নিচের চিত্র দুটি লক্ষ করো :
যে স্থায়ী টিস্যুর প্রতিটি কোষ আকার, আকৃতি ও গঠনের দিক থেকে অভিন্ন তাকে সরল টিস্যু বলে।
অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের হৃৎপিণ্ডের প্রাচীর এক বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক টিস্যু দিয়ে গঠিত। এসব টিস্যুকে কার্ডিয়াক টিস্যু বা হৃদপেশি বলে। এই টিস্যুর কোষগুলো নলাকৃতি (অনেকটা ঐচ্ছিক টিস্যুর মতো), শাখান্বিত ও আড়াআড়ি দাগযুক্ত। এ টিস্যুর কোষগুলোর মধ্যে ইন্টারক্যালাটেড ডিস্ক থাকে। এদের সংকোচন ও প্রসারণ প্রাণীর ইচ্ছাধীন নয়। অর্থাৎ কার্ডিয়াক পেশির গঠন ঐচ্ছিক পেশির মতো হলেও কাজ অনৈচ্ছিক পেশির মতো। তাই একে ঐচ্ছিক-অনৈচ্ছিক টিস্যুও বলে। কার্ডিয়াক পেশির কোষগুলো শাখার মাধ্যমে পরস্পর যুক্ত থাকে।
উদ্দীপকের চিত্র-A দ্বারা মানুষের হাতকে বুঝানো হয়েছে। মানুষের হাতের এককে আচ্ছাদনকারী টিস্যুটি হলো আবরণী বা এপিথেলিয়াল টিস্যু। কাজের প্রকৃতি ও অবস্থানের উপর ভিত্তি করে মানবদেহের ত্বক ও এর ভেতরের বিভিন্ন অঙ্গের আচ্ছাদনকারী কলাকে প্রধানত নিচের ভাগগুলোতে বিন্যস্ত করা যায়—
১. স্কোয়ামাস আবরণী টিস্যু: এই টিস্যুর কোষগুলো মাছের আঁইশের মতো চ্যাপ্টা, পাতলা এবং এদের নিউক্লিয়াস বড়ো আকারের হয়। উদাহরণ- বৃক্কের বোম্যান্স ক্যাপসুলের প্রাচীর। এই টিস্যু প্রধানত আবরণ ছাড়াও ছাঁকনির কাজ করে থাকে।
২. কিউবয়ডাল আবরণী টিস্যু : এই টিস্যুর কোষগুলো ঘনাকার বা কিউব আকৃতির অর্থাৎ কোষের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতা প্রায় সমান। যেমন- বৃক্কের সংগ্রাহক নালিকা, এই টিস্যু প্রধানত পরিশোষণ এবং আবরণ কাজে লিপ্ত থাকে।
৩. কলামনার আবরণী টিস্যু : এই টিস্যুর কোষসমূহ স্তম্ভের মতো সরু এবং লম্বা। উদাহরণ- প্রাণীর অন্ত্রের অন্তঃপ্রাচীরের কোষগুলো প্রধানত ক্ষরণ, রক্ষণ এবং শোষণের কাজ করে।
৪. স্ট্র্যাটিফাইড আবরণী টিস্যু: এটি একাধিক স্তরে বিন্যস্ত থাকে। সবচেয়ে নিচের স্তরটি কিউবয়ডাল এবং কলামনার কোষের হয় এবং ওপরের স্তরগুলো চ্যাপ্টা হয়। যেমন- মেরুদণ্ডী প্রাণীদের ত্বক।
৫. সিলিয়াযুক্ত আবরণী টিস্যু : কোষগুলো সাধারণত কলামনার বা কিউবয়ডাল প্রকৃতির হয়। তবে এদের মুক্ত প্রান্তে চুলের মতো সূক্ষ্ম 'সিলিয়া' থাকে। যেমন- মেরুদণ্ডী প্রাণীদের শ্বাসনালী।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'A' চিত্রটি দ্বারা মানুষের হাতের কঙ্কাল পেশি (ঐচ্ছিক পেশি) এবং 'B' চিত্রটি দ্বারা পাকস্থলীর মসৃণ পেশি (অনৈচ্ছিক পেশি) কে নির্দেশ করে। ঐচ্ছিক পেশি এবং অনৈচ্ছিক পেশির মধ্যে গঠন ও কাজের ভিত্তিতে যে ভিন্নতা রয়েছে তা নিচে মূল্যায়ন করা হলো—
| ঐচ্ছিক পেশি | অনৈচ্ছিক পেশি |
|---|---|
| ১. ঐচ্ছিক পেশি প্রাণীর ইচ্ছানুযায়ী সংকুচিত বা প্রসারিত হয়। | ১. অনৈচ্ছিক পেশির সংকোচন ও প্রসারণ প্রাণীর ইচ্ছাধীন নয়। |
| ২. এই টিস্যুর কোষগুলো নলাকার অশাখান্বিত। | ২. এই টিস্যুর কোষগুলো মাকু আকৃতির অশাখান্বিত। |
| ৩. পেশিতন্তুর পরিধির দিকে নিউক্লিয়াসের অবস্থান। | ৩. কোষের কেন্দ্রস্থলে নিউক্লিয়াসের অবস্থান। |
| ৪. কোষে অনুপ্রস্থ রেখা থাকে। | ৪. কোষে অনুপ্রস্থ রেখা থাকে না। |
