়।
উদ্দীপকের চিত্র-X হলো কোলেনকাইমা টিস্যু, যা এক ধরনের সরল স্থায়ী টিস্যু। উদ্ভিদের নরম অংশগুলোতে এদের বেশি দেখা যায়। নিচে এর প্রধান গাঠনিক বৈশিষ্ট্যসমূহ তুলে ধরা হলো—
কোলেনকাইমা টিস্যুর কোষপ্রাচীর সেলুলোজ এবং পেকটিন জমা হয়ে পুরু বা স্থূল হয়। তবে এই পুরুত্ব সব জায়গায় সমান থাকে না। বিশেষ করে কোষ গুলোর কোনা বা সংযোগস্থলগুলো অনেক বেশি পুরু হয়ে থাকে। এই টিস্যুর কোষগুলো সাধারণত লম্বাটে এবং সজীব হয়ে থাকে। কোষের ভেতর স্পষ্ট নিউক্লিয়াস এবং পর্যাপ্ত প্রোটোপ্লাজম থাকে। সজীব কোষ হওয়ায় এদের কোষে কখনো কখনো ক্লোরোপ্লাস্টও দেখা যায়। কোলেনকাইমা কোষ গুলোর মাঝখানে সামান্য আন্তঃকোষীয় ফাঁক বা খালি জায়গা থাকতে পারে।
এই টিস্যু সাধারণত উদ্ভিদের কাণ্ড, পাতার বোঁটা ও পাতার শিরায় পাওয়া যায়। কোলেনকাইমা টিস্যু উদ্ভিদের কচি অংশে যান্ত্রিক সহায়তা ও দৃঢ়তা প্রদান করে। কোষে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকলে এটি সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুত করে থাকে।
উদ্দীপকের চিত্র-Y হলো একটি নিউরন বা স্নায়ুকোষ, যা মানবদেহের স্নায়ুতন্ত্রের গাঠনিক ও কার্যকরী একক। মানুষের চিন্তা, অনুভূতি এবং দেহের ভেতরের ও বাইরের সব কাজের সমন্বয় সাধনে নিউরন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে নিউরনের ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হলো—
নিউরন পরিবেশের বিভিন্ন পরিবর্তন বা উদ্দীপনা যেমন- আলো, তাপ, শব্দ বা ব্যথা গ্রাহক অঙ্গের মাধ্যমে গ্রহণ করে। এরপর সেই উদ্দীপনাকে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বৈদ্যুতিক ও রাসায়নিক সংকেতের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র বা মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয়।
মস্তিষ্ক সেই সংকেত বিশ্লেষণ করে কী করতে হবে সেই সিদ্ধান্ত নেয়। নিউরন আবার মস্তিষ্ক থেকে পাওয়া সেই নির্দেশ বা সিদ্ধান্তকে কার্যকরী অঙ্গে যেমন- পেশি বা গ্রন্থিতে বহন করে নিয়ে যায়। এর ফলে দেহ পরিবেশের সাথে উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া দেখায়। আবার, দেহের ভেতরের বিভিন্ন অঙ্গ যেমন- হৃৎপিণ্ড, ফুসফুসসহ বিভিন্ন অঙ্গের কাজের মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করে নিউরন।
সুতরাং নিউরন উদ্দীপনা পরিবহণ থেকে শুরু করে দেহের প্রতিটি কাজ নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়ে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।
