পাটসহ পাঁচ শতাধিক উদ্ভিদের রোগসৃষ্টিকারী ছত্রাকের জীবনরহস্য আবিষ্কার করেছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা।
কযেসব জীব নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না এবং খাদ্যের জন্য অন্যের উপর নির্ভরশীল সেসব জীবই হলো হেটারোট্রোফিক বা পরভোজী।
জীববিজ্ঞানের যে শাখায় তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে ভৌত জীববিজ্ঞান বলে। শারীরবিদ্যায় জীবদেহের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জৈব রাসায়নিক কার্যাদি যেমন- শ্বসন, রেচন, সালোকসংশ্লেষণ ইত্যাদি আলোচিত হয়। এ প্রক্রিয়াগুলো প্রতিটি জীবের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ এবং এগুলো সবই শারীরবিদ্যার তত্ত্বীয় বিষয়াবলি। এ কারণে শারীরবিদ্যাকে জীববিজ্ঞানের ভৌত শাখা বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত উদ্ভিদটি হলো পাট গাছ। এর বৈজ্ঞানিক নাম হলো Corchorus capsularis। এই উদ্ভিদটির নামকরণের ক্ষেত্রে ক্যারোলাস লিনিয়াস প্রদত্ত এবং ICBN কর্তৃক স্বীকৃত দ্বিপদ নামকরণের পদ্ধতি বা নীতিমালা অনুসরণ করা হয়। নিচে পাট গাছের (Corchorus capsularis) নামকরণ পদ্ধতি ব্যাখ্যা করা হলো-
১. পাট গাছের নামকরণে অবশ্যই ল্যাটিন শব্দ ব্যবহার করতে হবে।
২. পাট গাছের বৈজ্ঞানিক নামের দুটি অংশ থাকবে, প্রথম অংশ গণ নাম এবং দ্বিতীয় অংশটি প্রজাতি নাম। যেমন- Corchorus capsularis। এটি পাট গাছের বৈজ্ঞানিক নাম, এখানে Corchorus গণ এবং capsularis প্রজাতিক পদ।
৩. পাট গাছের বৈজ্ঞানিক নামকে অনন্য হতে হবে। কারণ একই নাম দুই পৃথক জীবের জন্য ব্যবহারের অনুমতি নেই।
৪.অনুমতি নেই। পাট গাছের বৈজ্ঞানিক নামের প্রথম অংশের প্রথম অক্ষর বড়ো অক্ষর হবে, বাকি অক্ষরগুলো ছোট অক্ষর এবং দ্বিতীয় অংশটির নাম ছোট অক্ষর দিয়ে লিখতে হবে।
৫. পাট গাছের বৈজ্ঞানিক নাম মুদ্রণের সময় সর্বদা ইটালিক অক্ষরে লিখতে হবে। যেমন- Corchorus capsularis |
৬. পাট গাছের বৈজ্ঞানিক নাম হাতে লেখার সময় গণ ও প্রজাতিক নামের নিচে আলাদা আলাদা দাগ দিতে হবে। যেমন- Corchorus capsularis
৭. বৈজ্ঞানিক নামের শেষে নামদানকারীর নাম (সাধারণত সংক্ষিপ্ত) লিখতে হয়। Corchorus capsularis Li. (এখানে Li লিনিয়াসের নামের সংক্ষিপ্ত রূপ)।
৮. যদি কয়েকজন বিজ্ঞানী পাট গাছকে বিভিন্ন বিজ্ঞানসম্মত নামকরণ করেন তবে অগ্রাধিকার আইন অনুসারে প্রথম বিজ্ঞানী কর্তৃক প্রদত্ত নামটি গৃহীত হবে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত জীব দুটি হলো যথাক্রমে পাট গাছ (Corchorus, capsularis) এবং ছত্রাক (Fungi)। পাট গাছ হলো প্লানটি রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত এবং ছত্রাক (Fungi) হলো ফানজাই রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। প্লানটি রাজ্যটি বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে ফানজাই রাজ্য থেকে উন্নত। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
প্লানটি রাজ্যের জীবসমূহ প্রধানত স্থলজ, তবে অসংখ্য জলজ প্রজাতি আছে। এরা প্রকৃত নিউক্লিয়াসযুক্ত সালোকসংশ্লেষণকারী উদ্ভিদ। এরা নিজেদের খাদ্য নিজেরা তৈরি করতে পারে। এদের দেহে উন্নত টিস্যুতন্ত্র বিদ্যমান। এদের ভূণ সৃষ্টি হয় এবং তা থেকে ডিপ্লয়েড পর্যায় শুরু হয়। এদের যৌনজনন অ্যানাইসোগ্যামাস। এরা আর্কিগোনিয়েট অর্থাৎ স্ত্রীজনন অঙ্গবিশিষ্ট এবং সপুষ্পক উদ্ভিদ।
অন্যদিকে, ফানজাই রাজ্যের জীবসমূহের অধিকাংশই স্থলজ, মৃতজীবী বা পরজীবী। এরা এককোষী অথবা মাইসেলিয়াম দিয়ে গঠিত। এদের নিউক্লিয়াস সুগঠিত। কোষপ্রাচীর কাইটিন বস্তু দিয়ে গঠিত। এদের খাদ্য গ্রহণ শোষণ পদ্ধতিতে ঘটে। ক্লোরোপ্লাস্ট অনুপস্থিত। ক্লোরোফিল না থাকায় এরা খাদ্য উৎপাদন করতে পারে না। এরা হ্যাপ্লয়েড স্পোরের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি ঘটায়।
উপরোক্ত রাজ্য দুটির বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, প্লানটি রাজ্যের বৈশিষ্ট্যগুলো উন্নত জীবদের বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। অন্যদিকে, ফানজাই রাজ্যের সদস্যদের বৈশিষ্ট্যে উন্নত জীবদের কোনো বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয় নি। তাই বলা যায়, প্লানটি (পাট গাছ) রাজ্য ফানজাই (ছত্রাক) রাজ্য থেকে উন্নত।
