নিচের চিত্র চিত্রটি লক্ষ করো-
বাস্ট ফাইবার উদ্ভিদের কান্ডের গৌণ বৃদ্ধির সময় ফ্লোয়েম টিস্যু থেকে উৎপন্ন হয়।
ঐচ্ছিক পেশি এবং অনৈচ্ছিক পেশির মধ্যে পার্থক্য নিম্নরূপ :
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' অংশটি হলো সঙ্গীকোষ; যা ফ্লোয়েম টিস্যুর একটি অপরিহার্য অংশ। নিচে সঙ্গীকোষের গঠন বর্ণনা করা হলো
১. সিভকোষ বা সিভনলের সাথে বিদ্যমান বৃহৎ নিউক্লিয়াস ও ঘন সাইটোপ্লাজমযুক্ত প্যারেনকাইমা কোষকে সঙ্গীকোষ বলে।
২. কোষগুলো সরু ও লম্বাটে হয় এবং অনুভূমিকভাবে সিভনলের পাশে অবস্থান করে।
৩. এদের একটি বড়ো ও সুস্পষ্ট নিউক্লিয়াস থাকে, যা কোষের বিপাকীয় ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
৪. সাইটোপ্লাজম খুব ঘন, কোষগহ্বর ক্ষুদ্র এবং এতে প্রচুর পরিমাণে অঙ্গাণু থাকে।
৫. কোষপ্রাচীর পাতলা এবং অন্যান্য কোষের তুলনায় কম লিগনিফাইড হয়।
৬. সিভপ্লেটের ছিদ্র দিয়ে এরা সিভনলের সাথে সংযোগ স্থাপন করে।
৭. সঙ্গীকোষগুলো সজীব কোষ, যা ফ্লোয়েমের অন্যান্য অংশ (যেমন- সিভনল) থেকে ভিন্ন।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'B' অংশটি হলো সিভকোষ (সিভনল); যা ফ্লোয়েম টিস্যুর একটি অংশ। উদ্ভিদের খাদ্য পরিবহণে সিভকোষের প্রয়োজনীয়তা নিচে আলোচনা করা হলো-
উদ্ভিদে পরিবহণ বলতে মাটি থেকে শোষিত পানি ও খনিজ লবণ এবং পাতায় প্রস্তুতকৃত খাদ্যের চলাচলকে বুঝায়। আমরা জানি, জাইলেম ভেসেলের মাধ্যমে পানি এবং খনিজ লবণ উদ্ভিদের পাতায় পৌঁছায়। প্রস্বেদন টান, কৈশিক শক্তি এবং মূলজ চাপের ফলে কোষরস উদ্ভিদের পাতায় পৌঁছে যায় বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন। এভাবে পাতায় পানি পৌঁছালে সেখানে খাদ্য প্রস্তুত হয়। প্রস্তুত খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন এলাকায় পরিবহণের দায়িত্ব গ্রহণ করে ফ্লোয়েম টিস্যু। এ খাদ্য ফ্লোয়েমের সিভনলের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়। উদ্ভিদের বিভিন্ন জৈব যৌগ ফ্লোয়েম টিস্যুর মাধ্যমে বিপরীত দিকে একই সাথে চলাচল করে। উদ্ভিদের নিচের দিকের যৌগগুলো নিচের দিকে, উপরে সংশ্লেষিত যৌগগুলো উপরের দিকে এবং উদ্ভিদের মাঝামাঝি এলাকায় সংশ্লেষিত পদার্থগুলো উপরে বা নিচে যেকোনো দিকে প্রবাহিত হয়।
পরিশেষে বলা যায় যে, উদ্ভিদের পাতায় তৈরি খাদ্য উদ্ভিদদেহের বিভিন্ন অংশে পরিবহণে সিভকোষ তথা ফ্লোয়েম টিস্যু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
