নিচের চিত্রটি লক্ষ করো-
কোষের ভিতরে যে অর্ধস্বচ্ছ, থকথকে জেলির মতো বস্তু থাকে তাকে প্রোটোপ্লাজম বলে।
দেহকোষ থেকে জননকোষ আলাদা, কারণ দেহকোষ দেহের গঠন ও বৃদ্ধি ঘটায় (যেমন- ত্বক, পেশি, রক্ত), এরা ডিপ্লয়েড (2n) এবং মাইটোসিস পদ্ধতিতে বিভাজিত হয়, কিন্তু জননকোষ প্রজননের জন্য অপরিহার্য (শুক্রাণু ও ডিম্বাণু) কোষ, এরা হ্যাপ্লয়েড (n) ক্রোমোজোম বহন করে এবং মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়, যা যৌন প্রজননে জিনগত বৈচিত্র্য আনে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত "A" দ্বারা পাতার পত্রবৃন্তকে বুঝানো হয়েছে। পাতার পত্রবৃন্তে সাধারণত কোলেনকাইমা টিস্যু দেখা যায়। কোলেনকাইমা টিস্যু' এক ধরনের সরল টিস্যু। নিচে কোলেনকাইমা টিস্যুর গঠন ব্যাখ্যা করা হলো-
১. এটি বিশেষ ধরনের প্যারেনকাইমা কোষ দিয়ে তৈরি হয়।
২. কোষপ্রাচীরে সেলুলোজ এবং পেকটিন জমা হয়ে পুরু হয়।
৩. কোষগুলো লম্বাটে ও সজীব।
৪. এরা প্রোটোপ্লাজমপূর্ণ কোষ দিয়ে তৈরি হয়।
৫. খাদ্য প্রস্তুত এবং দৃঢ়তা প্রদান করা এদের প্রধান কাজ।
৬. পাতার শিরা এবং পত্রবৃন্তে এদের দেখা যায়।
উদ্দীপকের চিত্র-'B' দ্বারা উদ্ভিদের কাণ্ড এবং পাতার সংযোগস্থলে (কক্ষ) উৎপন্ন কাক্ষিক মুকুলকে বুঝানো হয়েছে। পাতার কাক্ষিক মুকুলে সাধারণত মাইটোসিস কোষবিভাজন হয়ে থাকে। জীবজগতের গুণগত বৈশিষ্ট্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মাইটোসিস কোষ বিভাজন অধিক ভূমিকা রাখে। নিচে যুক্তিসহকারে আমার মতামত দেওয়া হলো-
মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় কোষ বিভাজনের কারণে প্রতিটি কোষের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজমের মধ্যকার আয়তন ও পরিমাণ গত ভারসাম্য রক্ষিত হয়। এর ফলে বহুকোষী জীবের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে। সব বহুকোষী জীবই জাইগোট নামক একটি কোষ থেকে জীবন শুরু করে। এই একটি কোষই বারবার মাইটোসিস বিভাজনের ফলে অসংখ্য কোষ সৃষ্টির মাধ্যমে পূর্ণ জীবে পরিণত হয়। মাইটোসিসে সৃষ্ট অপত্য কোষে ক্রোমোজোমের সংখ্যা ও গুণাগুন একই রকম থাকায় জীবের দৈহিক বৃদ্ধি সুশৃঙ্খলভাবে হয়। এককোষী জীব মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বংশবৃদ্ধি করে, মাইটোসিসের ফলে অঙ্গজ প্রজনন সাধিত হয় এবং জননকোষের সংখ্যাবৃদ্ধিতে মাইটোসিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ক্ষতস্থানে নতুন কোষ সৃষ্টির মাধ্যমে জীবদেহের ক্ষতস্থান পূরণ করতে মাইটোসিস অপরিহার্য। মাইটোসিসের ফলে একই ধরনের কোষের উৎপত্তি হওয়ায় জীবজগতের গুণগত বৈশিষ্ট্যের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, জীবের গুণগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মাইটোসিস কোষবিভাজন অধিক ভূমিকা রাখে।
