জীববিজ্ঞানের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের জীবের শ্রেণিবিন্যাস পড়াতে গিয়ে অ্যামিবা ও রুইমাছ এর রাজ্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করলেন।
সাধারণত একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুটি অংশ বা পদ নিয়ে গঠিত হয়। এরূপ দুটি পদ নিয়ে গঠিত নামই হলো দ্বিপদ নাম।
শ্রেণিবিন্যাসের মাধ্যমে একটি জীবের গঠন, জনন, বাসস্থান, খাদ্য গ্রহণ, উৎপত্তি, বিবর্তন ইত্যাদি সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাওয়া যায়। তাছাড়া একই ধরনের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন একটি জীবের মাধ্যমে ঐ প্রজাতির অসংখ্য জীব সম্পর্কে প্রায় পরিপূর্ণ সাধারণ ধারণা পাওয়া যায়। ফলে জীবজগতে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রজাতি সম্পর্কে সহজে ও অনায়াসে জানা যায়। তাই জীবের জন্য শ্রেণিবিন্যাসের প্রয়োজন।
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রথম প্রাণীটি হলো অ্যামিবা (Amoeba), যা সুপার কিংডম-২ এর অন্তর্গত প্রোটিস্টা রাজ্যের সদস্য। নিচে প্রোটিস্টা রাজ্যের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হলো-
১. এরা এককোষী বা বহুকোষী একক বা কলোনিয়াল (দলবদ্ধ) বা ফিলামেন্টাস এবং সুগঠিত নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট।
২. কোষে ক্রোমাটিন বস্তু নিউক্লিয়ার পর্দা দ্বারা পরিবৃত্ত থাকে। ক্রোমাটিন বস্তুতে DNA, RNA এবং প্রোটিন থাকে।
৩. কোষে সকল ধরনের অঙ্গাণু থাকে।
৪. খাদ্যগ্রহণ শোষণ, গ্রহণ'বা ফটোসিনথেটিক পদ্ধতিতে ঘটে।
৫. মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে অযৌন প্রজনন ঘটে এবং কনজুগেশনের মাধ্যমে অর্থাৎ জৈবনিকভাবে ভিন্ন কিন্তু গঠনগতভাবে এক, এরূপ দুটি গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে যৌন প্রজনন ঘটে।
৬. কোনো ভ্রুণ গঠিত হয় না।
উদ্দীপকে উল্লেখিত জীব দুটি হলো যথাক্রমে অ্যামিবা ও রুই মাছ। এরা একই সুপার কিংডমের প্রাণী হওয়া সত্ত্বেও দুটি ভিন্ন রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। নিচে যুক্তিসহকারে বিশ্লেষণ করা হলো-
অ্যামিবা সুপার কিংডম-২ প্রোটিস্টা রাজ্যের অন্তর্গত। এরা এককোষী এবং সুগঠিত নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট। কোষে ক্রোমাটিন তন্তু নিউক্লিয়াস পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে। ক্রোমাটিন বস্তুতে DNA, RNA এবং প্রোটিন থাকে। খাদ্য গ্রহণ শোষণ বা গ্রহণ পদ্ধতিতে ঘটে। মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে অযৌন প্রজনন এবং কনজুগেশনের মাধ্যমে যৌন প্রজনন ঘটে। কিন্তু কোনো ভূণ গঠিত হয় না।
অপরদিকে, রুই মাছ সুপার কিংডম-২ এর অ্যনিমেলিয়া রাজ্যের অন্তর্গত। এরা নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট ও বহুকোষী প্রাণী। এদের কোষে কোনো জড় কোষপ্রাচীর, প্লাস্টিড ও কোষগহ্বর নেই। এরা হেটারোট্রোফিক অর্থাৎ পরভোজী এবং খাদ্য গলাধঃকরণ করে। এরা প্রধানত যৌন জননের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে। ভূণের বিকাশকালীন সময়ে ভ্রণীয় স্তর সৃষ্টি হয়।
উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যের পর্যবেক্ষণে রোঝা যায় যে, জীব দুটি (অ্যামিবা ও রুই মাছ) একই সুপার কিংডমের প্রাণী হওয়া সত্ত্বেও তাদের মধ্যে অনেক বৈসাদৃশ্য রয়েছে। এ কারণে এরা ভিন্ন রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত।
