জৈবনিকভাবে ভিন্ন কিন্তু গঠনগতভাবে এক এরূপ দুটি গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে যে যৌন প্রজনন ঘটে তাই কনজুগেশন।
জীববিজ্ঞানের কীটতত্ত্ব শাখায় কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি আলোচনা করা হয়। যেহেতু কীটতত্ত্বে তত্ত্বীয় বিষয় আলোচনা না করে কীটপতঙ্গ সম্পর্কিত প্রায়োগিক বিষয় আলোচনা করা হয়, তাই কীটতত্ত্বকে জীববিজ্ঞানের ফলিত শাখার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
উদ্দীপকের চিত্র P হলো মাশরুম। যা ফানজাই রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। নিচে এর কারণ ব্যাখ্যা করা হলো-
১. মাশরুম অধিকাংশই স্থলজ, মৃতজীবী বা পরজীবী।
২. এদের দেহ এককোষী অথবা মাইসেলিয়াম দিয়ে গঠিত।
৩. এদের নিউক্লিয়াস সুগঠিত।
৪. কোষপ্রাচীর কাইটিন বস্তু দিয়ে গঠিত।
৫. খাদ্যগ্রহণ শোষণ পদ্ধতিতে ঘটে।
৬. ক্লোরোপ্লাস্ট অনুপস্থিত।
৭. হ্যাপ্লয়েড স্পোর দিয়ে বংশবৃদ্ধি ঘটে।
৮. মিয়োসিসের মাধ্যমে কোষ বিভাজন ঘটে।
উপরের বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে P তথা মাশরুমকে মারগুলিসের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী ইউক্যারিওটা সুপার কিংডমের ফানজাই রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা যায়।
জীবের শ্রেণিবিন্যাসে বৈশিষ্ট্যগত ভিন্নতার কারণে একেকটি জীব একেকটি দলে অবস্থান করে। চিত্র-Q এর সবুজ উদ্ভিদ প্লানটি এবং চিত্র-R এর অ্যামিবা প্রোটিস্টা রাজ্যে অবস্থিত। প্রোটিস্টা অপেক্ষা প্লানটি-এর জীবগুলো উন্নত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হওয়ায় অ্যামিবা অপেক্ষা সবুজ উদ্ভিদ অধিক উন্নত। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো :
সবুজ উদ্ভিদ (চিত্র-Q) এর বৈশিষ্ট্য হলো:
i. এরা প্রকৃত নিউক্লিয়াসযুক্ত বহুকোষী সালোকসংশ্লেষণকারী উদ্ভিদ।
ii. উন্নত টিস্যুতন্ত্র বিদ্যমান।
iii. এদের ভ্রুণ সৃষ্টি হয় এবং তা থেকে ডিপ্লয়েড পর্যায় শুরু হয়।
iv. এদের যৌন জনন অ্যানাইসোগ্যামাস ধরনের।
V. এরা আর্কিগোনিয়েট ও পুষ্পক উদ্ভিদ।
অ্যামিবা (চিত্র-R) এর বৈশিষ্ট্য হলো:
i. এরা এককোষী।
ii. সুগঠিত নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট কোষ।
iii. খাদ্যের গ্রহণ ঘটে।
iv. অযৌন প্রজনন ঘটে এবং কোনো ভূণ গঠিত হয় না।
অতএব উপরিউক্ত বৈশিষ্ট্যাবলি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, গঠন, কোষের সংখ্যা, পুষ্টির প্রকৃতি, জনন প্রভৃতি দিক থেকে অ্যামিবা অপেক্ষা সবুজ উদ্ভিদ অধিক উন্নত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। তাই বলা যায়, অ্যামিবার চেয়ে সবুজ উদ্ভিদটি অধিক উন্নত।
