কোষে এমন একটি অঙ্গাণু আছে যা কোষের যাবতীয় কার্যাবলি সম্পাদন করে। অপর একটি অঙ্গাণু আছে যেটি উদ্ভিদ কোষে আছে কিন্তু প্রাণী কোষে নাই।
পাশাপাশি উদ্ভিদ কোষের কোষপ্রাচীরের মধ্য দিয়ে যে সরু সুতার মতো সংযোগ পথ থাকে, তাকে প্লাজমোডেজমাটা বলে।
পৃথিবীতে লাখ লাখ উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে, যাদের আলাদাভাবে চেনা অসম্ভব। শ্রেণিবিন্যাসের মাধ্যমে আমরা অল্প পরিশ্রমে এবং সংক্ষেপে পৃথিবীর সমস্ত জীব সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারি। এর সাহায্যে নতুন আবিষ্কৃত কোনো জীবের পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য সহজেই জানা যায়। এছাড়া, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও কৃষিক্ষেত্রে সঠিক জীবটি নির্বাচন করতে শ্রেণিবিন্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্দীপকে প্রথম কোষ অঙ্গাণুটি হলো নিউক্লিয়াস। এটি কোষের সব কাজ নিয়ন্ত্রণ করে বলে একে কোষের প্রধান কেন্দ্র বলা হয়। নিউক্লিয়াসের গঠন নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
১. নিউক্লিয়ার ঝিল্লি : নিউক্লিয়াসকে ঘিরে রাখে যে ঝিল্লি, তাকে নিউক্লিয়ার ঝিল্লি বা কেন্দ্রিকা ঝিল্লি বলে। এটি দুই স্তর বিশিষ্ট। এই ঝিল্লি লিপিড ও প্রোটিনের সমন্বয়ে তৈরি হয়। এই ঝিল্লিতে মাঝে মাঝে কিছু ছিদ্র থাকে, যেগুলোকে নিউক্লিয়ার রন্দ্র বলে।
২. নিউক্লিওপ্লাজম : নিউক্লিয়ার ঝিল্লির ভিতরে জেলির মতো বস্তু বা রস থাকে। একে কেন্দ্রিকারস 'বা নিউক্লিওপ্লাজম বলে। নিউক্লিওপ্লাজমে নিউক্লিক এসিড, প্রোটিন, উৎসেচক ও কতিপয় খনিজ লবণ থাকে।
৩. নিউক্লিওলাস : নিউক্লিওপ্লাজমের মধ্যে ক্রোমোজোমের সাথে সংলগ্ন গোলাকার বস্তুকে নিউক্লিওলাস বা কেন্দ্রিকাণু বলে। ক্রোমোজোমের রং অগ্রাহী অংশের সাথে এরা লেগে থাকে। এরা ও প্রোটিন দ্বারা গঠিত।
৪. ক্রোমাটিন জালিকা : কোষের বিশ্রামকালে অর্থাৎ যখন কোষ বিভাজন চলে না, তখন নিউক্লিয়াসের মধ্যে সুতার মতো জিনিস জট পাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। জট পাকিয়ে থাকা এই ক্রোমাটিন তন্তুগুলোকে একসাথে ক্রোমাটিন জালিকা বা নিউক্লিয়ার রেটিকুলাম বলে। কোষ বিভাজনের সময় এরা মোটা ও খাটো হয় বলে তখন তাদের আলাদা ক্রোমোজোম হিসেবে দেখা যায়। ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনগুলো বংশগতির গুণাবলি বহন করে এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে নিয়ে যায়।
উদ্দীপকের দ্বিতীয় অঙ্গাণুটি হলো ক্লোরোপ্লাস্ট। এটি শুধু উদ্ভিদ কোষে থাকে। ক্লোরোপ্লাস্টে সবুজ রঞ্জক ক্লোরোফিল থাকে। এর কার্যাবলির ওপর প্রাণিকুল সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। নিচে এর যথার্থতা বিশ্লেষণ করা হলো-
খাদ্য তৈরি: ক্লোরোপ্লাস্টের প্রধান কাজ হলো সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সূর্যালোক ব্যবহার করে শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করা। পৃথিবীর সব' সবুজ উদ্ভিদ এই অঙ্গাণুটির সাহায্যে নিজের খাদ্য তৈরি করে।
প্রাণিকুলের শক্তির উৎস: প্রাণীরা নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সব প্রাণীই খাদ্যের জন্য উদ্ভিদের ওপর নির্ভর করে। উদ্ভিদ প্লাস্টিডের মাধ্যমে খাদ্য তৈরি না করলে প্রাণিকুল অনাহারে মারা যেত।
অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের ভারসাম্য: খাদ্য তৈরির সময় ক্লোরোপ্লাস্ট পরিবেশ থেকে ক্ষতিকর কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং প্রাণীদের বেঁচে থাকার জন্য অত্যাবশ্যকীয় অক্সিজেন গ্যাস বাতাসে ছাড়ে। ক্লোরোপ্লাস্ট না থাকলে প্রাণিকুলের শ্বাসকার্যের জন্য অক্সিজেন এর ঘাটতি দেখা দিত।
সুতরাং, খাদ্য উৎপাদন এবং অক্সিজেন সরবরাহের মাধ্যমে প্লাস্টিড তথা ক্লোরোপ্লাস্ট পৃথিবীর সমগ্র প্রাণিকুলকে বাঁচিয়ে রেখেছে। তাই বলা যায়, ক্লোরোপ্লাস্টের কার্যাবলির ওপর প্রাণিকুল পুরোপুরি নির্ভরশীল।
