আজমল স্যার ব্যবহারিক ক্লাসে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে উদ্ভিদ কোষ পর্যবেক্ষণ করছিলেন। এ সময় ‘মিনা’ কোষের মাঝে একটি গোলাকার অঙ্গাণুতে কিছু সুতার মতো দেখতে পেলো। অপর এক শিক্ষার্থী ‘দিনা’ ডিম্বাকার একটি অঙ্গাণু দেখতে পেলো। স্যার বললো, এই অঙ্গাণুটি খাদ্য প্রস্তুত করে।
যৌন জনন প্রক্রিয়ায় পুরুষ ও স্ত্রী জনন কোষের (শুক্রাণু ও ডিম্বাণু) মিলনের ফলে সৃষ্ট প্রথম ও আদি কোষই হলো জাইগোট।
স্নায়ু-টিস্যুর সাইটোপ্লাজমে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজি বস্তু, রাইবোসোম, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি থাকে, তবে স্নায়ু-টিস্যুর সাইটোপ্লাজমে সক্রিয় সেন্ট্রিওল থাকে না বলে স্নায়ু-টিস্যু বিভাজিত হয় না। কারণ সেন্ট্রোজোমে থাকা সেন্ট্রিওল কোষ বিভাজনের সময় অ্যাস্টার রে তৈরি করে। তাছাড়া স্পিন্ডল যন্ত্র সৃষ্টিতেও সেন্ট্রোজোমের অবদান রয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত মিনা কোষের মাঝখানে যে অঙ্গাণুটি দেখতে পেল তা হলো কোষের প্রাণকেন্দ্র নিউক্লিয়াস। নিচে নিউক্লিয়াসের গঠন ব্যাখ্যা করা হলো-
১. নিউক্লিয়ার ঝিল্লি : নিউক্লিয়াসকে ঘিরে রাখে যে ঝিল্লি, তাকে নিউক্লিয়ার ঝিল্লি বা কেন্দ্রিকা ঝিল্লি বলে। এটি দুই স্তর বিশিষ্ট। এই ঝিল্লি লিপিড ও প্রোটিনের সমন্বয়ে তৈরি হয়। এই ঝিল্লিতে মাঝে মাঝে কিছু ছিদ্র থাকে, যেগুলোকে নিউক্লিয়ার রন্দ্র বলে।
২. নিউক্লিওপ্লাজম : নিউক্লিয়ার ঝিল্লির ভিতরে জেলির মতো বস্তু বা রস থাকে। একে কেন্দ্রিকারস 'বা নিউক্লিওপ্লাজম বলে। নিউক্লিওপ্লাজমে নিউক্লিক এসিড, প্রোটিন, উৎসেচক ও কতিপয় খনিজ লবণ থাকে।
৩. নিউক্লিওলাস : নিউক্লিওপ্লাজমের মধ্যে ক্রোমোজোমের সাথে সংলগ্ন গোলাকার বস্তুকে নিউক্লিওলাস বা কেন্দ্রিকাণু বলে। ক্রোমোজোমের রং অগ্রাহী অংশের সাথে এরা লেগে থাকে। এরা ও প্রোটিন দ্বারা গঠিত।
৪. ক্রোমাটিন জালিকা : কোষের বিশ্রামকালে অর্থাৎ যখন কোষ বিভাজন চলে না, তখন নিউক্লিয়াসের মধ্যে সুতার মতো জিনিস জট পাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। জট পাকিয়ে থাকা এই ক্রোমাটিন তন্তুগুলোকে একসাথে ক্রোমাটিন জালিকা বা নিউক্লিয়ার রেটিকুলাম বলে। কোষ বিভাজনের সময় এরা মোটা ও খাটো হয় বলে তখন তাদের আলাদা ক্রোমোজোম হিসেবে দেখা যায়। ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনগুলো বংশগতির গুণাবলি বহন করে এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে নিয়ে যায়।
উদ্দীপকের আলোকে দিনার দেখা অঙ্গাণুটি হলো প্লাস্টিড। উদ্ভিদের' বর্ণ সৃষ্টিতে প্লাস্টিড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্লাস্টিড মূলত তিন প্রকার : ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট এবং লিউকোপ্লাস্ট। উদ্ভিদের বর্ণবৈচিত্র্যের পেছনে এই প্লাস্টিডগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
১. ক্লোরোপ্লাস্ট : এতে ক্লোরোফিল নামক সবুজ রঞ্জক পদার্থ থাকে। এই ক্লোরোফিলের উপস্থিতির কারণেই উদ্ভিদের পাতা এবং কচি কাণ্ড সবুজ দেখায়। এটি সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করে।
২. ক্রোমোপ্লাস্ট : এগুলো সাধারণত রঙিন প্লাস্টিড। এতে সবুজ বাদে অন্যান্য রঞ্জক পদার্থ যেমন- ক্যারোটিন (কমলা), জ্যান্থোফিল (হলুদ), ফাইকোইরাইথ্রিন (লাল), ফাইকোসায়ানিন (নীল) ইত্যাদি থাকে। এসব রঞ্জক পদার্থের মিশ্রণের কারণেই উদ্ভিদের ফুল, ফল, রঙিন পাতা ও গাজরের মূল বিভিন্ন আকর্ষণীয় বর্ণ ধারণ করে।
৩. গুরুত্ব : উদ্ভিদের বর্ণবৈচিত্র্য শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, বরং রঙিন ফুল ও ফল পতঙ্গ ও প্রাণীকে আকৃষ্ট করে পরাগায়নে এবং বীজের বিস্তরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পরিশেষে বলা যায়, দিনার দেখা অঙ্গাণুটি (প্লাস্টিড) উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গকে রঙিন ও আকর্ষণীয় করে তোলার মাধ্যমে উদ্ভিদের বংশবৃদ্ধিতে এবং প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
